‘স্টক এক্সচেঞ্জের প্রত্যেকটি কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজড করা হবে’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা: স্টক এক্সচেঞ্জের প্রত্যেকটি কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজড করা হবে বলে জানিয়েছেনবাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, ৩টি কারনে টেকনোলজি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, টেকনোলজি কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়, দ্বিতীয়ত ব্যয় কমায় আর তৃতীয়ত হচ্ছে স্টেকহোল্ডারদেরকে সহজেই এক জায়গায় নিয়ে আসে। এসব কারনে টেকনোলজির ব্যবহারটা খুব দরকার। ভবিষ্যতের দিকে তাকালেও সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ক্ষেত্রে টেকনোলজির ব্যবহার বাড়াতে হবে। এর কোন বিকল্প নেই।
বুধবার (০৭ অক্টোবর) ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’ উপলক্ষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন সিএসইর চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম।
শেখ সামসুদ্দিন বলেন, করোনা টেকনোলজির গুরুত্ব বুঝিয়ে দিয়েছে। আগেরকার তুলনায় ব্যাপকভাবে এর প্রয়োজনীয়তা ফুটিয়ে তুলেছে। এই করোনায় অনেক খাতের ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু টেকনোলজি ক্রমানয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কারন যেকোন পরিস্থিতিতেই টেকনোলজি ব্যবহার করে সে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। আমাদের এখানেও করোনার মধ্যে টেকনোলজির অভাবে বিভিন্ন সমস্যা হয়েছে। আমরা আমাদের মতো করে নির্দেশনা দিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করেছি।
তিনি বলেন, করোনা হওয়ার পরে বিএসইসি টেকনোলজি নির্ভর অনেকগুলো পদক্ষেপ নিয়েছে। যেগুলো প্রমাণ করে ডিজিটালাইজড স্টক এক্সচেঞ্জ খুব উপকারী। যেমন এজিএম, ইজিএম, বোর্ড মিটিং, রিপোর্টস জমা ইত্যাদি অনলাইনে করার ব্যবস্থা করেছি। এতে করে ব্যয় ও সময় লাঘব হয়েছে।
বিএসইসির এই কমিশনার বলেন, বিএসইসির প্রাথমিক একটি লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে শেয়ারবাজারকে কত বেশি মানুষের কাছে সহজ করা যায়। এজন্য স্টক এক্সচেঞ্জের প্রত্যেকটি কার্যাবলিকে ডিজিটালাইজড করা হবে। এ নিয়ে কমিশন কাজ করছে। এছাড়া আপনাদের কাছে যদি কোন পরামর্শ থাকে, তাহলে তা কমিশন গ্রহন করবে। অতএব ডিজিটালাইজেশনের যে গুরুত্ব আছে, এই কমিশন সেটা খুব সহজভাবেই বুঝে। এবং সহজেই সে বিষয়ে প্রমোট করতে চায়।
তিনি বলেন, আমরা সফটওয়্যার ডেভোলপট করেছি। অন্যান্য আরও অনেক পরিকল্পনা আমাদের আছে। আমরা সেগুলো দ্রুততার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করছি। এজন্য আমাদের নিজেদেরও টেকনিক্যাল লোকজন দরকার হচ্ছে। সে কারনে আমরা একজন আন্তর্জাতিকমানের আইটি বিশেষজ্ঞকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য টেন্ডার দিয়েছি। আশা করছি ২-৩ মাসের মধ্যে এ ধরনের একজন কর্মকর্তাকে আমাদের মাঝে পাব। যিনি আমাদের শেয়ারবাজারের উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। যার পরামর্শে শেয়ারবাজারকে ডিজিটালাইজডের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার বাংলাদেশকে ডিজিটাল করতে চায়। যা করলে দেশের মঙ্গল হবে। আমরাও তার একটি অংশ হিসেবে শেয়ারবাজারকে ডিজিটালাইজড করতে চাই।
অনেকেই ডিজিটালাইজড করা কঠিন কাজ মনে করে বলে জানিয়ে তিনি বলেন, এটা কিন্তু একেবারেই তা নয়। যেমন মোবাইল ফোন দেশে আসার সময় অনেকেই ভেবেছিল কম শিক্ষিত মানুষজন এটা ব্যবহার করতে পারবে না। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। সেই প্রেক্ষাপট থেকে আমরা যদি মার্কেটটাকে ডিজিটালাইজড করতে পারি, সেটা অবশ্যই সবাই গ্রহন করবে। এর মাধ্যমে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে। এছাড়া ব্যয় কমে আসবে। আর মার্কেটটাও সেব জায়গায় পৌছে যাবে।
তিনি বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৫ শতাংশের ওয়েবসাইট নাই বা কাজ করে না। এছাড়া ওয়েবসাইট থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭ শতাংশের সর্বশেষ আর্থিক হিসাব নেই। এটা খুবই আশ্চর্যজনক।
(এসএএম/০৭ অক্টোবর ২০২০)



