নরসিংদীতে অবৈধভাবে সওজের জমি ও খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মাত্র ৫০০ মিটার দূরেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভাগদী মৌজার দগরিয়া খাল ভরাট করে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন চিনিশপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য (মেম্বার ) মো: মামুন ভুঞা। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় এভাবে বালু দিয়ে দগরিয়া খাল ভরাট করার কারণে চিনিশপুর ইউনিয়নের দগরিয়ার চর, ভাগদী, বাসাইল, চিনিশপুর, শিলমান্দী ও রাজারদী এলাকার পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পার্শ্ববর্তী ৬-৭শ’ বিঘা জমিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি যোগদানের পর থেকেই ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী অংশের ৫৫ কিলোমিটার জায়গাজুড়েই চলছে দখল, বালু ভরাট, স্থাপনা নির্মাণ বাণিজ্য।
১৬ শতাংশ জমির মালিক ইউপি মেম্বার মামুন ভুঞা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার ও নরসিংদীর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রাশেদুল হককে ম্যানেজ করে সওজের প্রায় তিন বিঘা জায়গা (খাল ও জলাধার) অবৈধভাবে দখল করে বালু দিয়ে ভরাট করে নেওয়ায় আশপাশের প্রায় ৭শ’ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি এখানকার ৪-৫টি গ্রামে কৃষিকাজ, শিল্পকারখানা, মৎস্য, সেচ প্রকল্প সবই বন্ধ হয়ে গেছে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাশে সওজের খাল ও জলাশয় ভরাট করে তৈরি করা হচ্ছে স্থাপনা।
সরেজমিন দেখা যায়, চিনিশপুর ভূমি অফিসের অন্তর্গত সিএস (১৮৮৭) ও এসএ (১৯৫৬) জরিপ অনুযায়ী এখানে জলাধার তথা খাল ছিল, যা দগরিয়া খাল ও বিল হিসেবে পরিচিত। চিনিশপুর ইউনিয়ন ও নরসিংদী পৌরসভার অন্তর্গত দগরিয়ার চর, ভাগদী, বাসাইল, চিনিশপুর, শিলমান্দী ও রাজারদী এলাকার পানি বর্তমান আবদুল কাদির মোল্লা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকার সড়ক ও জনপথের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রাস্তার কালভার্টের নিচ দিয়ে মেঘনা নদীতে প্রবাহিত হতো। আটবাড়িয়া খালটিকে মেঘনা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার জন্য পুনঃখনন বাবদ বিগত অর্থবছরে কোটি কোটি টাকা খরচ হয়। কিন্তু মামুন মেম্বারদের মতো ভূমিদস্যুদের কারণে বর্তমানে খালটি বন্ধ হয়ে গিয়ে বিলীন হওয়ার পথে। দগরিয়ার বিলে যাওয়ার জন্য স্থানীয় জমির মালিকরা মহাসড়কের খালের পাশে ২০ ফুট রাস্তা রেখে একটি সমঝোতায় স্বাক্ষরও করেছিলেন, যেখানে মামুনরাও স্বাক্ষর করেন। তথাপি মামুন এখন সে রাস্তার ওপরে শৌচাগার নির্মাণ করে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছেন।
২০০০ সালে সম্পন্ন সিটি জরিপেও দগরিয়া খালের অস্তিত্ব রয়েছে এবং দিয়ারা জরিপে বাংলাদেশের পাঁচটি জেলার মধ্যে দিয়ারা সেটেলম্যান্ট অফিসের নেতৃত্বে দগরিয়া খালের জরিপ ১৯৮৮ সালে সম্পন্ন হয়।
এ ব্যাপারে মামুন মেম্বার জানান, তিনি তার ১৬ শতাংশ জমিতেই বালু ভরাট করে ইমারত নির্মাণ করছেন। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের এবং খাল ভরাট করেননি।
নরসিংদী সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার জানান, সদর মডেল থানায় মামুনের বিরুদ্ধে ডায়েরি করা হয়েছে এবং শিগগির ভরাটকৃত বালু ভেকু মেশিন দিয়ে সরিয়ে ফেলে খাল সচল রাখা হবে।
(এসএইচআর/এসএএম/১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০)



