সংবাদ সম্মেলনে টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী
`দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের সংকট নেই, আগামীতেও হবে না'
নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা (এসডিজি) ২০২৫ সালের মধ্যে ইন্টারনেট খরচ মাথাপিছু আয়ের ২ শতাংশের নিচে হতে হবে। বাংলাদেশে মাসিক ইন্টারনেট খরচ মাথাপিছু আয়ের ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ২০২১ সালেই এ লক্ষমাত্রা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের সংকট নেই এবং আগামীতেও হবে না বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।
ইন্টারনেটের দাম কমায় বাংলাদেশ এসডিজির লক্ষ্য অর্জন করেছে। এ উপলক্ষে সোমবার বিকেলে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা জানান। এ সময় চাহিদা বৃদ্ধির দিকে খেয়াল রেখে ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী জানান।
ইন্টারনেটের দামে (এক দেশ এক রেট) জাতিসংঘের ব্রডব্যান্ড কমিশনের লক্ষ্য অর্জন করায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আরো জানানো হয়, ২০২১ সালে ইন্টারনেটের দামের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক টেলিকম ইউনিয়ন (আইটিইউ) ও অ্যালায়েন্স ফর অ্যাফোর্ডেবল ইন্টারনেটের (এফোরএআই) গত ১৭ মার্চ প্রকাশিত ‘দ্য অ্যাফোর্ডেবিলিটি অব আইসিটি সার্ভিসেস ২০২১’ নামে বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্জনটি প্রকাশিত হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশসহ ৪টি দেশ লক্ষ্যপূরণ করতে পেরেছে। অন্য তিনটি দেশ হলো- ভূটান, মিয়ানমার ও নেপাল।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব খলিলুর রহমান, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যামসুন্দর সিকদার, টেলিযোগাযোগ ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ-টিআরএনবির সভাপতি রাশেদ মেহেদী, সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবিন এবং ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি ইমদাদুল হক।
ইন্টারনেটের দামে এসডিজির লক্ষ্যপূরণে পথযাত্রা সংক্রান্ত তথ্য উপস্থাপন করেন বিটিআরসির মহাপরিচালক (এসএস) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসিম পারভেজ।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী বলেন, ইন্টারনেটের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের রূপরেখার অন্যতম লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশ সেই লক্ষ্য অর্জন করেছে ইন্টারনেটের দামের ক্ষেত্রে ‘এক দেশ এক রেট’ নীতি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে। স্বাধীনতার মাসে ইন্টারনেটের দাম কমানোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘের স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করেছে বাংলাদেশ। এটা দেশের জন্য বড় অর্জন।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের সংকট হবে না। কারণ বর্তমানে ব্যান্ডউইথের যে সক্ষমতা আছে এবং যে হারে চাহিদা বাড়ছে, তা দিয়ে ২০২৫ সাল পর্যন্ত কোনো সমস্যা হবে না। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ সি-মিই-উই-৬ সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হবে, ফলে তখন সক্ষমতা আরো অনেক বেড়ে যাবে। যে কারণে চাহিদা অনেক বাড়লেও যোগানের কোনো ঘাটতি হবে না।
তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারির সময়ে যখন ব্যান্ডউইথের ব্যবহার এক হাজার জিবিপিএস থেকে বেড়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে গেল, তখনও কোনো সংকট হয়নি, বিষয়টি টেরও পাওয়া যায়নি। এর কারণ ছিল বাংলাদেশের চাহিদার সঙ্গে ব্যান্ডউইথ সক্ষমতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা ছিল।
ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব বলেন, একটা সময়ে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও তা মিস করত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশ কোনো সুযোগই মিস করেনি। যে কারণে বাংলাদেশ সময় মতো সি-মিই-উই-৫ সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হয়েছে এবং সি-মিই-উই-৬ সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী দিনে আমাদের ব্রডব্যান্ডের যে চাহিদা হবে, তা মেটানোর সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। ২০২৪ সালের শেষ দিকে বা ২০২৫ সালের শুরুর দিকে দেশ তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত হবে। তার আগে যে চাহিদা হবে তা দুটি সাবমেরিন ক্যাবল দিয়ে পূরণ করা যাবে। এছাড়াও ব্যাক-আপের ব্যবস্থা আছে। ফলে ইন্টারনেটের কোনো সমস্যা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিটিআরসির চেয়ারম্যান শ্যাম সুন্দর সিকদার বলেন, বিটিআরসি সীমিত জনবল নিয়েও সফলভাবে ইন্টারনেটের দামের ক্ষেত্রে এক দেশ এক রেট নীতি বাস্তবায়ন করেছে। এখন বিটিআরসি গুণগত মানসম্পন্ন টেলিযোগাযোগ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। ব্যবহারকারীর স্বার্থই বিটিআরসির কাছে প্রধান।
অনুষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে পুরো বিষয়টি তুলে ধরেন বিটিআরসির সিস্টেম অ্যান্ড সার্ভিস বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ। তিনি বলেন, এখন চ্যালেঞ্জ হলো এই দামটা যেন মেনটেইন করা হয়। কোনোভাবেই যেন দামটা বেড়ে না যায়।
টিআরএনবি সভাপতি রাশেদ মেহেদী বলেন, বাংলাদেশে এখনো ইন্টারনেট মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত নয়। ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য সরকারের সংশ্নিষ্টদের উদ্যোগ নেয়া উচিত।
এক দেশ এক রেট আইএসপিদের পাশাপাশি ট্রান্সমিশন সেবাদাতা এনটিটিএন এবং ইন্টারনেটের পাইকারি বিক্রেতা আইআইজিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন আইএসপিএবি সভাপতি ইমদাদুল হক।
দেশে বর্তমানে ৩৪৪০ জিবিপিএস (গিগাবিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে বলেও জানানো হয় অনুষ্ঠানে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



