উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর বর্ষণে সিরাজগঞ্জে যমুনা এবং কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র, ধরলা ও তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে এ দুই জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এছাড়া রাজবাড়ীতে পদ্মার পানি কিছুটা কমলেও এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবর:

সিরাজগঞ্জ: জেলার সবক’টি পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শনিবার বিকালে সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বেড়ে বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একদিনের ব্যবধানে বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার।

এছাড়া কাজিপুর পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার ও বাঘাবাড়ী পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদী, চলনবিল, ইছামতি, করতোয়া, ফুলজোড়, হুড়াসাগর ও বড়ালসহ সব নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে জেলার সাতটি উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার মানুষ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। পানি বেড়ে বিপদসীমা অতিক্রম করায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাঁধে চাপ বাড়ছে। বিপদ এড়াতে বাঁধটির ধসে যাওয়া অংশে আবারো বালিভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম: জেলায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, শনিবার বেলা ৩টায় ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপত্সীমার ৩৪ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপত্সীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে পানি বেড়ে ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপত্সীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ও তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপত্সীমার ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকার চরাঞ্চলের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

রাজবাড়ী: জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া পয়েন্টে কমতে শুরু করেছে পদ্মার পানি। গতকাল সকাল ৬টার পরিমাপক অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে ২ সেন্টিমিটার পানি কমে এখনো বিপত্সীমার ৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আরিফুল হক জানান, রাজবাড়ী জেলার পাঁচটি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সাড়ে সাত হাজার পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চালু আছে।

(এসএএম/২৯ আগস্ট ২০২১)


Comment As:

Comment (0)