রায়পুরায় মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের স্বামীর বিরুদ্ধে ভূমিদস্যূতার অভিযোগ

নরসিংদী প্রতিনিধি, বিনিয়োগবার্তা:  নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজ তাহমিনার স্বামী মো: মানিক মোল্লার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যূতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি ) রায়পুরা উপজেলার হাসিমপুর গ্রামের হাজী ইদ্রিস আলী ফকির নামে এক ব্যক্তি নরসিংদী পুলিশ সুপার বরাবর এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগে জানা যায়, রায়পুরা উপজেলার হাসিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আমজাদ আলী ফকিরের পুত্র হাজী ইদ্রিস আলী ফকির পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের পৈতৃক ভিটায় বসবাস করে আসছে। প্রায় বছরখানক আগে রায়পুরা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাজ তাহমিনা মানিকের স্বামী মো: মানিক মোল্লা তাদের পৈতৃক ভিটার সাড়ে ৫ শতাংশ জায়গা তার নিজর বলে দাবী করেন। এই সম্পত্তি ক্রয় সূত্র মালিক হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। মানিক মোল্লা তাদেরকে জানায়, ইদ্রিস আলীর আত্মীয় পরিচয় দানকারী কতিপয় সুমনর কাছ থেকে তিনি ওই সম্পত্তি ক্রয় করেছেন। পরবর্তীত মানিক মোল্লা রায়পুরা ভূমি অফিসে ভুল দাগ নাম্বার দিয়ে ইদ্রিস আলীর বসত ভিটায় তার ক্রয়কত সম্পত্তি দখল পেতে আবদন করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে রায়পুরা ভূমি অফিস উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সাথে নিয়ে শুনানীতে উপস্থিত থাকার জন্য চিঠি পাঠায়। শুনানীতে মানিক মোল্লার আবেদনে এবং কাগজপত্রে দাগ নাম্বার ভুল থাকায় ভূমি অফিস তার আবেদন খারিজ করে দেন।

এরপর মানিক মোল্লা ক্ষিপ্ত হয় উঠে বিভিন্ন লোক মারফত ইদ্রিস আলী ফকিরকে মামলা-হামলা ও প্রাণনাশ হুমকি প্রদান করতে থাকে। এতেও ব্যর্থ হয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার ভোরে মানিক মোল্লা তার সন্ত্রাসী বাহিনী সাথে নিয়ে অবৈধ ভাবে দখলের উদ্দেশ্যে ইদ্রিস আলীর বাড়ীতে উপস্থিত হন। এসময় তারা একটি সাইন বোর্ড তাদের বসত ভিটায় বাঁশের খুটির সাহায্য লাগিয়ে দেয়। যাতে পূর্বে দাগ নাম্বার না দিয়ে নতুন দাগ নাম্বার ব্যবহার করা হয়। সাইন বোর্ড লাগালোর সময় বাড়ীতে থাকা মহিলারা বাধা দিলে মানিক মোল্লার সন্ত্রাসী বাহিনী তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেয় এবং বিভিন্ন হুমকি-দমকি দিতে থাকে। এতে মহিলারা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে।

পরবর্তীতে সাইন বোর্ডটি বাড়ীর লোকজন উপড়ে ফেলে দেয়। এর কিছু সময় পড়ে রায়পুরা থানার কয়কজন পুলিশ সদস্য সেখান উপস্থিত হয় এবং ইদ্রিস আলীকে থানায় হাজির হতে বলে।

অভিযোগে মানিক মোল্লাকে রায়পুরা উপজেলার একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যূ বলে উল্লেখ করা হয় । ভূমিদস্যূতা কাজের সহায়তার কারণে তার রয়েছে বি‎শাল সন্ত্রাসী বাহিনী। খোঁজ নিলে রায়পুরায় তার ভূমিদস্যূতার প্রমাণ মিলবে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
ইদ্রিস আলী ফকির নরসিংদী পুলিশ সুপারের কাছে হুমকি-দমকি থেকে রেহাই পেতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে জন্য অনুরোধ জানান।
অভিযোগকারী ইদ্রিস আলী ফকির জানান, তার মৃত ভাইয়ের সন্তান পরিচয় দানকারী সুমন নামে এক প্রতারকের যোগ সাজসে মানিক মোল্লা ওই সম্পত্তি তার বলে দাবী করছে। তিনি জানান, প্রতারক সুমন তার ভাইয়ের সন্তান দাবী করেন অথচ কিভাবে সে সেই পরিচয় দেন তার কোন প্রমান তাদেরকে দিতে পারেনা। অথচ সে অধৈধভাবে এনআইডিসহ বিভিন্ন কাগজপত্রে তাদের বাড়ী ঠিকানা ব্যবহার করছে। তিনি আরো জানান, মানিক মোল্লা প্রথমে সাড়ে ৫ শতাংশ সম্পত্তি তার দাবী করলেও এখন সে সাড়ে ৬ শতাংশ বলে দাবী করছেন।

এ ব্যাপারে মানিক মোল্লার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, এ বিষয়ে তিনি রায়পুরায় সাংবাদিক সম্মেলন করবেন। সম্মেলনে তিনি ওই সম্পত্তির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে তার মালিকানা নিশ্চিত করবেন বলে জানান।

( শাহাদাৎ হোসেন রাজু / শাহরিয়ার /১লা মার্চ, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)