Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়
Tuesday, 28 Jul 2026 04:04
Biniyougbarta | বিনিয়োগবার্তা: ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-বিনিয়োগের খবর প্রতিদিন সবসময়

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা : বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) অন্যতম কাজ নিজ সদস্যদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তি। আর কোনো বিবাদের চূড়ান্ত রায় দেন সংস্থাটি আপিল আদালত। কিন্তু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে আদালতটি নিজ কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছেন। এমনকি এটি বন্ধ হওয়ার জোর সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসি।

ডব্লিউটিওর আইন অনুসারে, প্রতিটি কেস বা মামলা আপিল বিভাগের তিনজন বিচারক শুনবেন। কিন্তু ১০ ডিসেম্বর থেকে বিচারকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। বর্তমানের তিন বিচারকের মধ্যে দুজনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত ঠিক হয়নি তাদের জায়গায় কারা আসবেন। এমনকি দুই বিচারক খোঁজার কার্যক্রমও শুরু হয়নি। এর পেছনের কারণ নতুন বিচারক নিয়োগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্বীকৃতি।

ডব্লিউটিওর অন্য্য সদস্য দেশগুলো বারবার নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলে আসছে। নভেম্বরের শেষ দিকে একশর বেশি সদস্য দেশ বিচারক খোঁজার কাজ শুরুর পক্ষে মত দিয়েছিল। একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই ভেটো দিয়েছিল। এ দেশটি বিচারক নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে বাগড়া দিয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিরোধ নিষ্পত্তি ডব্লিউটিওর অন্যতম প্রধান কাজে পরিণত হয়েছে। সংস্থাটির সাবেক মহাপরিচালক প্যাসকেল ল্যামি এ ব্যবস্থাকে ডব্লিউটিওর মুকুটের রত্ন বলে আখ্যায়িত করেছেন।

এ ব্যবস্থা নিয়ে বলা হচ্ছে, ‘এটি সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা’। কিন্তু এখন এটি লাটে ওঠার জোগার। হয়তো এ আপিল বিভাগের অনুপস্থিতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প কিছু পথ থাকতে পারে দেশগুলোর হাতে, কিন্তু সেগুলো এর সমকক্ষ নয় এবং অনেক দেশই সেগুলো মানে না।

তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার পেছনের কারণ কী? সম্ভবত দেশটির সবচেয়ে বড় অভিযোগ, ডব্লিউটিওর বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা ‘একটি বিচারিক চালাকি’, কেননা এটি সংস্থাটির আইন এমনভাবে ব্যাখ্যা করে, যা সদস্য দেশগুলোর জন্য নতুন বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।

ডাম্পিং-সংক্রান্ত বিষয়ে আপিল বিভাগের ভাষ্য ওয়াশিংটনকে বিশেষ করে ক্ষুব্ধ করেছে। ডাম্পিং বলতে বোঝায়, যখন একটি বিদেশী সরবরাহকারী কোম্পানি স্থানীয় মূল্যের চেয়ে কম দামে বিদেশে পণ্য বিক্রি করে। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যরা একটি বিতর্কিত পদ্ধতি ব্যবহার করে কোন পণ্যগুলো ডাম্পিংয়ের আওতায় পড়বে এবং এর দাম কতটা কম হবে তা নির্ধারণ করে। এটি ‘জিরোয়িং’ নামে পরিচিত। যদিও এটি ডব্লিউটিওর নিয়মবহির্ভূত নয়, তবে আপিল বিভাগ এটিকে ব্যবসায়িক উদ্দীপনাবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছে।

এছাড়া এ বিভাগের বেশকিছু পদ্ধতিগত সমস্যা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যেমন যতটা তাড়াতাড়ি দেয়ার কথা, ততটা দ্রুত আপিল বিভাগ রায় দেন না এবং নিজেদের মেয়াদ শেষ হলেও যে মামলাগুলো শুরু করেছিলেন বিচারকরা, সেগুলোর শুনানি চালিয়ে যান।

সম্প্রতি ডব্লিউটিওর বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদের এক বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে মার্কিন প্রশাসন আপিল বিভাগের অতিরঞ্জিত কাজ ও সদস্য দেশগুলোর বানানো আইন অবজ্ঞা নিয়ে গুরুতরভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।

এটা ঠিক, আপিল বিভাগের বিচারক নিয়োগ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের অসহযোগিতা এবারই প্রথম নয়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় এক দক্ষিণ কোরীয় বিচারককে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়োগ দেয়া নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল দেশটি। অথচ এ বিচারককে নিয়োগ দিয়েছিল আগের মার্কিন প্রশাসন।

অবশ্য এসব ঘটনার আগে নতুন বিচারক নিয়োগ বাধাগ্রস্ত করেনি দেশটি। সমালোচকরা বলছেন, ওই সময় ডব্লিউটিওর আপিল বিভাগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এর কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করেনি।

এটাও সত্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো আরো কিছু দেশ আপিল বিভাগ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তবে তাদের কেউই এ ব্যবস্থা বন্ধ করাকে সঠিক পথ বলে মনে করে না।

আপিল বিভাগ অকার্যকর হয়ে পড়লে তা নিশ্চিতভাবে ডব্লিউটিও এবং এর বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। বিবদমান দেশগুলোর মধ্যে কেউ যদি আপিল করে, তবে প্রথম ধাপের রায় কার্যকর হয় না। আপিল করা হলে চলমান বিবাদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে যায় এবং দেশগুলো প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার অনুমতি পায় না।

তবে এটি ছাড়াও ডব্লিউটিওর অন্যান্য কাজ যেমন উন্নয়শীল দেশগুলোকে বাণিজ্য থেকে সুবিধা গ্রহণের সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করা, সদস্য দেশগুলোর নিয়মনীতি নজরদারি ও মধ্যস্থতা করা, সেগুলো চলবে।

তাই বলা যেতে পারে, আপিল বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলেও ডব্লিউটিও সম্পূর্ণ ভেঙে পড়বে না। তবে এর কার্যক্রম ও কার্যকারিতা বহুলাংশে হ্রাস পাবে।

( এসআর /০৯ ডিসেম্বর ২০১৯)