বেনাপোলে ২দিন পর আমদানি-রফতানি শুরু
বেনাপোল প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা: যশোরের বেনাপোল সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ সদস্যদের বাণিজ্যিক কাজে ভারতীয় পেট্রাপোল বন্দরে বিএসএফ কর্তৃক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দুইদিন পর পুনরায় শুরু হয়েছে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম।
গত মঙ্গলবার ও বুধবার ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি দুই দিন ওই পথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ ছিল।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বেনাপোল সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধি সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ সদস্যদের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, বুধবার রাত ৮ টার সময় বেনাপোল নো-ম্যান্সল্যান্ডে দুই দেশের প্রতিনিধিদের এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি জানান কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।
সেখানে ভারতীয় বিএসএফ’র কোম্পানী কমান্ডার অনুপ কুমার উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে বেনাপোল বেনাপোল সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীদের সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সজন, বেনাপোল স্থল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মামুন তরফদার, বেনাপোল পোর্ট থানার ও সি মামুন খান, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান, সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক তাজিন আহম্মেদ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, ভারতের পেট্রাপোল চেকপোষ্টে কর্মরত বিএসএফ সদস্যরা তাদের বাধা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দু‘দেশের মধ্যে আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। তবে বিএসএফ তাদের অভিযোগ পুরোপুরি তুলে নেইনি, আগামি ২০ মার্চ পর্যন্ত পূর্বের নিয়ম অনুসারে যাতায়াত করতে দেবে। ২০ মার্চের পর নতুন নিয়মে যাতায়াত করতে হবে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিদের। এ শর্ত বেধে দেওয়ায় দু‘দেশের বন্দর ব্যবহার কারীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি পূর্বের নিয়ম অনুসারে যাতায়াতে বিএসএফ একটি স্থায়ী সমাধান দিক তাহলেই বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি গতিশীল হবে।
ভারতের পেট্রাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট ষ্টাফ ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, বিএসএফের কমান্ডিং অফিসার অনুপ কুমার পেট্রাপোল ও বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন সংগঠন ও কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করে চলে যায়। পরে রাতে তিনি মোবাইল ফোনে আমাদের জানায় আগামি ২০ মার্চ পর্যন্ত পূর্বের নিয়মে কাজ হবে। ২০ মার্চের পর শিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কিভাবে যাতায়াত হবে। বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট ষ্টাফ এসোসিয়েশনের সভাপতি মুজিবর রহমান বলেন, আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় দু‘দেশের বন্দর এলাকায় পণ্যজট শুরু হয়ে যায়। সমস্যা নিরসনের জন্য দু‘দেশের বন্দর ব্যবহারকারী বিভিন্ন সংগঠন, কাস্টম, বন্দর ও প্রশাসনের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেও কোন সমাধান করতে পারেনি।
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিএসএফের পক্ষ থেকে জানান হয় আগামি ২০ মার্চ পর্যন্ত অভিযোগ প্রত্যাহার করা হলো। পরবর্তিতে নতুন নিয়মে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হবে। এখন আমদানি-রফতানি সাভাবিক নিয়মে চলছে। বেনাপোল বন্দরে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্যতা। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই দু‘দেশের মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানি কাজে সিএন্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধিরা দু‘দেশের কাষ্টমসের দেওয়া কার্ড নিয়ে বন্দর এলাকায় যাতায়াত করে আসছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক, মামুন তালুকদার জানান, বিএসএফের বাধার কারনে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিরা ভারত-বাংলাদেশ যাতায়াত করতে পারছিল না। দফায় দফায় বৈঠকের পর বুধবার রাতে বিএসএফ তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করায় আমদানি-রফতানি শুরু হয়েছে। ২০ মার্চ পর্যন্ত পূর্বের নিয়মে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিরা যাতায়াত করতে পারবে।
বেনাপোল বন্দরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) আব্দুল জলিল জানান, ব্যবসায়ীরা যাতে তাদের আটকে থাকা পণ্য দ্রুত খালাস নিতে পারেন, তার জন্য সংশিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
(মনিরুল ইসলাম মনি / শাহরিয়ার /২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০)



