ব্যয় সংকোচনে তিন শিল্প এলাকায় সাড়ে ৮ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা:গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় গত ১০ এপ্রিল একদিনেই কাজ হারান ৪০৬ জন শ্রমিক। বিজিএমইএর সদস্য কারখানাটি জার্সিসহ নানা ধরনের স্পোর্টসওয়্যার তৈরি ও রফতানি করে। এর আগে ৭ এপ্রিল গাজীপুরেরই আরেকটি পোশাক কারখানায় কাজ হারিয়েছেন ১৭০ জন শ্রমিক।

শুধু গাজীপুর নয়, গত ২৬ মার্চ সাধারণ ছুটি শুরুর পর থেকেই পোশাকসহ দেশের সব শিল্প এলাকার কারখানাগুলোতেই কম-বেশি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা চলছিল। এ ধারাবাহিকতায় কারখানা মালিকরা এখন পর্যন্ত সাড়ে আট হাজারেরও বেশি শ্রমিক ছাঁটাই করেছেন।

শ্রম ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন মন্দা মোকাবেলায় শিল্প-কারখানাগুলো ব্যয় সংকোচন পরিকল্পনা নিয়েছে। এ কারণে ধীরে ধীরে বাড়ছে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা। নভেল করোনাভাইরাসজনিত সংকটে শ্রমিক ছাঁটাই না করার বিষয়ে সরকারের দিকনির্দেশনা থাকলেও ছাঁটাই আট হাজার ছাড়িয়েছে। আইন অনুসরণ করে ‘রিট্রেঞ্চমেন্ট’ বা ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে ব্যয় সংকোচনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন মালিকরাও।

দেশের শিল্প এলাকাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে আশুলিয়া ও গাজীপুরে। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা, ময়মনসিংহে কোনো ছাঁটাইয়ের তথ্য না থাকলেও ৫০০ শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা আছে নারায়ণগঞ্জে। আশুলিয়ায় মোট ৪৮টি কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে পোশাক শিল্প মালিক সংগঠন বিজিএমইএ সদস্য কারখানা ৩৮টি, বিকেএমইএ সদস্য কারখানা পাঁচটি। অন্যান্য খাতের কারখানা পাঁচটি। সব মিলিয়ে ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা ৬ হাজার ৪৩০।

গাজীপুর এলাকার ১০টি কারখানা শ্রমিক ছাঁটাই করেছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্য কারখানা সাতটি ও অন্যান্য খাতের কারখানা তিনটি। এসব কারখানায় ছাঁটাইকৃত শ্রমিকের সংখ্যা মোট ১ হাজার ৬২৩। নারায়ণগঞ্জ এলাকায় মোট সাতটি কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বিজিএমইএ সদস্য কারখানা একটি ও বিকেএমইএ সদস্য কারখানা চারটি। এছাড়া রফতানি প্রক্রিয়াকরণ কর্তৃপক্ষের আওতাধীন ও অন্যান্য খাতের দুটি কারখানায় শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ এলাকায় শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছেন ৫০০ জন।

এদিকে খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনের অনুরোধের পাশাপাশি করোনা প্রাদুর্ভাবকালে শ্রমিক ছাঁটাই না করার বিষয়ে নির্দেশনা আছে সরকারেরও। সর্বশেষ নির্দেশনা দেয়া হয়েছে গতকাল। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওই নির্দেশনায় বলা হয়, ৪ মে প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের আগে মালিকপক্ষ কোনো শ্রমিক ছাঁটাই বা লে-অফ ঘোষণা করবেন না। এছাড়া সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ হারে শ্রমিকের মজুরি পরিশোধের মাধ্যমে সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছে শ্রম মন্ত্রণালয়।

কিন্তু শ্রমিক ছাঁটাই না করতে সরকারের নির্দেশনা যেমন পরিপালন হয়নি, তেমনি সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৬৫ শতাংশ হারে মজুরি পরিশোধকালে অনেক কারখানার শ্রমিক তা মানছেন না বলেও শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ৯ মে আশুলিয়া ও গাজীপুরে মোট ৩৫টি কারখানায় শতভাগ মজুরির দাবিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শ্রমিকরা। গতকালও গাজীপুর, আশুলিয়া ও চট্টগ্রাম এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেছে, যার অধিকাংশই হয়েছে শতভাগ মজুরির দাবিতে।

(এএইচএন/১১ মে, ২০২০)


Comment As:

Comment (0)