news format 3 copy 2

সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে রেলওয়ে গেইট কিপারদের অনশন করতে হবে কেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি আদেশ অনুসারে বাংলাদেশ রেলওয়ের মান—উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের ১৮৮৯ জন গেইট কিপারের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থায়ীকরণ হওয়ার কথা থাকলেও আজ তাদের সে ন্যায্য দাবি আদায়ে দিনের পর দিন অনশন কর্মসূচি পালনের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কাছে সদুত্তর প্রত্যাশা করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটি।

মঙ্গলবার, ৮ মার্চ ২০২২ দুপুরে সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রশ্ন তোলেন রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ মনিরুজ্জামান মনির।

মনিরুজ্জামান মনির বলেন, গত ০৩/০৫/২০০৩ খ্রি. তারিখে তৎকালীন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সরকারি আদেশ মপবি/কঃবিঃশাঃ/কপগ—১১/২০০১—১১১ এর ৫নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে “বর্তমানে রাজস্বখাতে অস্থায়ীভাবে সৃষ্ট পদ ৫ (পাঁচ) বছর এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরিত পদ ৩ (তিন) বছর পর স্থায়ী করার যে বিধান রয়েছে তা রহিত করে রাজস্ব খাতে অস্থায়ীভাবে সৃষ্ট এবং উন্নয়ন প্রকল্প থেকে রাজস্বখাতে স্থানান্তরিত উভয় ধরণের ৩ (তিন) বছর পর স্থায়ী করা যাবে।” ইতোমধ্যে আমরা দেখতে পেয়েছি গত প্রায় ২০ বছর যাবত রেলওয়েতে অস্থায়ী ভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হাজার হাজার শ্রমিক এ আদেশের উপর ভিত্তিতে করে মহামান্য আদালতের আদেশের মাধ্যমে তাদের নিজেদের চাকরি স্থায়ীকরণ সম্পন্ন করেছেন। যে আদেশ দ্বারা আদালতের রায়ে রেলওয়ে কতৃর্পক্ষ অস্থায়ী শ্রমিক চাকরি স্থায়ীকরণ করছে, সেই সরকারি আদেশের পূর্ণ বাস্তবায়ন করলে শ্রমিকদের তো আর আন্দোলন—সংগ্রাম বা আদালতের আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন হয় না।

তিনি বলেন, সরকারি আদেশকে আইনে রূপান্তর করে সংশোধিত নিয়োগ বিধিমালাতে সংযুক্ত করে সাবটিটিউড, টিএলআর/অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ অব্যাহত রাখলে, রাজস্ব পদের বিপরীতে অবসর বা মৃত্যু বা দীর্ঘ সময়ের অনুপস্থিত ছুটির ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধানের অনুমোদনক্রমে বিকল্প বা অস্থায়ী কর্মচারী নিয়োগ করলে স্থায়ী নিয়োগ পেতে আদালতে আশ্রয় বা আন্দোলন সংগ্রামের কোন প্রয়োজন হবে না। বিভাগীয় প্রধানের অনুমোদনে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রেলওয়ে নিয়োগের নিয়ম মেনে একক পদে পরপর তিন বছর টিএলআর/অস্থায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করা কর্মচারীদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ প্রদান করতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের মান উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নং—৪৭০ ই/গেইট কিপার নিয়োগ/প্রকল্প/সিই পূর্ব—২০১৬ (ডব্লিউ) তারিখ: ৩১/১০/২০১৬ইং, বিজ্ঞপ্তি নং—এসেট ৬০১/৫ (নিয়োগ) প্রকল্প সিই/পশ্চিম ২০১৬ (ডব্লিউ) তারিখ: ১৫/১০/২০১৬ইং মোতাবেক ১৮৮৯ জন গেইট কিপার অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োজিত আছে। ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর একনেক সভায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের কর্মরত গেইট কিপারদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর করে চাকরি স্থায়ী করণে রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জরুরী ভিত্তিতে উদ্যোগ গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন। কিন্তু রেলপথ মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত দৃশমান কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। গেইট কিপারদের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও সরকারি আদেশ বাস্তবায়নে গেইট কিপারদের অনশনের মতো কঠোর কর্মসূচি পালন করতে হচ্ছে।

রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি বলেন, গত ১০ দিন ধরে কমলাপুর রেলওয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে খোলা আকাশের নিচে গেইট কিপাররা অনশন চালিয়ে আসলেও এখনো পর্যন্ত রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের বিবেক জাগ্রত হয়নি। ইতোমধ্যে শতাধিক গেইটকিপার অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এমনকি আন্দোলনকারী বাবার সাথে এসে ১ বছরের শিশু মারিয়াকে হাসপাতালে যেতে হয়েছে। কিন্তু রেলপথ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি মেনে নেয়ার কোন সুর্নিদিষ্ট ঘোষণা আসেনি। আমরা অবিলম্বে গেইট কিপারদের ন্যায্য দাবি—দাওয়া মেনে নিতে রেলপথমন্ত্রীকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)