যুক্তরাষ্ট্রের আমন্ত্রণে ৩০ দেশের র্যানসমওয়্যার সম্মেলন
সাইবার নিরাপত্তা ও র্যানসমওয়্যার ঝুঁকি নিয়ে দুদিনের ভার্চুয়াল সম্মেলন আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ৩০ দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিলেও আমন্ত্রণ পায়নি চীন ও রাশিয়া। খবর টেক রাডার ও টেক টাইমস।
র্যানসমওয়্যার হামলার ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ‘কাউন্টার-র্যানসমওয়্যার ইনিশিয়েটিভ’-এর আওতায় এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো মিত্র, জি৭ভুক্ত দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু রাশিয়া ও চীনের মতো পরাশক্তির অনুপস্থিতি সম্মেলনটির জৌলুস কমিয়ে দিয়েছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে বাইডেন প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, প্রথম দফা আলোচনায় আমরা বিভিন্ন কারণে রাশিয়াকে আমন্ত্রণ করিনি। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের (এনএসসি) এক মুখপাত্র জানান, চীনকে সম্মেলনে না ডাকাও সচেতন সিদ্ধান্তের অংশ। তবে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের সম্মেলনে রাশিয়া ও চীনকে রাখা হয়নি বলে ভবিষ্যতে যে রাখা হবে না এমন নয়।
বেশির ভাগ সাইবার অপরাধী ও র্যানসমওয়্যার হামলাকারীরা রাশিয়া থেকে পরিচালিত হয় বলে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের টানাপড়েন বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী নেটওয়ার্ক কলোনিয়াল পাইপলাইনে সাম্প্রতিক র্যানসমওয়্যার হামলাটি রাশিয়া কিংবা সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত কোনো দেশ থেকে পরিচালিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই হামলার পর রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাইডেন। চলতি বছরের শুরুতে জেনেভা সম্মেলনের ফাঁকে উভয় নেতা বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। সাইবার দুষ্টচক্রের বিরুদ্ধে ক্রেমলিনের নীরবতা সে আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছিল। অবশ্য ওয়াশিংটনের সেসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে মস্কো।
এদিকে বাইডেন প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, উভয় রাষ্ট্রপ্রধানের সরাসরি বৈঠক ও আলোচনার পর দুদেশের মধ্যে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের সংযোগ স্থাপিত হয়েছে। রাশিয়ার সীমানায় বসে র্যানসমওয়্যার হামলার ঘটনা ঘটলে তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করে এ সমঝোতা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেন, রুশ সরকারকে আমরা কিছু পদক্ষেপ নিতে দেখেছি। আশা করছি কিছু ফলোআপ কর্মসূচিও দেখতে পাব। সাইবার হুমকি মোকাবেলায় রাশিয়া যদি আন্তরিক প্রয়াস চালায় তাহলে সামনের সম্মেলনগুলোতে অবশ্যই মস্কোর প্রতিনিধিরা থাকতে পারবে।
কলোনিয়াল পাইপলাইনে র্যানসমওয়্যার হামলায় ৪৪ লাখ ডলার অর্থ ব্যয়ে সেবা ফিরিয়ে এনেছিল মার্কিন প্রশাসন। ওই হামলায় ডার্কসাইড নামে একটি গ্রুপ জড়িত ছিল বলে দাবি এফবিআইয়ের। ওই ঘটনার পর কিছুদিন আড়ালে থাকার পর গত জুনে ফের সক্রিয় হতে দেখা যায় ডার্কসাইডকে। রেভিল নামে অপর একটি হ্যাকারচক্রের সঙ্গেও রাশিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ডাটা চুরির মাধ্যমে তা অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে অর্থ আদায় করে রেভিল।
দুদিনব্যাপী ভার্চুয়াল সম্মেলনে ভারত অনলাইন নিরাপত্তা বাড়ানোর ওপর জোর দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কীভাবে সাইবার হামলা ঠেকিয়ে দেয়া যায় তার ওপর আলোকপাত করবে অস্ট্রেলিয়া। ভার্চুয়াল মুদ্রা নিয়ে আসার ক্ষেত্রে নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করবে যুক্তরাজ্য। এছাড়া জার্মানি জোর দেবে কূটনৈতিক প্রয়াসের ওপর। অন্য দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ফ্রান্স, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিল, জাপান, আয়ারল্যান্ড, ইউক্রেন, ইসরায়েল ও দক্ষিণ আফ্রিকা।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



