বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি: ১৫ লাশ উদ্ধার, নিখোঁজ অর্ধশতাধিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা:  বঙ্গোপসাগর দিয়ে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে একটি ট্রলার ডুবে গেছে। কোস্ট গার্ড এখন পর্যন্ত ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। এছাড়া ৫০ জনকে জীবীত অবস্থায় উদ্ধার করে তীরে নিয়ে আসেন কয়েকজন জেলে। এছাড়া অর্ধশতাধিক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেন্টমার্টিন দ্বীপের ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া ট্রলারে শতাধিক যাত্রী ছিল এবং তারা সবাই রোহিঙ্গা বলে জানা গেছে। কোস্টগার্ড, সেন্টমার্টিন বোট মালিক সমিতি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করছে।

টেকনাফের ইউএনও মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, কোস্টগার্ড উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকিরা নিখোঁজ। ওই ট্রলারে ১২০ থেকে ১২৫ জনের মতো নারী, পুরুষ ও শিশু ছিল। এরা সবাই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ছিল এবং অবৈধ পথে মালয়েশিয়া যাচ্ছিল বলে ধারণা।

জানা যায়, মঙ্গলবার ভোররাতে রোহিঙ্গা বহনকারী একটি ট্রলার অবৈধভাবে বঙ্গোপসাগর দিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ডুবে যায়। কয়েকজন রোহিঙ্গা সাঁতরে তীরে ওঠার পর বিষয়টি জানা যায়। পরে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালায়। এখন পর্যন্ত ১৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আরো অর্ধশতাধিক নিখোঁজ রয়েছে বলে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গারা জানিয়েছে। এখনো চলছে উদ্ধার তৎপরতা।

কোস্ট গার্ডের সেন্টমার্টিন স্টেশনের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাঈমুল হক জানান, অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে একটি ট্রলার সেন্টমার্টিন দ্বীপ থেকে তিন নটিক্যাল মাইল দূরে ডুবে যায়। খবর পেয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। সকাল থেকে এ পর্যন্ত ১৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। এ সময় ৭০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের সেন্টমার্টিনে নিয়ে আসা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, ট্রলারে শতাধিক যাত্রী ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রলারটি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। যাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে তাদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে।

উদ্ধার করা কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, দালালদের মাধ্যমে তাঁরা রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবির থেকে বের হয়ে মালয়েশিয়া যাচ্ছিলেন।

(এমএ/ এসআর /১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)