করোনায় লোকসানে সিরাজগঞ্জের দুগ্ধ খামারিরা
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক, ঢাকা: করোনার প্রভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন সিরাজগঞ্জের দুগ্ধ খামারিরা। দীর্ঘদিন পর উৎপাদনকারী কারখানাগুলো দুধ সংগ্রহ শুরু করলেও সঠিক দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তাদের। একদিকে উৎপাদিত দুধের দাম কম, অন্যদিকে গো খাদ্যের দাম বাড়ায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার খামারি। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস বলছে, ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা দেয়া হবে।
দেশের সর্ববৃহৎ দুগ্ধ উৎপাদনকারী জেলা সিরাজগঞ্জ। এখানকার শাহজাদপুর উপজেলার রেশম বাড়ির খামারি ৭২ বছরের মাজেদ আলী। তার খামারে ৪০ টি গাভী ছিল। কিন্তু করোনার কারণে দুধের দাম কম আর গো খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। খরচ মেটাতে বাধ্য হয়ে ৪টি গাভী বিক্রি করে দিয়েছেন।
খামারী মাজেদ আলী বলেন, ‘দুধের দাম পাওয়া যায় না। খৈলসহ সব খাবারের দাম অনেক বেশি।’
তার মতো একই অবস্থা জেলার অন্যান্য খামারিদেরও। করোনা ভাইরাসের প্রভাবে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলায় খামারিদের কাছ থেকে দীর্ঘ দিন দুধ সংগ্রহ কার্যক্রম সীমিত করে দেয় দুধ প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। বর্তমানে দুধ সংগ্রহ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হলেও সঠিক দাম পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ খামারিদের।
খামারি বলেন, ‘ব্যাপারী আসে না। করোনার কারণে না আসায় দুধ বেচতে পারছি না।’
ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের সঠিক তালিকা তৈরি করে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে জানালেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আখতারুজ্জামান ভুঁইয়া।
প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, জেলায় মোট গো- খামার রয়েছে ১৩ হাজার যা থেকে প্রতিদিন প্রায় সোয়া ২০ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে।
(এএইচএন/ ১৪ জুলাই, ২০২০)



