যুবদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির নরসিংদী সফর প্রশ্নবিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক বিনিয়োগবার্তা: নরসিংদীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির তিনদিনের সাংগঠনিক সফর শেষে করে সদস্যরা ঢাকায় ফিরে গেছে। তাদের তিনদিনের সফরে বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ে জেলা জুড়ে বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তাদের এই সফর কতটা ফলপ্রসু তা এখন প্রশ্নবিদ্ধ।  এবিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং যুবদলের কেন্দ্রিয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দৃষ্টি দেওয়ার আহবান জানান।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে জাতীয়তাবাদী যুবদলকে ঢেলে সাজাতে নির্দেশ দেয় দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পাশাপাশি তিনি নতুন করে বিভিন্ন জেলায় ইউনিট কমিটিগুলো পূন;গঠনের লক্ষ্যে বিভাগীয় পযায়ে সাংগঠনিক কমিটি গঠন করে দেয়। সারাদেশে বিভিন্ন ইউনিট কমিটিগুলো গঠনের পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটিগুলো থানা ও পৌরসভাগুলো কর্মী সমাবেশ করে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটি তিনদিনে সফরে নরসিংদী আসে।

সফরের প্রথমদিন ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার শিবপুর থানা ও পৌরসভার কর্মী সমাবেশ করে বিভাগীয় কমিটি। ওইদিন সমাবেশে নরসিংদী জেলা যুবদলে গুরুত্বপূর্ণ  পদে থাকা কয়েকজন নেতা অনুপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিভাগীয় কমিটি ওইসব নেতাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে তা সমাধানের চেষ্টা না করে বরং সফরের তৃতীয় দিন বুধবার মনোহরদী ও বেলাবতে তিনটি করে গ্রুপকে আলাদা আলাদা স্থানে সমাবেশের সময় সূচি দেয়। ওইদিন জেলার দুইটি থানার ছয়টি স্থানে কর্মী সমাবেশের আয়োজন করে নেতাকর্মী জড়ো হলেও বিভাগীয় কমিটি বেলাব থানার কোন সমাবেশে উপস্থিত হয়নি। শুধু মাত্র মনোহরদীতে তিনটি গ্রুপের আলাদা আলাদা স্থানে আয়োজিত সমাবেশে উপস্থিত হয়। তাদের একটি প্লাটফর্মে না এনে আলাদাভাবে সমাবেশ করে গ্রুপিংকে পরোক্ষ ভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সামিল বলে নেতাকর্মীরা মনে করছেন। থানায় থানায় আয়োজিত কর্মী সমাবেশে নিদ্দিষ্ট সময়ে মধ্যে সাংগঠনিক কমিটির সদস্যরা সমাবেশে উপস্থিত না হওয়ায় নেতাকর্মীরা দীর্ঘ সময় ধরে সমাবেশ স্থলে অবস্থান করায় কর্মী সমাবেশে পুলিশি হামলায় মঞ্চ ভাংচুরসহ নেতাকর্মীদের উপর হামলা-মামলার ঘটনা ঘটে। রায়পুরা হামলার ঘটনায় সমাবেশ পন্ড হলে জেলা সদরে এসে সেই সমাবেশ জেলা বিএনপির অফিসে না করে অনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে তা কারো ব্যক্তি মালিকানা ফ্যাক্টোরিতে করে। নেতাকর্মীরা মনে করছে ইউনিট কমিটিগুলোতে পকেট কমিটি দিতে  নিজেদের পকেট ভারী করতে ব্যাপক অবৈধ বানিজ্য করেছে সাংগঠনিক কমিটির সদস্যরা। সফরে এসে সাংগঠনিক কমিটি কোন হোটেলে না উঠে বিলাশ বহুল ড্রিম হলি ডে পার্কের রিসোর্ট ভাড়া করে রাত যাপন করেছে। যার খরচ দল বহন করবে না বলে অভিমত ব্যক্ত করেছে নেতাকর্মীরা। তাদের ধারণা স্থানীয় কোন নেতার পক্ষ থেকে বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির জন্য দেওয়া সৌজন্য উপহার হতে পারে। যা বিভাগী কমিটির সফরের সম্পূর্ণ নিয়ম বহির্ভূত।

