২০ রমজানের মধ্যেই পোশাক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস: বিজিএমইএ
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: সারাদেশের পোশাক শ্রমিকেরা ২০ রমজানের মধ্যে ঈদ বোনাস পাবেন বলে মন্তব্য করেছেন তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহ-সভাপতি (অর্থ) মোহাম্মদ নাছির।
সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের (ডিআইএফই) কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় এই মন্তব্য করেন তিনি।
তৈরি পোশাক শিল্পের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট- বিষয়ক কোর কমিটি’র এই সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।
সভায় উপস্থিত ছিলেন শ্রমসচিব মিকাইল শিপার, ডিআইএফইর মহাপরিদর্শক সামছুজ্জামান ভূঁইয়া, জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি শুক্কুর মাহামুদ, বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি, গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি লীমা ফেরদৌস প্রমুখ।
বৈঠকে শ্রমিক নেতা লীমা ফেরদৌস বলেন, অনেক পোশাক কারখানার মালিক রোজার একেবারে শেষ দিকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করেন। এতে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঈদের নতুন জামা কিংবা বাড়ি যাওয়ার জন্য গাড়ির টিকেট- কোনোটাই ঠিক সময়ে কিনতে পারেন না। ১৫ রোজার মধ্যে পোশাক শ্রমিকদের ঈদ বোনাস ও বকেয়া ওভারটাইম এবং ঈদের ছুটির আগেই জুন মাসের ২০ দিনের বেতন পরিশোধ করার দাবি জানাচ্ছি।
বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, পোশাক শিল্পের অবস্থা খুবই নাজুক। গত ১০ বছরে আমাদের গড় প্রবৃদ্ধি ১৩ শতাংশ থাকলেও গত ১০ মাসে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ২ দশমিক ২১ শতাংশ। আমরা কঠিন সময় পার করছি। তারপরও শ্রমিকরা যাতে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, সে ব্যবস্থা আমরা নেবো।
ঈদ বোনাস পরিশোধের সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করে তিনি বলেন, প্রতিটি কারখানার মালিকরা যেন যথাসময়ে উৎসব ভাতা পরিশোধ করে- সেদিকে আমরা নজর রাখবো। এছাড়া মালিক-শ্রমিকের সম্পর্কের ভিত্তিতে ১০-১৫ দিনের মজুরি কারখানা মালিকেরা পরিশোধ করবেন। সেই প্রতিশ্রুতি আমরা দিতে পারি।
বৈঠক শেষে বিজিএমইএর এই সহ-সভাপতি বলেন, ২০ রোজার মধ্যেই শ্রমিকেরা বেতন-ভাতা পেয়ে যাবেন। সেটি নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও বিজিএমইএতে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে। তদারকি করা হবে।
কয়েক বছর ধরে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট- বিষয়ক কোর কমিটির সভায় ঈদ বোনাস পরিশোধের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হলেও এবার তা হয়নি। আজকের সভার প্রধান ইস্যু ঈদের আগে সুষ্ঠুভাবে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের নিয়ে আলোচনা হয়েছে কম। সভার অধিকাংশ সময়জুড়ে নিবন্ধনবিহীন ফেডারেশন ও তাদের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
শ্রমিকনেতা সিরাজুল ইসলাম ও লীমা ফেরদৌস অভিযোগ করেন, নিবন্ধনবিহীন শ্রমিক ফেডারেশনগুলো আন্দোলনের নিয়ম মানছে না। এতে শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, যে সব শ্রমিক ফেডারেশন নিবন্ধিত নয়, তাদের তালিকা করা হবে। তারপর চিঠি দিয়ে তাদের সতর্ক করা হবে। শ্রম আইন অনুযায়ী, অনিবন্ধিত কোনো সংগঠন শ্রমিক অধিকার নিয়ে কাজ করতে পারে না। এছাড়া যেসব এনজিও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে, তাদের অনুমতি ও সক্ষমতা আছে কি না- সেটিও খোঁজ খবর নেওয়া হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশ জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম রনি অর্থসুচককে বলেন, শ্রমিকদের সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধ করার ব্যাপারে মালিকদেরকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বেতনের আগেই যাতে উৎসব ভাতা দিতে সভায় জোর দেওয়া হয়েছে।
(এসএএম/ ২৯ মে ২০১৭)



