‘দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়তেই ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি’
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, চট্টগ্রাম: এক সময় চরম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ছিল বাংলাদেশ। দুর্নীতিমুক্ত এবং অর্থনীতিক সমৃদ্ধিশালী দেশ গড়তে ৯ম জাতীয় নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন শেখ হাসিনা। ২০০৮ সালে শেখ হাসিনার দেখানো স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
বুধবার চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগের বিষয়ে জানাতে তথ্য অধিদপ্তর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগগুলো হলো- একটি বাড়ি একটি খামার; আশ্রয়ন; ডিজিটাল বাংলাদেশ; শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি; নারীর ক্ষমতায়ন; ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ; কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য; সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি; বিনিয়োগ বিকাশ ও পরিবেশ সুরক্ষা।
কামরুন নাহার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১০টি বিশেষ উদ্যোগেকে সবাইকে ব্রান্ডিং করতে হবে। দেশের সামাজিক ও অর্থনীতিক সমৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই ১০টি উদ্যোগ। এতে গ্রামের মানুষের অনেক সমস্যা সমাধান হবে।
দেশের প্রথম এই নারী প্রধান তথ্য কর্মকর্তা বলেন, দেশের সমৃদ্ধির জন্য তথ্যকে সঠিক এবং সহজভাবে জনগণের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। এতে মানুষ সচেতন হবে এবং উপকার পাবে।
অনেকসময় সরকার কী করছে- তার সবই জনগণের কাছে পৌঁছায় না। শেখ হাসিনার এই ১০টি বিশেষ উদ্যোগ সবাইকে জানাতে ভূমিকা রাখতে পারেন সাংবাদিকরা। এগুলোর বাস্তবায়ন হলে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে কোনো বাধা থাকবে না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ আর ২০১৭ এর বাংলাদেশের মধ্যে অনেক পার্থক্য। গ্রামীণ সমাজের মানুষের কথা চিন্তা করে ১০টি উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর বেশিরভাগই শহরের মানুষের প্রয়োজন হয় না; কিন্তু গ্রামে এগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি।
তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের জন্য অনেক প্রকল্প চালু হলেও লক্ষ্যপূরণ হয় না। মূলত নিম্ন আয়ের মানুষদের কথা বিবেচনা করে এসব প্রকল্প নেওয়া হলেও তাদের কাছে সঠিক তথ্য এবং সেবা পৌঁছানো হচ্ছে না। প্রকল্পগুলো প্রান্তিক পর্যায়ে পৌঁছে দিতে তদারকি বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম কর্মীদেরও সচেতন হতে হবে।
মো. জিল্লুর রহমান বলেন, সরকারকে অনেক কাজ করতে হয়। ভুল ভ্রান্তি হতেই পারে। এজন্য গণমাধ্যম কর্মীদের এই বিষয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ না নিয়ে সঠিক বিষয়টি মূল্যায়নে কাজ করতে হবে।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মো. আজিজুর রহমান সিদ্দিকি বলেন, এই অঞ্চলের ৫০৮ টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ৪৯০ জন সার্জন কাজ করছেন। ২০১৬ সালে ২৮ লাখ মানুষকে সেবা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৪ মাসে ৯ লাখ মানুষকে সেবা দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগে পরিকল্পনা করছে সরকার। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আরও উন্নত সেবা দিতে পারবে কমিউনিটি ক্লিনিক।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় পরিচালক মিজানুর রহমান, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ প্রমুখ।
(ইউএম/ ২৪ মে ২০১৭)