নেতাকর্মীরা বলছেন কোথাও দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকলে সাংগঠিক কমিটি ওই এলাকা সফরে গেলে গ্রুপিংকে দূর করে সকলকে এক প্লাটফর্মে আনার চেষ্টা চালায়। কিন্তু নরসিংদীতে সফরে আসা সাংগঠনিক কমিটি  তার ওল্টোটা করে গেছে। তারা জেলার বিভিন্ন ইউনিটগুলোর বিরাজমান গ্রুপগুলোকে প্রশ্রয় দিয়ে তাদের সাথে আলাদা আলাদা কর্মীসমাবেশ করে পরোক্ষ ভাবে গ্রুপগুলোকে স্বীকৃতি দিয়ে গেলেন। নেতাকর্মীরা মনে করছেন নরসিংদী সফরে বিভাগীয় কমিটি ও কমিটির দলনেতা জাকির হোসেন নান্নুর  মোটা অংকের অর্থ  বানিজ্য করে গেছেন।

নরসিংদীতে বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির তিনদিনের সফরের সকল কর্মকান্ডে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং যুবদলের কেন্দ্রিয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দৃষ্টি দেওয়ার আহবান জানান দলীয় নেতাকর্মীরা।

রায়পুরা থানা যুবদলের আহবায়ক আলতাফ হোসেন বলেন, রায়পুরায় পন্ড হওয়া সমাবেশ কি কারণে কি উদ্দেশ্যে জেলা বিএনপির অফিসে না করে অন্য কারো ফ্যাক্টোরীতে করেছে তা আমার বোধগম্য নয়। আর সেই কারণে আমি সেখানে উপস্থিত হইনি।

বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটি সহ বিজ্ঞান ও প্রযূক্তি বিষয়ক সম্পাদক  ইঞ্জিনিয়র আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, রায়পুরায় যুবদলের কর্মী সমাবেশ নিয়ে বিভাগীয় কমিটির  সাথে জেলা যুবদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কূট-কৌশলে আশ্রয় নেয়। আর কূট-কৌশলের মাধ্যমে সমাবেশও পন্ড করে দেয়। রায়পুরায় যুবদলের পকেট কমিটি গঠন করতেই এই কূট-কৌশল করে যাচ্ছে।

মনোহরদী থানা যুবদলের সভাপতি পদ প্রত্যাশী শফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব সাফিজ উদ্দিন আকন্দ করুন, থানা যুবদল নেতা মাহাবুব আলম সানি জানায়, তাদেরকে সমাবেশের সময় বিকাল তিনটায় দেওয়া হলেও  বিভাগীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ রাত সাড়ে সাতটা চন্দনবাড়ী ইউনিয়নের আসাদনগরস্থ সমাবেশস্থলে পৌছে। এসময় নাম প্রকাশ না করা শর্তে অপর এক যুবদল নেতা সমাবেশে বিভাগীয় সাংগঠনিক কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান তার বক্তব্য বলেন “মনোহরদীতে তিনটি গ্রুপের সাথে আলাদা আলাদা সমাবেশ করে এক অর্থে আমরা গ্রুপিংকে স্বীকৃতি দিয়ে গেলাম।”

