দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
দূর্যোগ মোকাবেলায় সরকারী এবং বেসরকারীখাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান ।দূর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় ডিসিসিআইতে “প্রাইভেট সেক্টর ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার (পিইওসি)”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দূর্যোগ মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনায় সরকারী এবং বেসরকারীখাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে আশা প্রকাশ করেন, ডিসিসিআইতে স্থাপতি দেশের প্রথম প্রাইভেট সেক্টর ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টারটি দূর্যোগ মোকবেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। তিনি বেসরকারীখাত এ ধরনের উদ্যোগের সাথে আরো বেশি হারে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী জানান, চীনের কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতায় সরকার রাজধানীর তেঁজগাও অঞ্চলে ১ একর জমির উপর একটি ‘ন্যাশনাল ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যেটি দেশে দূর্যোগ মোকাবেলায় পথ প্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন, সারাদেশে ইতোমধ্যে প্রায় ৪২ লক্ষ স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রদানের মাধ্যমে দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুুত করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম ভবিষ্যতে চলমান থাকবে।
অদ্য ১২ অক্টোবর, ২০২১ তারিখে ডিসিসিআইতে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডাঃ মোঃ এনামুর রহমান, এমপি সহ দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোহসীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য বেসরকারীখাতের অন্যতম সংগঠন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং স্ট্রেংথেনিং আরবান পাবলিক-প্রাইভেট প্রোগ্রামিং ফর আর্থকোয়েক রেজিলিয়েন্স (সুপার প্রজেক্ট) যৌথভাবে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে দূর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় বেসরকারীখাতের অংশগ্রহণে “প্রাইভেট সেক্টর ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার (পিইওসি)” স্থাপন করেছে।
এছাড়াও সুপার প্রজেক্ট-এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য এবং নগর অঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠীর ভূমিকম্প সহনশীলতা জোরদার এবং সর্বস্তারের জনগনকে দূর্যোগ সহনশীল করে তোলার লক্ষ্যে বেসরকারীখাতের অংশগ্রহণে বিভিন্ন অংশীজনদের মধ্যে পারষ্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, দূর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে নিরাপদ নগরায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্প ও বিনিয়োগ ঝুঁকিমুক্ত করা সম্ভব। দূর্যোগ মোকাবেলা ও ব্যবস্থাপনায় আমাদের গতানুগতিক চিন্তা ধরার পরিবর্তনের উপর তিনি জোরারোপ করেন, সেই সাথে সরকার গৃহীত এ ধরনের কার্যক্রমে আরো বেশি হারে বেসরকারীখাতকে সম্পৃক্ত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ মোহসীন বলেন, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ এখন রোল মডেল এবং বেসরকারীখাতের অংশগ্রহণে এ ধরনের ইমাজেন্সি অপারেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বেসরকারীখাতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে প্রাধান্য দেওয়ার বার্তা বহন করেন। এ কার্যক্রম বেসরকারীখাতকে আরো বেশি হারে সম্পৃক্তকরণের উপর তিনি জোরারোপ করেন।
একশনএইড-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবীর দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক গবেষণা কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় অগ্রীম ফান্ড গঠনের জন্য বেসরকারীখাতের প্রতি আহ্বান জানান। দূর্যোগ মোকাবেলায় প্রশিক্ষিত জনবলের একটি ডাটাবেইজ একান্ত অপরিহার্য বলে তিনি মত প্রকাশ করেন, পাশাপাশি গ্রামীণ পর্যায়ের বাণিজ্য সংগঠনসমূহকে দৃর্যোগ ব্যবস্থপনা কার্যক্রমে সম্পৃক্তকরণের উপর তিনি জোরারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে ডাইরেক্টর জেনারেল ফর ইউরোপীয়ান সিভিল প্রটেকশন অ্যান্ড হিউমেনিটারিয়ান এইড অপারেশন্স (ইকো)-এর প্রধান ড্যানিয়ালা ডিওরসো এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ-এর ন্যাশনাল ডিরেক্টর সুরেশ বার্টলেট বক্তব্য প্রদান করেন।
ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি এন কে এ মবিন, এফসিএস ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ঢাকা চেম্বারের সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন সহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বিনিয়োগবার্তা/এসআর /



