মজুরি পায়নি বেশিরভাগ পোশাক কারখানার শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেই বকেয়া মজুরির দাবিতে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের অন্তত ১৪টি পোশাক ও বস্ত্র কারখানার শ্রমিকেরা আজ রোববার বিক্ষোভ করেছেন। এর বাইরেও অনেক কারখানা এখনো শ্রমিকের মজুরি পরিশোধ করতে পারেনি।

শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, গাজীপুরের শোভা স্পিনিং, যমুনা নিট, দুরন্ত কম্পোজিট, ফ্লোরেট ফ্যাশন ও এসকো ফ্যাশন, সাভার-আশুলিয়ার পেন্টা ফোর্থ অ্যাপারেল, কেআরএল লিমিটেড, কোহিনূর প্রিন্ট, প্রাইম প্রিন্ট, পলমল গ্রুপ, এসজি অ্যাপারেল এবং নারায়ণগঞ্জের ডিডিএল অ্যাপারেলের শ্রমিকেরা মজুরির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন।

এ ছাড়া নরসিংদীর মাধবদীর জজ ভূঞা গ্রুপের জেএস লিংক নামের পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা তিন মাসের বকেয়া মজুরির দাবিতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি ও খাম্বা ফেলে বিক্ষোভ করেন। ঢাকার মোহাম্মদপুরের রাজধানী অ্যাপারেল নামের একটি কারখানার শ্রমিকেরা মজুরির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন। পরে ২৩ এপ্রিল মজুরি দেওয়ার আশ্বাস দিলে শ্রমিকেরা অবরোধ তুলে নেন বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, তাদের সদস্য কারখানা ৪ হাজার ৬২১টি। এর মধ্যে সরাসরি রপ্তানি করে ২ হাজার ২৭৪টি। রোববার পর্যন্ত ২ হাজার ৯৩টি কারখানা মজুরি পরিশোধ করেছে। আর ১৮১ কারখানার মজুরি পরিশোধের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। তাতে ৯২ শতাংশ কারখানা ইতিমধ্যে শ্রমিকের মজুরি দিয়েছে। সরাসরি রপ্তানিকারক কারখানার ৯৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ শ্রমিক মজুরি পেয়েছেন।

সরাসরি রপ্তানি করে না, বিজিএমইএর এমন সদস্য কারখানা ২ হাজার ৩৪৭টি। সংগঠনটি বলেছে, কারখানাগুলো রপ্তানিকারকদের কাছ থেকে ইন্টার বন্ডের মাধ্যমে সাবকন্ট্রাকটিং বা ঠিকায় কাজ করে। রপ্তানিকারক যখন নিজের কারখানায় মজুরি পরিশোধ করে, তখন সাবকন্ট্রাকটিং প্রতিষ্ঠানেও কোনো সমস্যা হয় না।

নিট পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ দাবি করেছে, তাদের সদস্যভুক্ত ১৪টি কারখানা এখন পর্যন্ত মজুরি দিতে পারেনি। তবে প্রতি মাসেই কিছু কারখানার মজুরি পরিশোধে বিলম্ব হয়। সংগঠনের সচল কারখানা ৮৩৩টি।

প্রতি মাসের সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ববর্তী মাসের মজুরি পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ করোনার কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ১৬ এপ্রিলের মধ্যে মজুরি দিতে কারখানার মালিকদের নির্দেশনা দেয়। তবে সেটি রক্ষা করতে পারেনি অনেক পোশাক কারখানার মালিক।

শিল্প–কারখানার মজুরি পরিশোধের তথ্য-উপাত্ত প্রতিদিনই সংগ্রহ করে শিল্প পুলিশ। তাদের হিসাব অনুযায়ী, সাভার আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ ও খুলনায় শিল্পকারখানা রয়েছে ৭ হাজার ৬৩৫টি। এর মধ্যে রোববার পর্যন্ত মজুরি পরিশোধ করেছে ৬ হাজার ২৭৩টি শিল্পকারখানা।

শিল্প পুলিশের সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন বলেন, সাভার-আশুলিয়া, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, ময়মনসিংহ ও খুলনায় বিজিএমইএর সদস্য ১ হাজার ৯১৫ কারখানার মধ্যে রোববার পর্যন্ত ৩১১টি মজুরি দেয়নি। একই এলাকার বিকেএমইএর সদস্য ১ হাজার ১০১ কারখানার মধ্যে ১৩৯টি মজুরি পরিশোধ করেনি। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সদস্য ৩৮৯ কারখানার মধ্যে মজুরি দেয়নি ৪৪টি।

জানতে চাইলে জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে অনেক কারখানার মালিক এখনো মজুরি না দেওয়ায় প্রতিদিনই বাসা থেকে বের হচ্ছেন শ্রমিকেরা। তাঁদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলার জন্য সরকারের উচিত সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া।

(এএইচএন/ ২০ এপ্রিল, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)