বেলাব থানা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা বলেন, কর্মী সমাবেশ সফল করতে  আমি নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে সেই দুপুর থেকে পোড়াদিয়া হাই স্কুল মাঠে অবস্থান নেই। আমাদেরকে বিকাল তিনটায় সময় দিলেও  বিভাগীয় কমিটি ও জেলা কমিটি নেতৃবৃন্দের কোন খবর পাচ্ছিলাম না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাচ্ছিলাম। এদিকে দীর্ঘ সময় আমাদের অবস্থানের কথা জানতে পেরে পুলিশ এসে সভা মঞ্চ ভেঙ্গে দেয় এবং ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীরা আমাদের উপর হামলা চালায়। হামলার শিকার হয়েও রাত আটটা পযন্ত আমরা সেখানে অবস্থান করার পর জানতে পারি বিভাগীয় কমিটি মনোহরদীর আসাদনগরে সমাবেশ করছে। পরে আমরা সেখানে গিয়ে সমাবেশে যোগ দেই।আমাদের সমাবেশের সময়সূচি দিয়েও তাতে নেতারা হাজির না হওয়ায় আমরা সমাবেশ করা থেকে বঞ্চিত হই। ওল্টো আমার নেতাকর্মীরা হামলা-মামলার শিকার হয়েছে। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১২ জন নেতাকর্মী।

এব্যাপারে জেলা যুবদলের সভাপতি ও বিভাগীয় কমিটির সদস্য মহসীন হোসেন বিদ্যুৎ বলেন, দুই থানায় ছয়টি সমাবেশস্থলে হাজির আমাদের ইচ্ছা থাকলেও পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। যাবার পথে শিবপুর সিএন্ডবি বাজারের কাছে একটি গাড়ী ভাংচুর করা হলে আমরা পোড়াদিয়া যাবার সিদ্ধান্ত বাতিল করে ভিতরের রাস্তা দিয়ে মনোহরদী চলে যাই। আর নিদ্দিষ্ট ভাবে সময়সূচি  কাউকেই দেওয়া হয়নি। সময় সল্পতার কারণে আমরা সবাইকে এক সাথে করতে পারিনি।

বিভাগীয় কমিটির তিনদিনের সফর কতটা ফলপ্রসূ হয়েছে এর জবাবে তিনি বলেন, আমরা যেমনটা আশা করেছি তা পূরণ হয়নি, মোটামুটি ফলপ্রসূ বলা যায়। বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে সমাবেশ পন্ড করে দেয়। ফলে আমরা কাঙ্খিত ফল পাইনি।

বিভাগীয় কমিটির দলনেতা জাকির হোসেন নান্নুর মোবাইল ফোন ০১৭১৪০১৫৮৮৬েএই নাম্বারে ০১৬০৮০৯৪৩৬৩ এই নাম্বার থেকে বার বার ফোন দিয়ে প্রতিবার ব্যস্ত পাওয়া যায়।  ফলে তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।।

পরে কমিটির দ্বিতীয় সদস্য মজিবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে  তিনটি আলাদা গ্রুপের সাথে সমাবেশ করা বিষয়ে তিনি বলেন, আসলে গ্রুপিংটা যুবদলের মধ্যে নয়। তা মূলদলের নেতাদের মধ্যে তাই একজায়গা করা সম্ভব হয়নি। সেক্ষেত্রে জেলা বিএনপির অফিসের  একটি গ্রুপ না আসার পক্ষে ছিল। মনোহরদীর আসাদনগরের সমাবেশে তিনটি গ্রুপকে স্বীকৃতি  দেওয়া বিষয়ে তিনি তার বক্তব্যে যে কথা বলেছিলেন তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, আসনে যিনি শুনেছেন তার ভুল আমি বলেছি বিএনপিতে গ্রুপিং  থাকতে পারে কিন্তু যুবদলে কোন গ্রুপিং নেই। তাদের তিনদিনের সফরে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কয়েকজন নেতা বিভিন্ন সমাবেশগুলোতে অনুপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন এটা বিভাজন নয় আসলে দাওয়াত নিয়ে নিজেদের মধ্যে অভিমান মাত্র। আমার সাথে জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ সভাপতি শাহেন শাহ শানুর কথা হয়েছে। আমাদের দলনেতার সাথেও কথা হয়েছে। সমাবেশ গুলোর সময়সূচি ঠিক ভাবে মানা হয়নি এর জবাবে তিনি বলেন এটা জেলা কমিটির বিষয় আমাদের নয়।

(এসএইচআর/এসএএম/২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০)


Comment As:

Comment (0)