পালং খালের প্রবাহ সচলের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, শরীয়তপুর: শরীয়তপুর জেলার পালং উপজেলার পালং খালের প্রবাহ সচলের দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ (৯৬ ফাউন্ডেশন) নামক একটি সামাজিক সংগঠন।

শনিবার (০৪ জুলাই) নিজ উদ্যোগে মাটি কেটে পালং খালের প্রবাহ সচল করার উদ্যোগ নেয় সংগঠনটির সদস্যরা।

উদ্যোক্তারা জানান, নদীমাতৃক বাংলার প্রমত্ত পদ্মা নদী অববাহিকার কীর্তিনাশার পাড়ে গড়ে উঠা শরীয়তপুর জেলা নদী-প্রকৃতি ও এর গতিধারার হাজারো ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছে। এটি মূলত কীর্তিনাশার একটি শাখা খাল (পালং খাল), যাহা হাজরাসার নামক স্থান থেকে শুরু হয়ে পালং এর রাজগঞ্জ ব্রীজের নিচ দিয়ে তুলাসার বিল দিয়ে ডাকবাংলার পাশ দিয়ে শহরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে পাকারমাথায় গিয়ে একটি শাখা বুড়িরহাট দিয়ে জয়ন্তী নদী হয়ে মেঘনায় মিশেছে। আর অন্যটি মনোহার বাজার মোড় হয়ে আঙ্গারিয়া গিয়ে আবার কীর্তিনাশায় মিশেছে।

তারা বলেন, আমরা যদি ইতিহাসের পৃষ্ঠা উল্টে একটু পেছনের দিয়ে যায় তাহলে দেখা যাবে শরীয়তপুরের সাথে অন্য সকল স্থানের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌ পথ। তবে যতটুকু মনে পরছে অন্য অনেক খালের চেয়ে এটির গুরুত্ব হয়তো একটু বেশী ছিল মনে হয়। কারণ ছোট বেলায় স্কুলের ক্লাসে বসে দেখা তৎকালীন সময়ে নৌ চলাচলের সেই ব্যস্ত পথের চিত্র আজও আমার চোখে ভাসছে। অথচ আমাদের অপরিকল্পিত উন্নয়ন, অসচেতনতার ও দ্বায়িত্ব জ্ঞান হীন আচরনের কারণে সময়ের ব্যবধানে আজ সেখানে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়ে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষন করছে, অন্যদিকে মশা উৎপাদনের ফ্যাক্টরী হিসাবে কাজ করছে। শুধু তাই নয়, তার উপরে স্থানীয় পৌরসভা ফেলছে তার ড্রেনের অপরিশোধিত নোংরা পানি।

বিগত বছর কয়েক যাবৎ এই খালটি সংস্কার ও এর পনির প্রবাহ সচলের দাবীতে কীর্তিনাশা নদী বাঁচাও আন্দোলনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচী গ্রহন করলে জেলা প্রশাসন খালটির অধিকাংশ দখল মুক্ত করেন। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের সাথে জেলা পরিষদ ও একটি বেসরকারী নির্মান প্রতিষ্ঠানের যোগসাজশে এই খালটির বুকের উপরে গড়ে তুলে বিশাল অট্টালিকা, যা ভাঙ্গার সামর্থ কিংবা নৈতিক অধিকার রাখে না স্থানীয় জেলা প্রশাসন।

তবে গতকাল স্থানীয় নাগরিক সমাজ (৯৬ ফাউন্ডেশন) শহরের পরিবেশ সুরক্ষা ও খালের প্রবাহমান সচলের দাবীতে নদী-খালের সংযোগ স্থানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের উদ্যোগ খালের মুখের বাধ কেটে দিয়ে পানির প্রবাহ সচল করে।

একইসঙ্গে এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে সংগঠনটি।

(এনজেডএস/এসএএম/০৫ জুলাই ২০২০)


Comment As:

Comment (0)