গ্যাসের দাম বাড়লে হুমকিতে পড়বে দেশীয় সিরামিক শিল্প
নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরামিক শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করা হয় গ্যাসকে। দেশের শিল্প খাতে গত ১০ বছরে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় শতভাগ। পণ্য উৎপাদন ব্যয়ের ১০-১১ শতাংশই গ্যাসের জন্য বরাদ্দ থাকে। ফলে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে তার প্রভাব পড়ে এ শিল্পের উৎপাদিত পণ্যের ওপর। এরই মধ্যে সরকারের কাছে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে দেশের ছয়টি গ্যাস কোম্পানি। যাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)। সংগঠনটি বলছে, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেলে প্রতিযোগিতার বাজারে হুমকিতে পড়বে দেশীয় সিরামিক শিল্প।
সোমবার (১৫ মার্চ) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় বিসিএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লার সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন, উপদেষ্টা কুতুব উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মইনুল ইসলাম, পরিচালক রাশেদ মাইমুনুল ইসলাম ও আব্দুল হাকিম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিসিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের সিরামিক শিল্পে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার কোটি টাকা। এ খাত থেকে বার্ষিক প্রায় ৪০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। শিল্পে প্রত্যক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় ৫৩ হাজার। পরোক্ষ চার লাখের বেশি। সিরামিক খাতটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত। দেশে টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারিওয়্যারে ৭০টি কারখানা রয়েছে। এর উৎপাদন গ্যাসচালিত হওয়ায় অন্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ নেই। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন খরচ ও পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাবে। এতে করে দেশীয় এ শিল্প বিদেশী পণ্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। এতে করে আমদানিনির্ভর হয়ে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে। এ খাতের ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ জড়িত সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যে কারণে সরকারের উচিত শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি না করা।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্যাসের মূল্য ২০১৯ সালে শিল্প খাতে ৩৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১১৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় ১০-১২ শতাংশ পর্যন্ত। ২০১৭ সালে শিল্প খাতে ১৫ দশমিক ১৩ শতাংশ ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৫ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় ৫-৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে শিল্প খাতে ১৫ শতাংশ ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১০০ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে ৩-৪ শতাংশ। বর্তমানে শিল্প খাতে ১১৫ দশমিক ৯৮ ও ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১১৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাব পাস হলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাবে ১৮-২০ শতাংশ।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//



