প্রতিবন্ধীরা সমাজের মূল স্রোতে থেকে মর্যাদার সাথে কাজ করতে চান
প্রতিবন্ধীদের মানব বৈচিত্র্যের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে তারা সমাজের মূল স্রোতে থেকে মর্যাদার সাথে কাজ করতে চান বলে জানিয়েছে প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৭ অক্টোবর ২০২১) গুলশানস্থ বিজিএমইএ পিআর অফিসে বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম এর সাথে সাক্ষাৎকালে জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার নেতৃত্বে ৯টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন এ কথা বলেন। এসময় প্রতিবন্ধীদের কর্মসংস্থানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিবন্ধী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশে মোট জনগোষ্ঠীর প্রায় ১০ শতাংশই কোন না কোনভাবে প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি অধিকার ও সুরক্ষা আইন-২০১২ অনুযায়ী দেশে শারীরিক প্রতিবন্ধী, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, মানসিক প্রতিবন্ধী, বুদ্ধি প্রতিবন্ধীসহ মোট ১১ ধরনের প্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছে। অথচ কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকার জন্য এসব মানুষ পরিবার ও সমাজের গলগ্রহ হয়ে মর্যাদাহীন জীবনযাপন করছে।
তারা বলেন, “কোন করদাতা নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসাবে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট জনবলের নূন্যতম দশ শতাংশ (১০%) প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ করিলে উক্ত করদাতাকে প্রদেয় করের পাঁচ শতাংশ (৫%) কর রেয়াত প্রদান করা হবে”, এমন বিধান থাকলেও অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাস্তবিকভাবেই ১০ শতাংশ প্রতিবন্ধী কর্মী নিয়োগদান করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আশানুরূপভাবে কর্মসংস্থানের
সুযোগ পাচ্ছেন না।
তারা বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ২ শতাংশ নিয়োগ করলে ৫ শতাংশ কর ছাড় পাওয়া যাবে, এ মর্মে বিধান সংশোধন করা হলে তা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
আলোচনায় তারা পোশাক কারখানাগুলোতে বেশি করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নিয়োগ দেয়া এবং কারখানাগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত কাজের পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়ে বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহন কামনা করেন।
বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি শহিদউল্লাহ আজিম, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ২ শতাংশ নিয়োগ করলে ৫ শতাংশ কর ছাড় পাওয়া যাবে, প্রতিবন্ধী সংগঠনগুলোর এ প্রস্তাবনার সাথে একমত পোষন করেন। তিনি বলেন যে, মানবিক দৃষ্টিকোন থেকে অনেক পোশাক কারখানাই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কারখানায় নিয়োগদান করেছে। তিনি বলেন, বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে কারখানাগুলোকে এ বিষয়ে অনুরোধ করা হবে।
তিনি বলেন যে, সরকারের দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম, ‘এসইআইপি’ (স্কিলস ফর ইমপ্লয়মেন্ট ইনভেষ্টমেন্ট প্রোগ্রাম) প্রকল্পের অধীনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকুরী উপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হলে, ক্যাটাগরী অনুযায়ী তাদেরকে পোশাক কারখানায় কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এজন্য
উপযুক্ত পাঠসূচী (কারিকুলাম) প্রনয়ন করা জরুরি বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
আলোচনায় অংশগ্রহন করেন জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার কার্যক্রম ব্যবস্থাপক বশির আল হোসাইন, ডিজাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশন এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর নাসরিন জাহান, উইমেন উইথ ডিজাবিলিটি ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর এক্সিকিউটিভ ডাইরেক্টর আশরাফুন নাহার মিস্টি, ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ডিজাবল্ড উইমেন এর প্রেসিডেন্ট নাসিমা আখতার, ডিজাবল্ড চাইল্ড ফাউন্ডেশন এর প্রজেক্ট অফিসার মোঃ মনির হোসেইন, জাতীয় তৃণমূল প্রতিবন্ধী সংস্থার সভাপতি সুশান্ত দাশ, উইমেন উইথ ডিজাবিলিটি ডেভলপমেন্ট ফাউন্ডেশন এর একাউন্টেন্ট কো-অর্ডিনেটর সামিরা হক প্রমুখ।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



