ভবিষ্যত টেক-জায়ান্ট হবে জুম
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: ঢাকা: নভেল করোনাভাইরাস মানুষের জীবনযাত্রা ও কার্যক্রমের ধরনে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। মহামারীতে মানুষ ঘরবন্দি হয়ে পড়লেও অর্থনৈতিক কার্যক্রম তো আর পুরোপুরি রুদ্ধ করে রাখলে চলবে না। এ কারণে ঘরে বসেই চলেছে দাপ্তরিক কাজকর্ম। আর এ নতুন ধারার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে মানুষের প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপ।
করোনাকালে অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় বিশ্বজুড়ে ভিডিও কনফারেন্সিং অ্যাপের চাহিদা বেড়েছে। মহামারীতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান থেকে শুরু করে, অফিসের কাজকর্ম ও সভা—সবই এখন ভার্চুয়াল মাধ্যমেই বেশি হচ্ছে। এজন্য ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা এখন আকাশচুম্বী। এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান জুম ভিডিও কমিউনিকেশনস ইনকরপোরেশন। মহামারীতে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ে বাজিমাত করে কোম্পানিটি এখন গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্ট হয়ে উঠতে চাইছে।
ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের বাজারে অবস্থান সুসংহত করার পর বৃহৎ পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে জুম। মহামারী-পরবর্তী সময়ে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের বাইরেও বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা। এরই অংশ হিসেবে ক্যালেন্ডার অ্যাপ নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি কোম্পানিটি এখন একটি ই-মেইল পরিষেবার কাঠামো তৈরি শুরু করছে। আগামী বছরই এটি বাজারে ছাড়ার লক্ষ্য রয়েছে তাদের। যদিও তাদের এ পথচলা খুব একটা মসৃণ হবে না। কারণ এক্ষেত্রে বৈশ্বিক টেক জায়ান্টদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে জুমকে।
পরিকল্পনার বিষয়ে ওয়াকিবহাল সূত্রের বরাত দিয়ে প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ইনফরমেশন একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জুম একটি ওয়েব ই-মেইল পরিষেবা তৈরির কাজ শুরু করেছে এবং আগামী বছরই কিছু গ্রাহকের কাছে ই-মেইলের খুব প্রাথমিক সংস্করণ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে তাদের। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি একটি ক্যালেন্ডার অ্যাপও তৈরি করছে। অবশ্য এ বিষয়ে জুমের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘরে বসে দাপ্তরিক কাজ ও দূরশিক্ষণের অভূতপূর্ব উত্থানের আশীর্বাদে জুমের বৃহস্পতি এখন তুঙ্গে। দারুণ একটি বছর পার করছে তারা। আকাশচুম্বী চাহিদার কারণে জুমের শেয়ারের দাম ৫০০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত জুম কেবল ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা খাতেই শক্ত ভিত খুঁজে পেয়েছে। এক্ষেত্রে তারা বৈশ্বিক দুই টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফট ও গুগলকে পেছনে ফেলেছে। এ সাফল্যের মনোবল থেকেই এখন তারা অন্যান্য প্রযুক্তি খাতেও অন্যদের সঙ্গে টক্কর দেয়ার ছক আঁকছে।
আরেক প্রযুক্তি বিষয়ক অনলাইন দ্য ভার্জের প্রতিবেদন বলছে, যে দুই টেক জায়ান্টের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চাইছে জুম, সেই মাইক্রোসফট-গুগলের ক্যালেন্ডার, ই-মেইল ও ভিডিও কনফারেন্সিং সেবা চালু রয়েছে। এ কারণে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের পাশপাশি ক্যালেন্ডার ও ই-মেইল সেবাও চালু করতে চাইছে জুম।
মহামারীর ফলে সৃষ্ট সুযোগ কাজে লাগানো জুম সর্বশেষ প্রান্তিকে চার গুণ রাজস্ব আয় করেছে। আগস্ট-অক্টোবর মেয়াদে কোম্পানিটির আয় হয়েছে ৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই প্রান্তিকের তুলনায় ৩৬৭ শতাংশ বেশি। আলোচ্য সময়ে জুমের মুনাফা হয়েছে ১৯ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল মাত্র ২২ লাখ ডলার। ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি বছর তারা ২৫০ কোটি ডলারের বেশি রাজস্ব আয় করতে পারে, যা তাদের গত মার্চের পূর্বাভাসের দ্বিগুণেরও বেশি।
অক্টোবরের শেষে জুমের গ্রাহকের তালিকায় ১০ জনের বেশি কর্মী থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭০০। এটি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪৮৫ শতাংশ বেশি।
গত অক্টোবরে বিশ্বজুড়ে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন (ইটুইই) নামে নতুন এক ফিচার আনে জুম। বিনা মূল্যে ও সাবস্ক্রিপশনের ভিত্তিতে—দুভাবেই এ ফিচার ব্যবহার করা যাবে। এ ফিচারের আওতায় সর্বোচ্চ ২০০ জন একসঙ্গে সভায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
ইন্দো-এশিয়ান নিউজ সার্ভিস
(ডিএফই/২৬ ডিসেম্বর ২০২০)



