BD Malaysia

কর্মী নিয়োগে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক: চার বছর পর মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার আবার উন্মুক্ত হচ্ছে। কর্মী নিয়োগে আগামীকাল দেশটির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষর করবে বাংলাদেশ। এ উপলক্ষে গতকাল প্রবাসীকল্যাণ ভবনে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ।

মন্ত্রী বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য চার বছর পর উন্মুক্ত হচ্ছে। রোববার এ বিষয়ে দেশটির সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সম্প্রতি গ্রিসের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি আগ্রহপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

তিনি আরো বলেন, মালয়েশিয়ার বাজার নিয়ে অতীতে অনেক কিছু হয়েছে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পর অতীতকে দূর করার চেষ্টা করছি। আমি সফল হব কি হব না সেটা নির্ভর করবে সমঝোতা স্বাক্ষরের পর। তবে আমার আগের যে প্রতিশ্রুতি ছিল সেটা এখনো আছে। আমি কোনো সিন্ডিকেটের পক্ষপাতী না।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, মালয়েশিয়ার বাজার চালু হলে বিএমইটির ডাটাব্যাংক থেকে কর্মী পাঠানো হবে। শুধু মালয়েশিয়া না, অদূর ভবিষ্যতে সব কর্মী ডাটাব্যাংক থেকে যাবে। মালয়েশিয়া দিয়ে সেটা শুরু হবে বলে আশা করছি।

দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকার পর ১০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে অনুমোদন দেয় মালয়েশিয়া। বাংলাদেশ থেকে সব পেশার শ্রমিক নেয়ার অনুমোদন দিয়েছে দেশটি। বিশেষ করে গৃহকর্মী, বাগান, কৃষি, উৎপাদন, পরিষেবা, খনি ও খনন এবং নির্মাণ খাতে বাংলাদেশী কর্মী নেবে দেশটি।

সংবাদ সম্মেলনে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. হামিদুর রহমান, বিএমইটি মহাপরিচালক শহীদুল আলমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

একইভাবে আলবেনিয়া, মাল্টা ও বসনিয়ার সঙ্গে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া বর্তমানে নতুন শ্রমবাজার হিসেবে কম্বোডিয়া, উজবেকিস্তান, পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, রোমানিয়াসহ আফ্রিকা মহাদেশের কয়েকটি দেশ এবং জাপান, চীন, ক্রোয়েশিয়া, সেনেগাল, বুরুন্ডি, সিশেলস প্রভৃতি দেশে কর্মী পাঠানো শুরু হয়েছে।

২০১৮ সালে মালয়েশিয়ার ক্ষমতায় ফিরে মাহাথির মোহাম্মদ সরকার নাজিব রাজাকের আমলে সই হওয়া জিটুজি প্লাসে কর্মী নিয়োগে ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এরপর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়। গত তিন বছরে কয়েকবার মালয়েশিয়ার বাজার খোলার খবর শোনা গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেও কর্মী নিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনা হয়। তখন মালয়েশিয়ার প্রস্তাব ছিল সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০টি এজেন্সি কর্মী পাঠাবে। বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল কমপক্ষে ২৫০-৩০০ এজেন্সিকে যুক্ত করার। ইমরান আহমদ বলেছেন, তিনি আশা করছেন এবার এমওইউ সই হলে সব এজেন্সিই কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে, সিন্ডিকেট হবে না।  

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)