ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক হলেন সাহাবুদ্দিন চুপ্পু
প্রতিবেদক, বিনিয়োগবার্তা, ঢাকা: একের পর এক অস্থিরতা ও দ্বন্দ্বের কারণে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন দুই স্বতন্ত্র পরিচালক। এবার নতুন একজনকে পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্যাংকটি। এজন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে নতুন পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৩১ মে) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদনের পর তার নিয়োগ কার্যকর হবে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আরাস্তু খান বলেন, দুজন পরিচালকের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে পর্ষদ। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিএসইসির অনুমোদন পেলে সেটি কার্যকর হবে। অন্যদিকে নতুন করে একজনকে স্বতন্ত্র পরিচালক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি হলেন দুদকের সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু।
এর আগে গত ১১ মে তিনি নিজের ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও পরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ আহসানুল আলম জানান, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদকে নিয়ে প্লাস-মাইনাসের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তাই পরিচালনা পর্ষদ ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদে দায়িত্ব পালন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার সরে যাওয়া এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। এরপর গত ১৩ মে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা শেষে স্বতন্ত্র এই পরিচালক কয়েকটি গণমাধ্যমকে জানান, জাকাতের ৪৫০ কোটি টাকা ব্যাংকের পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর জাকাত তহবিলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া ইফতারের ১৩ কোটি টাকা এবার সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের সুবিধাভোগীদের তালিকাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
তবে এ তথ্য অস্বীকার করে গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায় ইসলামী ব্যাংক। ১৭ মে সংবাদ সম্মেলন করেন ব্যাংকটির চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আহসানুল আলম ব্যাংকের গোপনীয়তা ভেঙেছেন। পরিচালক হওয়ার সময় তিনি গোপনীয়তা রক্ষার যে শপথ করেছিলেন, তা লঙ্ঘন করেছেন। ব্যাংক নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছেন। আমি তাকে পদত্যাগ করতে বলব না, তিনি নিজে সরে গেলে সমস্যা নেই। পরের দিন গণমাধ্যমে সাত পরিচালকের স্বাক্ষরিত বিবৃতি পাঠায়। এতে বলা হয়, পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে সাতজন পরিচালক পদত্যাগ করবেন।
এরপর ২৩ মে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) দুই পরিচালককে অপসারণের দাবি জানান উপস্থিত শেয়ারহোল্ডাররা। এজিএম শেষে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় সৈয়দ আহসানুল আলমকে ভাইস চেয়ারম্যান ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান আবদুল মাবুদ পিপিএমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তবে তারা স্বতন্ত্র পরিচালক থাকবেন বলে জানান চেয়ারম্যান। এরপর ২৫ মে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান ওই দুই পরিচালক। বুধবার বোর্ড সভায় তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জানুয়ারিতে বড় পরিবর্তন এনে ইসলামী ব্যাংককে জামায়াত ও শিবিরমুক্ত করতে উদ্যোগ নেয়া হয়। ওই সময় পর্ষদসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বড় পরিবর্তন আনা হয়। তবে ৬ মাস যেতে না যেতেই পর্ষদে কোন্দল শুরু হয়েছে। ব্যাংকে সরকারের সমর্থিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত সৈয়দ আহসানুল আলমের সঙ্গে চেয়ারম্যান আরাস্ত খানের বিরোধ বাইরে চলে আসে। এক পর্যায়ে এজিএমের পর জরুরি বোর্ড সভায় সৈয়দ আহসানুল আলমকে সরিয়ে দিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদ কমিয়ে একটি করা হয়। পরে তিনি পরিচালক পদ থেকে নিজেই ইস্তফা দেন। তার সঙ্গে ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান আব্দুল মাবুদকেও সরিয়ে দেয়া হয়। তিনিও পদত্যাগ করেছেন পরিচালক পদ থেকে।
(এমআইআর/ ০১ জুন ২০১৭)



