undefined

বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদের অর্থমন্ত্রী

ঢাকা মহানগরীর যোগাযোগ সহজীকরণে বিশ্বব্যাংককে প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান

ঢাকা মহানগরীকে আরও অধিকতর নান্দনিক শহর করার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প গ্ৰহণের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

 

শুক্রবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ব ব্যাংক-আইএমএফর বার্ষিক সভা-২০২১-এর অংশ হিসেবে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ও বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার নেতৃত্বে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মিস ফাতিমা ইয়াসমিনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।

 

অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের সহায়তার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশ্বব্যাংককে বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নে সরকারি খাতে সহজ শর্তে আরও বেশি অর্থায়নের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বেসরকারি খাতেও সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ করেন।

 

তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়ানো ও ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দক্ষতা ও সক্ষমতার কথা বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলকে জানান। অর্থমন্ত্রী, ঢাকার চারপাশের নদীগুলো পুনরুদ্ধার ও সংস্কারের মাধ্যমে বিশ্বের অন্যতম সুপ্রাচীন ঐতিহাসিক শহর ঢাকা মহানগরীকে আরও নান্দনিক শহর করার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় একটি ফ্ল্যাগশিপ প্রজেক্ট নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টকে আহ্বান জানান।

 

বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।

 

সভায় বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হার্টউইগ শেফার বিশ্বব্যাংকের ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সম্পদের সবচেয়ে বেশি ব্যবহারকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

 

তিনি আইডিএ অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সারাবিশ্বে বাংলাদেশকে রোল মডেল উল্লেখ করেন। তিনি বাংলাদেশের এই দক্ষতা ও সাফল্যকে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফর বার্ষিক সম্মেলনে যথাযথভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে আইডিএ খাতে উন্নত ও ধনী দাতাদেশগুলোকে আরও বেশি অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালনে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্টে আইডিএ খাত থেকে সহায়তা নেওয়ার ৫০ বছর পূর্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ৫০ বছর পূর্তিতে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে শুভেচ্ছা জানান।

 

সভায় অর্থমন্ত্রী জানান, অপ্রত্যাশিত অভিঘাত কোভিড-১৯ মহামারিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দক্ষ নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জনগণ ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনা করার ব্যবস্থা নিয়েছে। যার ফলে এই ক্রান্তিকালেও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ শীর্ষ পাঁচটি সহনশীল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।

 

হার্টউইগ শেফার দারিদ্র্য দূরীকরণ, দুর্যোগ মোকাবিলাসহ জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের গৃহীত টেকসই পরিকল্পনা এবং এসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্যরও প্রশংসা করেন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃত্ব দিতে পারে বলেও অভিমত দেন তিনি।

 

বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্কে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী ও সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//


Comment As:

Comment (0)