পোশাক শিল্পকে জলবায়ুবান্ধব করতে একযোগে কাজ করার অঙ্গীকার
পোশাক শিল্পে কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে জলবায়ুবান্ধব করার জন্য একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে আইএফসি, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, পুমা এবং বিজিএমইএ।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিজিএমইএ।
এতে বলা হয়, বিশ্বে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থানে অবস্থানকারী বাংলাদেশের তৈরি পোশাকখাত বর্তমান কোভিড-১৯ এর প্রভাব কাটিয়ে দ্রুত পুনরুদ্ধার এবং টেকসই উন্নয়ন ও প্রতিযোগী সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সচেষ্ট রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশে ডেনমার্কের দূতাবাস, নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস এবং পুমা (PUMA) বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে কার্বন নিঃসরণ রোধে আইএফসি’র পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল (PaCT II) প্রোগ্রামে তাদের চলমান সহযোগিতা নবায়ন করছে।
ডেনমার্ক সরকার ড্যানিশ ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি (DANIDA) এর মাধ্যমে পোশাক শিল্পের বিভিন্ন কার্যক্রমকে আরও ব্যাপিত করার জন্য ৩.১৯ মিলিয়ন পাউন্ডের অতিরিক্ত তহবিল প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ইউনি ইস্ট্রুপ পিটারসেন (Winnie Estrup Petersen) বলেন, জলবায়ূ পরিবর্তনের উপর সর্বশেষ জাতিসংঘের আইপিসিসি প্রতিবেদন আমাদের আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে ভালোভাবে রাখার জন্য এখনই আমাদেরকে জলবায়ূ বিষয়ক ব্যবস্থা নিতে হবে। বৈশ্বিক ফ্যাশন শিল্প এককভাবে বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণে প্রায় ১০% অবদান রাখে। পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার টেক্সটাইল প্রোগ্রাম টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে পরিচ্ছন্ন (ক্লিনার) উৎপাদন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধিকে সহায়তা করছে বলেও জানান তিনি।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের ডেপুটি রাষ্ট্রদূত পাওলা ইশইনডেলার (Paula Schindeler) পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আইএফসি-প্যাক্ট প্রোগ্রামের মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত উদ্যোগগুলোতে এবং সম্পদের দক্ষ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পেরে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সহযোগী নেদারল্যান্ডস দূতাবাস আনন্দিত।
পুমা’র সিনিয়র হেড অব সাসটেইনিবিলিটি ভেরোনিক রোচেট বলেছেন, জার্মান বহুজাতিক কোম্পানি পুমা, প্যাক্ট এর পরমার্শমূলক সেবাদানের (এডভাইজরি সার্ভিসেস) এর মাধ্যমে বাংলাদেশে তার সাপ্লাই চেইনকে কার্বনমূক্ত করার জন্য নিজস্ব উদ্যোগ বাড়িয়ে চলেছে। পুমা’তে আমরা জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক লক্ষ্য উদ্যোগের সাথে একাত্মতা পোষণ করে জলবায়ু কমানোর জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছি। আমরা যে শুধুমাত্র নিজস্ব কার্যক্রম থেকে কার্বন ফ্রুটপ্রিন্ট কমাচ্ছি, তা নয়, আরও গুরুত্বপূর্নভাবে আমাদের সাপ্লাই চেইন থেকেও কার্বন নিঃসরণ কমাচ্ছি। যেহেতু বাংলাদেশ আমাদের জন্যএকটি গুরুত্বপূর্ন সোর্সিং বাজার, তাই প্যাক্ট প্রোগ্রাম আমাদের সরবরাহকারী কারখানাগুলোকে তাদের সম্পদের সর্বোচ্চ সদ্বব্যবহারনিশ্চিত করতে এবং তাদের পরিবেশগত প্রভাব কমাতে সাহায্য করছে।
পোশাকখাতে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শক্তিশালী করা এবং পণ্য বৈচিত্র্যকরণের মাধ্যমে রপ্তানি বাড়াতে প্যাক্ট বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এর সাথে একটি অনুদান চুক্তির মাধ্যমে তার কার্যক্রমগুলোকেও সম্প্রসারিত করছে।
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে সকল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে টিকে থাকা এবং বৈশ্বিক চাহিদা পূরণের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে ব্যবসা পরিচালনার নতুন উপায় খুঁজে বের করতে হবে। ফাইবার বৈচিত্র্যকরণ, অনলাইন মার্কেট প্লেস এবং বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য কোভিড পরবর্তী টেকসই রোডম্যাপ প্রভৃতি বিষয়গুলো নিয়ে গবেষনা করা বর্তমান সময়ের জন্য খুবই প্রাসঙ্গিক। এই গবেষনায় সহায়তার জন্য আমরা আইএফসির কাছে আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ, যা পোশাক শিল্পকে সামনের দিনে কৌশল প্রনয়নে সাহায্য করবে।
আইএফসি’র এশিয়া রিজিওনাল লিড ফর ম্যানুফ্যাকচারিং এডভাইজরি তুয়েন নগুয়েন (Tuyen Nguyen) বলেন, আইএফসি এর প্যাক্ট প্রোগ্রাম থেকে ইতিমধ্যেই কার্যকরী ফলাফল পাওয়া গেছে। এরফলে বছরে ৬১৮,৭৭৯ মেট্রিক টন গ্রীনহাউজ গ্যাস এড়ানো সম্ভব হচ্ছে, যা কিনা বছরে সড়ক থেকে ১,৩৪,৫৭২ যাত্রীবাহী যানবাহন অপসারণ করার সমতুল্য এবং ২৭,৬৩৭,৯৩১ ঘনমিটার পানি সাশ্রয় করা সম্ভব, যা দিয়ে বছরে বাংলাদেশে দেড় লক্ষ মানুষের পানির চাহিদা পূরণ করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, প্যাক্ট প্রোগ্রামটি পাঁচটি বৈশ্বিক পোশাক ব্র্যান্ড, ৩৮১ তৈরি পোশাক শিল্প কারখানা, শিল্প সংগঠন, সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং প্রযুক্তি বিক্রেতাসহ শিল্পের অংশীদারদের সাথে নিয়ে কাজ করছে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//



