রায়পুরায় খাল দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের লাল নিশান

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা:  নরসিংদীর রায়পুরার চরসুবুদ্ধি বাজারে পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া শত বছরের পুরনো খালটি দখল করে নিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। শুধু দখলই নয় খালের কালভার্টের সামনে বালু ফেলে কালভার্টের মুখও বন্ধ করে দিয়েছে। খাল ভরাট করে পাকা দালানের দোকান ঘর নির্মাণ করে তা নিজেদের দখলের পায়তারা করছে।

এলাকাবাসী খাল দখল মুক্তসহ খালের উপর নির্মিত দোকান পাট উচ্ছেদ করে খালটি পূনসংস্কার করার দাবী জানিয়েছেন।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের চরসুবুদ্ধি বাজার ঘেষে পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে গেছে শত বছরের পুরানো খালটি। প্রভাবশালীরা দিন দিন খালটি দখল করে দোকানঘর নির্মাণ করছে। অপর দিকে এ খালটি চরসুবু্িদ্ধ ইউনিয়নের বাজারের আশ-পাশের অধিকাংশ এলাকার পানি নিস্কাশন একমাত্র মাধ্যাম।

সম্পতি খালের মাথায় কালভার্টের সামনে হাইরমারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহফুজুল হক বাবলা তার নিজের জায়গা দাবী করে কালভার্টের মাথায় বালু ফেলে ভরাট করে দেয়। ফলে আগামী বর্ষা মৌসুমে পানি নিস্কাশনে ব্যাহত। পানি বন্দি হয়ে পড়বে এলাকার শত শত মানুষ ও ঘরবাড়ী। অপরদিকে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি খালটির বাজারের অংশ দখল করে নির্মাণ করেছেন ৮/১০টি দোকান ঘর। স্থানীয় সচেতন মহল জানান, খালটি দখল মুক্ত করে সংস্কার করা না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে চরসুবুদ্ধি ও হাইরমারা দুটি ইউনিয়নের ফসলি জমি ও কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত খালটি খনন করে আগের স্বরূপে ফিরিয়ে আনার দাবী এলাকাবাসী।

এব্যাপারে চরসুবুদ্ধি খাঁপাড়ার প্রবীন আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন খাঁ বিনিয়োগবার্তাকে জানান, চরসুবুদ্ধি বাজারের ভিতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খাল দিয়ে এলাকার পানি নিস্কাসনের একমাত্র মাধ্যম। প্রভাবশালীরা খাল দখল করে দোকান ঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ব্যবসা চালাচ্ছে। এখন আবার খালের মুখে বালু ফেলে বন্ধ করে দিচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী এর প্রতীকার চাই। এছাড়া আমরা আগেও রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন বরারব অভিযোগ করেছি। এব্যাপারে কয়েকবার বাজারে মিটিংও হয়েছে। রায়পুরা উপজেলা নির্বাহৗ কর্মকর্তা, চরসুবুদ্ধি ও মির্জানগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ সাধারণ মানুষকে নিয়ে খালটি দখল মুক্ত ও খনন করার পরিকল্পনা নিয়ে একটি আলোচনা সভাও করেছে।  কিন্তু এখনও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। বরং এখন খাল দখলের পাশাপাশি খালের মুখও বন্ধ করে দিচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। এব্যাপারে আমরা জেলা প্রশাসনের কাছেও একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। যেহেতু বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে আমরা আশা করি অতি দ্রুত এটি উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে হাইরমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মাহফুজুল হক বাবলা বলেন, খালের মাথায় আমার জমি। বালু ফেলার পর আমি পাইপ দিয়ে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে দিবো। এ ছাড়াও খালটির ব্যাপারে আমিই উপজেলা সমন্বয় সভায় প্রস্তাব পেশ করেছি।

এদিকে এলাকাবাসীর আবেদনের প্রেক্ষিতে রায়পুরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো: মাহমুদুর রহমান খন্দকার গত সোমবার বিকেলে সরেজমিনে চরসুবুদ্ধি এলাকা পরিদর্শন করে লাল নিশান লাগিয়ে খালের সীমানা নির্ধারণ করে দেন। পাশাপাশি খালের উপর নির্মাণকৃত স্থাপনা দুইদিনের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি বিনিয়োগবার্তাকে বলেন,“ খালটিকে দখলমুক্ত করতে আমরা সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছি এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য দুইদিনের সময় দিয়েছি। এর ব্যাপ্তি ঘটলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শফিকুল ইসলাম বলেন, বালি ফেলে কালভার্টের মুখ বন্ধ করার বিষয়টি আমার জানা নেই । তবে খাল থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদেও বিষয়টি অবগত হয়ে তা উচ্ছেদের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

( রাজু /শাহরিয়ার /০৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)