সিপিডির ওয়েবিনারে বিজিএমইএ সভাপতি
ডব্লিউটিও’র মন্ত্রিপর্যায়ের সম্মেলনে ট্রানজিশন পিরিয়ড বাড়ানোই বাংলাদেশের ফোকাস হওয়া উচিত
বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের যখন এলডিসি থেকে উত্তোরণ হচ্ছে, তখন ডব্লিউটিও এর মন্ত্রিপর্যায়ের দ্বাদশ সম্মেলনে (এমসি-১২) বাংলাদেশের সর্বপ্রথম অগ্রাধিকার হওয়া উচিত এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণ হতে ট্রানজিশন পিরিয়ড ১২ বছরের জন্য বাড়ানো।
তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হওয়ার পরও আরও ১২ বছর উন্নত দেশগুলো থেকে যেন বানিজ্য সুবিধা পেতে পারে, সে ব্যাপারে এলডিসি গ্রুপ বিশ্ব বানিজ্য সংস্থার কাছে আবেদন করেছে। এই প্রস্তাবনার উপর ঐক্যমত শুধুমাত্র যে আমাদেরকে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সহায়তা করবে, তা নয়। বরং এটি আমাদের আভ্যন্তরীণ সক্ষমতা সৃষ্টির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন।
বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর ২০২১) সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘‘আসন্ন এমসি ১২: বাংলাদেশের প্রত্যাশা এবং সম্ভাব্য অবস্থান ” শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
সিপিডি চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহান এর সভাপতিত্বে সেশনে প্যানেলিস্ট হিসেবে আলোচনায় অংশগ্রহন করেন সৈয়দ মঞ্জুর এলাহী, ট্রেজারার, সিপিডি বোর্ড অব ট্রাষ্টিজ; মোঃ হাফিজুর রহমান, ডিজি, ডব্লিউটিও সেল, বানিজ্য মন্ত্রনালয়; ড. নাজনীন আহমেদ, কান্ট্রি ইকোনোমিষ্ট, ইউএনডিপি; ড. মোস্তফা আবিদ খান, সাবেক সদস্য, বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশন এবং ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, গবেষনা পরিচালক, সিপিডি।
ওয়েবিনারে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিপিডির ডিষ্টিংগুইশড ফেলো প্রফেসর মুস্তাফিজুর রহমান।
ফারুক হাসান তার বক্তব্যে বলেন, আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের মতো এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তোরণ হওয়া দেশগুলোর জন্য বানিজ্য প্রতিযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন হতে চলেছে। আমাদেরকে বিভিন্ন সহায়তা প্রোগ্রাম যেমন- ইউএনসিডিএফ, এলডিসিএফ, ইউএন টেকনোলজী ব্যাংক ফর এলডিসি প্রভৃতি প্রোগ্রামের সহায়তা কাজে লাগাতে হবে।
মুক্ত বানিজ্য চুক্তির (এফটিএ) উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, বিশ্ব বানিজ্যে আঞ্চলিক ও দ্বি-পাক্ষিক মুক্ত বানিজ্য চুক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং যদিও আমরা বহুপাক্ষিক বানিজ্য ব্যবস্থায় নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করছি, এর পাশাপাশি আঞ্চলিক ও দ্বি-পাক্ষিক এফটিএ এর পথে বাংলাদেশ না এগুতে পারলে প্রতিযোগীদের সাথে টিকে থাকা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী দিনগুলোতে সম্ভাব্য ও উদীয়মান বাজার আবিষ্কার করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বানিজ্য ব্লকের উপর ফোকাস করতে হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি বানিজ্য আলোচনা ও দরকষাকষির জন্য সামর্থ্য তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপরও জোর দেন।
তিনি বলেন, বানিজ্য দরকষাকষি ও অর্থনৈতিক কূটনীতির ক্ষেত্রগুলোতে আমাদেরকে আভ্যন্তরীণ সক্ষমতা তৈরির জন্য কাজ করতে হবে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএএম//



