Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Monday, 27 Jul 2026 01:31
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষত বৃহৎ উদীয়মান বাজারগুলোয় খাদ্যমূল্য ধারণার চেয়ে দ্রুত বাড়ছে। ফলে টানা কয়েক মাস চাপা থাকার পর খাদ্যমূল্যের এ ঊর্ধ্বগতি অঞ্চলগুলোর জন্য একটি সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতি ঝুঁকি তৈরি করছে। খবর ব্লুমবার্গ।

সম্প্রতি এশিয়ার দুটি বৃহৎ উন্নয়নশীল অর্থনীতির প্রধান খাদ্যদ্রব্যের—চীনে শূকরের মাংস ও ভারতে পেঁয়াজের মূল্য ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এ দুটি খাদ্যদ্রব্যই দেশ দুটির জনগোষ্ঠীর খাবারের তালিকায় উপরের দিকে রয়েছে। এর বাইরে তুরস্ক ও আফ্রিকান দেশ নাইজেরিয়ায়ও সরবরাহ সংকটের কারণে খাদ্যমূল্য ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০১৯ সালের অক্টোবরে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য দুই বছরের বেশি সময়ের মধ্যে দ্রুততম গতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাদ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় অঞ্চলগুলোর দরিদ্র ভোক্তাদের দুর্ভোগ আরো বাড়লেও, খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনো এমন স্তরে পৌঁছেনি যাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো মুদ্রানীতি শিথিলের লাগাম টানার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বিশেষ করে বৈশ্বিক মন্দা পরিস্থিতির মধ্যে যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করার দিকেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মূল মনোযোগ বহাল রয়েছে।

ব্লুমবার্গের ভোক্তামূল্য সূচকের বিশ্লেষণ অনুসারে, উদীয়মান বাজারজুড়ে গড় মূল্যস্ফীতি এখনো যেকোনো সময়ের তুলনায় নিম্নে রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের ডিবিএস ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান অর্থনীতিবিদ তৈমুর বেগ বলেন, তারা সম্ভবত খাদ্য মূল্যস্ফীতিকে মুষ্টিমেয় কিছু পণ্যের সমষ্টি ও স্বকীয় বৈশিষ্ট্য চালিত বলে মনে করে। ফলে মুদ্রা ও আর্থিক নীতি শিথিলের প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর পক্ষপাতিত্ব ২০২০ সাল পর্যন্ত বহাল থাকবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।

পরিস্থিতির ব্যাখ্যা যেভাবেই করা হোক না কেন, মূল্যবৃদ্ধির বাস্তব ঝুঁকি রয়েছে।

সম্প্রতি জাপানের নমুরা হোল্ডিংসের অর্থনীতিবিদরা উচ্চ খাদ্যমূল্যের সম্ভাব্য তিনটি কারণ সম্পর্কে সতর্ক করেছেন— আবহাওয়া-সংশ্লিষ্ট ধাক্কা, তেলের উচ্চমূল্য ও ডলারের তীব্র অবমূল্যায়ন। অর্থনীতিবিদরা জানিয়েছেন, খাদ্যের দাম অঞ্চলগুলোর ভোক্তা আয়ের একটি বৃহৎ অংশ হওয়ায় উদীয়মান ও অগ্রসর বাজারগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

নমুরার জাপান বাদে ভারত ও এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ সোনাল ভার্মা বলেন, এখন দেখার বিষয় হলো এই বৃদ্ধি ভোক্তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশা পূরণ করবে কিনা। এমন কিছু মজুরিও মূল্যস্ফীতিকে চাঙ্গা করবে। দুর্বল প্রবৃদ্ধির মধ্যে সরবরাহনির্ভর উচ্চখাদ্য মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য নীতি নিয়ে বড় ধরনের উভয় সংকট তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন হলো, কেন্দ্রীয় ব্যাংক এটিকে টেকসই নাকি সাময়িক বলে ধরে নেবে।

সোয়াইন ফ্লুর সংক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য ব্যাপক পরিমাণ শূকর হত্যা করার পর চলতি বছরের অক্টোবরে চীনে শূকরের মাংসের মূল্য বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। যার ফলে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ২০১২ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ।

সম্প্রতি মাংসের মূল্য কিছুটা নেমে এলেও জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৫-৬ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

চীনের এ মূল্যস্ফীতি চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ ও দুর্বল স্থানীয় চাহিদার মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থনীতি শক্তিশালী করা ও নীতি শিথিলের প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

ভারতের ক্ষেত্রে অক্টোবরে সবজির দাম বছরওয়ারি ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৫ মাসের মধ্যে প্রথমবার দেশটির মূল্যস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার নির্ধারিত ৪ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। ফলে মন্থর প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি শিথিলের পরিকল্পনা সংকটে পড়ে গেছে।

তুরস্কে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়তে দেখা গেছে এবং বছরের অধিকাংশ সময়ই তা ১৫ শতাংশের উপরে বহাল ছিল। গত বছরের শেষ দিকে তুরস্কের মুদ্রা সংকট ও প্রাকৃতিক সেচের ওপর অধিক নির্ভরশীলতা এ মূল্যস্ফীতির অন্যতম কারণ।

পরিস্থিতি সামাল দিতে তুরস্ক সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনে শহরহুলোতে বিক্রির পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

খরার কারণে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের অধিকাংশ দেশে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে। ভুট্টা উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় জাম্বিয়ার খাদ্যমূল্য প্রবৃদ্ধি তিন বছরে সর্বোচ্চে দাঁড়িয়েছে। একই দিকে সরবরাহ সংকটের কারণে জিম্বাবুয়ের মাসিক খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে।

নাইজেরিয়ায় আগস্টে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ বুহারি খাদ্য পাচার রোধে সীমান্ত বন্ধের নির্দেশ দেয়ার পর আমদানীকৃত চালের দাম ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।

( এসআর / ৩০ নভেম্বর ২০১৯)