পুঁজিবাজারে ক্যারিয়ার গড়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ধৈর্য্যকে মোকাবেলা করা: মোহাম্মদ আশিকুর রহমান

ধৈর্য্যকে মোকাবেলা করাই পুঁজিবাজারে ক্যারিয়ার গড়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ লিমিটেডের ব্র্যাঞ্চ ম্যানেজার মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অনেক কিছু জানার ও বুঝার আছে। অথচ, আমরা সেটাই করিনা। আমি মনে করি, আমাদের এ বাজারের সকল পর্যায়ে প্রচুর ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন। আর এটি করতে হলে বিনিয়োগ  শিক্ষাকে আরও প্রসারিত করতে হবে।

বিনিয়োগবার্তার সঙ্গে কর্পোরেট ক্যারিয়ার নিয়ে এক আলোচনায় এসব কথা বলেন মোহাম্মদ আশিকুর রহমান।

একান্ত আলোচনায় তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে যোগ্য ও দক্ষ লোকবলের অনেক অভাব রয়েছে। এ বাজারে দক্ষ লোকবল তৈরি না হলে বাজার তার কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে না। এতে পুঁজিবাজারের অগ্রযাত্রা তথা দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

মোহাম্মদ আশিকুর রহমান বলেন, আমার জন্ম ঢাকাতেই। লালমাটিয়ার জাকির হোসেন রোড দিয়ে যখন যাই তখন আমার জন্মস্থানটি চোখে পড়ে এখনও। তবে বাড়িটি এখন পরিবর্তন হয়ে নতুন সাজে সেজেছে, দেখতে বেশ ভালোই লাগে। শৈশবকাল বলতে শুধু মায়ের কথা মনে পড়ে। সেই ছোট্টবেলা হতে যখন স্কুলে যেতে শুরু করি তখন থেকে মায়ের সঙ্গেই স্কুলে যেতাম। স্কুল ছুটি না হওয়া পর্যন্ত মাকে স্কুলে বসিয়ে রাখতাম। সেই থেকে শুরু হয়ে স্কুল এবং কলেজ জীবনে সত্যিকার অর্থে মাকে শান্তি দেইনি। আজ সে কথা ভাবলে মায়ের জন্য শুধু কষ্টই লাগে না বরং তার জন্য গর্বে বুক ভরে যায়। তার অবদান না থাকলে হয়তো আজকে আমি এ জায়গায় আসতে পারতাম না। মা তোমাকে সালাম।

মায়ের প্রতি স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মায়ের খুব ইচ্ছে ছিল আমি ডাক্তার হবো। সেই লক্ষ্য নিয়েই বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশুনা শুরু করি। মেডিক্যালে চান্স না পেয়ে রসায়ণে মাস্টার্স করি। পরবর্তীতে ইস্টওয়েষ্ট ইউনিভার্সিটি হতে ফাইন্যান্সে মেজরিটি নিয়ে এমবিএ শেষ করি। এমবিএ পড়াকালিন মূলত Investment Theory ক্লাসে ড. মুসা স্যারের সেই Inspiring Speech থেকেই পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট পেশায় আসা। সেজন্য Money Market কে পাশ কাটিয়ে Capital Market এ ঢুকে পড়ি।

ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের তরুণ এই শাখা ব্যবস্থাপক বলেন, এ পেশায় আমি নিজেকে শ্রদ্ধার চোখে দেখি। এখান থেকে অনেক কিছু জানার আছে। সাথে সাথে বেশ কিছু করার ইচ্ছাও তৈরী হয়। ভবিষ্যতে ফান্ড ম্যানেজার হবো- এ লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমার দৃষ্টিতে পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক পেশার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মূলত ধৈর্য্যকে মোকাবেলা করা। এখানে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে অনেক ধৈর্য্য ধরতে হবে। বারবার হোঁচট খেলেও ছিটকে পড়া যাবে না, ধৈর্য্য সহকারে লেগে থাকতে হবে। এখান থেকে অনেক কিছু জানার আছে, অথচ আমরা সেটাই করিনা। তাই আমি মনে করি এ বাজারের জন্য দক্ষ লোকবল তৈরি করতে প্রচুর ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন। আজ India, Srilanka আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে তার একটাই কারন, তারা বাজারের ওপর পর্যাপ্ত ট্রেনিং নিয়েছে এবং ট্রেনিংটাকে কাজে লাগিয়েছে। আমরাও একসময় পারবো- এ লক্ষ্যে যাওয়ার জন্যে সবাইকে দৃঢ়চিত্তে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, এ পেশায় আমি প্রায় চৌদ্দ বছর কাটিয়েছি। আমার কাছে মনে হয়, একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার চাবিকাঠি হলো এই পুঁজিবাজার। তাই আমি মনে করি একজন শিক্ষিত তরুণ যেসব বিশেষত্বের কারনে এ পেশায় আসবে তার মধ্যে একটি প্রধানতম কারণ হলো নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এ বাজার থেকে একটা ভালো কোম্পানি লিস্টেড হয়ে যেভাবে কোম্পানিটি তার লক্ষ্যকে পুঞ্জিভূত করে আরও একটা নতুন মাত্রায় দাঁড় করাতে পাড়ছে, ঠিক তেমনি দেশকে এগিয়ে নিতে মূখ্য ভূমিকা রাখছে। আজ আমরা স্কয়ার ফার্মাকেই দেখিনা কেন- তারা বাংলাদেশ, ইউরোপ কান্ট্রির পর আফ্রিকাতে পা রেখেছে। এভাবেই এ বাজার থেকে উদ্যোক্তা হয়ে দেশের উন্নয়নকে তরান্বিত করার সুযোগ রয়েছে। একমাত্র শিক্ষিত তরুণরাই পারবে একটা পুজিবাজারবান্ধব মার্কেটের সূচনা করতে। সেজন্য আমি মনে করি আমাদের অথরাইজ রিপ্রেজেন্টেটিভদের আরও দক্ষ করে গড়ে তোলার জন্য বিনিয়োগসংক্রান্ত শিক্ষাকে আরও বেগবান করা উচিত।

নিজের প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তিনি বলেন, ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজ ব্র্যাক ব্যাংকের একটি সাবসিডিয়ারী কোম্পানী। সঠিক নেতৃত্ব আর বিশ্লেষণধর্মী বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের কারণে এ প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে গ্রাহকদের আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নিয়েছে। বিনিয়োগ শিক্ষায়ও প্রতিষ্ঠানটি সময়োপযোগী ভূমিকা রেখে চলেছে। বিনিয়োগ শিক্ষার প্রসারে প্রতিষ্ঠানটি শুধু দেশের মানুষকেই সচেতন করেনি, দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশিদের কাছেও পৌঁছতে পেরেছে। তাই ব্র্যাক ইপিএল আমার কাছে গর্ব। এ প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় সহযাত্রী হতে পেরে আমি গর্বিত।

(ডিএফই/এসএএম/২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১)


Comment As:

Comment (0)