রায়পুরার পান্থশালা বিনোদন পার্কে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যাহত
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীর রায়পুরার পান্থশালা বিনোদন পার্কে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যাহত হচ্ছে। পার্কের প্রবেশ মুখে নেই জীবানুনাশক ট্যানেল, হাত ধোয়ার ব্যবস্থা, হ্যান্ড স্যানিটাজারের ব্যবস্থা, কিংবা স্প্রের ব্যবস্থা। ফলে করোনা ঝুকিতে পড়ছে পার্কে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা।
মেঘনা, বক্ষ্রপুত্র ও আঁড়িয়াল খাঁ এই তিনটি নদীর ব-দ্বীপের নাম প্রাচীন যুগে ছিল কালিদহ সাগরের চর। তারপর এর নাম হয় রায়নন্দনপুর। তারও পরে রায়পুরা নামে পরিচিতি হয় এই জনপদ। এই জনপদের পূর্ব পশ্চিম রেখা ধরে এঁকে বেঁকে প্রবাহিত মেঘনার ঠিক পাড় ঘেষেই বিস্তার হওয়া একটি এলাকা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে পান্থশালা। কয়েক বছর আগেও এ স্থানটি ছিল প্রচণ্ড নিরিবিলি। ধুঁ ধুঁ বালুচর! দুর্গমচরাঞ্চলের বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে মেঘনা নদী পারাপারের জন্য একটি ফেরিঘাটও স্থাপন করা হয়। ওই ঘাটের নাম রাজুঘাট। রায়পুরার বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর নাম অনুসারে রাজুঘাট করা হয়। এই ঘাটকে ঘিরেই নিরিবিলি পান্থশালা হয়ে উঠে জনবহুল বন্দরের মতো। দূর থেকে দেখলে পান্থশালাকে ছোট খাটো কোনো বন্দরই মনে হবে। ঘাটের ঠিক পূর্বপাশেই দাঁড়িয়ে আছে রাজু কটেজ। এখানে বিশিষ্ট ব্যক্তি বা নেতা-কর্মীরা বিশ্রাম নেন। পান্থশালার সৌন্দয্য উপভোগ করতে আসা বিনোদন প্রেমিদের কথা রেখে ব্যবসাযীক চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয় দুটি বিনোদন পার্ক। যার একটি পান্থশালা বিনোদন পার্ক।
দেশে করোনাভাইরাসের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় সারাদেশে লকডাউন শুরু হলে সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী গত ২৬ মার্চ থেকে পার্কটি বন্ধ রাখা হয়। দেশের বিনোদন প্রেমিদের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার শর্ত সাপেক্ষে ঈদূল আযহার ছুটিতে দেশের বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিলে পার্ক কর্তৃপক্ষ ঈদের দিন থেকে দর্শনার্থীদের জন্য পার্কটি খুলে দেয়। স্বাস্থ্য বিভাগের শর্তে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিষ্চিত করতে পার্কের প্রবেশমুখে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা সুরক্ষা সামগ্রী সরবরাহ করা। সর্বোপুরি দর্শনার্থীদের মুখে মাস্ক পড়ে পার্কের ভিতর প্রবেশে বাধ্য করার কথা বলা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে পান্থশালা বিনোদন পার্কে গিয়ে ওল্টো চিত্র দেখা যায়, পার্কের প্রবেশমুখে দর্শনার্থীদের জন্য কোন সুরক্ষা সামগ্রী নজরে আসেনি এ প্রতিবেদকের। দর্শনার্থীরা মুখে মাস্ক ছাড়াই গাদাগাদি করে প্রবেশ করছে পার্কে ভিতরে। শুধু তাই নয় ছোট একটি টেবিল নিয়ে পার্কের প্রবেশ মুখে বসা টিকেট বিক্রেতার শরীরে সুরক্ষা সামগ্রীতো নেই এমনকি সে মুখেও কোন মাস্ক ব্যবহার না করে দর্শনার্থীদের কাছে টিকেট বিক্রি করছে এবং অনর্গল কথা বলে যাচ্ছে। এসময় পার্কের ভিতরে জীবানুনাশক স্প্রে হাতে কাউকে দেখে যায়নি।পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্র্থীদের কাছে মাস্ক না পড়ার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, আসলে পার্কে প্রবেশমুখে মাস্ক পড়ার কথা বলা হয়নি। তবে এ প্রতিবেদকের কথায় সাথে থাকা মাস্কটি তৎক্ষনাত অনেকেই মুখে লাগিয়ে নেয়। পরে টিকেট বিক্রেতা ছেলেটিকে তার নাম জিজ্ঞেস করে মাস্ক না পড়ার কারণ জানতে চাইলে সে তার নাম বা মস্ক না পড়ার বিষয়ে কোন কিছু না বলে প্রতিবেদকের দিকে হা করে তাকিয়ে বোকার মত হাসি দিয়েতে থাকে। এসময় তার কাছে পার্ক কর্তৃপক্ষে কেউ আছে কিনা তার কাছে জানতে চাইলে, সে আছে বলে জানায়। তাদের কাউকে ডাকার কথা বললে, সে জানায় কাউকে ডাকা যাবেনা বলে সাফ জানিয়ে দেয়।
পরে জাকির হোসেন নামে পার্কের একজন শেয়ারহোল্ডারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে, তিনি পার্কে সকল ধরনে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবস্থা আছে এবং সেগুলো ব্যবহারও করা হচ্ছে বলে দাবী করেন। প্রতিবেদক প্রমান হিসেবে ভিডিও ক্লিপের কথা উল্লেখ করে টিকেট বিক্রেতার মাস্ক পড়ার কথা জানালে তিনি ওল্টো প্রশ্ন ছুড়ে দেন ‘ওইখানে কে ছিলেন’ বলতে পারেন। মোবাইলে কথা বলার এক পর্যায়ে জাকির হোসেন অনেকটা উত্তেজিত হলে বলে উঠেন, ‘বন্ধ করে দেন পার্কটি, এমনিইতো বন্ধ হয়ে গেছে।’ প্রতিত্তোরে প্রতিবদক বলেন আমি বা আমরা বন্ধ করার কে?
এব্যাপারে রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে, তিনি এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানান, তিনি বলেন প্রায় প্রতিদিনই রায়পুরায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু পার্কের বিষয়টি নজরে আসেনি। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানান।
(এসএইচআর/এসএএম/৮ আগস্ট ২০২০)



