বন্দরে লোড-আনলোড চালু রাখতে সাইফ পাওয়ারটেকের বিশেষ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: মহামারী হিসেবে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে সারাদেশ ‘লকডাউন’ হলেও আপদকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো চালু রাখা হয়েছে। আর কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণাদি সরবরাহ করে বন্দরে কনটেইনার লোড-আনলোড স্বাভাবিক রাখছে এ কাজে নিয়োজিত বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড।

জানা গেছে, আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনালে (সিসিটি) কনটেইনার লোড-আনলোড স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ উদ্যোগে সচল রেখেছে সাইফ পাওয়ারটেক।

সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন জানান, বন্দর চালু রাখতে কর্মীদের উত্তম স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তাদের প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধমূলক কর্মসূচিতে বর্তমানে গণপরিবহন বন্ধ রয়েছে। যে কারণে এনসিটি ও সিসিটির কর্মীদের নগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আনা-নেয়া করতে ৩টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়। একটি বাস চট্টগ্রামের কাঠগড়, একটি বহদ্দারহাট এবং অপরটি অলংকার থেকে শ্রমিকদের আনা-নেওয়া করছে।’

সাইফ পাওয়ারটেকের এমডি জানান, কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার, মাস্ক ও প্রয়োজনীয় উপকরণাদি সরবরাহ করেছি। আমাদের নিজস্ব চিকিৎসক সবার শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা করে ইয়ার্ডে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম শ্রমিকদের পরামর্শ ও স্বাস্থ্য নিরাপত্তা দিচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের জন্য খাদ্য সরবরাহ, শ্রমিকদের প্রণোদনাসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এর ফলে আমাদের অধীন টার্মিনালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন অপারেশন চলছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমদানি-রফতানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে আমি নিজেই চট্টগ্রাম বন্দরে আমাদের পুরো কার্যক্রম মনিটরিং করছি। আমাদের অধীন টার্মিনালগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন অপারেশন চলছে।’

উল্লেখ্য, দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ আসে পোশাক খাত থেকে। মোট রপ্তানির ৫৩ শতাংশ আসে ইউরোপের জোটভুক্ত দেশ থেকে। অন্যদিকে একক দেশ হিসেবে ৪১ শতাংশ আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। বাকিটা অন্যসব দেশ থেকে। বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় করোনার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি। যে কারণে রপ্তানি আয়ের প্রধান খাত পোশাক শিল্প হুমকির মুখে।

এদিকে ভয়াবহ করোনা ভাইরাসের জেরে দেশের কারখানাগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। কিন্তু আপদকালিন পোশাকের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বর্তমানে পোশাক খাতে ওভেন ও নিট মিলে মোট ২ হাজার ৭৮০ কারখানা চালু রয়েছে। এর মধ্যে ওভেন ২ হাজার ৮০টি এবং নিট ৭০০টি।

এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্য আমদানী-রপ্তানী সহায়তা ও আগামীতে বড় ধরনের সংকট মোকাবিলা তথা দেশের সংকটময় পরিস্থিতি কাটাতে ও আমদানী-রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য দেশের সমূদ্রবন্দরগুলোকে চালু রাখা হয়েছে বলে জানান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার মো. রুহুল আমিন।

(রনক/শামীম/৩০ মার্চ ২০২০)


Comment As:

Comment (0)