Benapole Customs

বেনাপোল কাস্টমসে রাজস্ব ঘাটতি ৬০৮ কোটি টাকা

বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: বেনাপোল কাস্টম হাউজে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ হাজার ৮৯৪ কোটি টাকা। এর বিপরীতে আদায় হয়েছে ৩ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা। সেই হিসেবে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে ৬০৮ কোটি টাকা। বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যমতে, চলতি অর্থবছর আমদানি পণ্য থেকে ৬ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে বেনাপোল বন্দরে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬ হাজার ২৪৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। অর্থবছর শেষে সে সময় আদায় হয় ৪ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা। বছরটিতে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হলেও ঘাটতি ছিল ২ হাজার ১০০ কোটি টাকার মতো। এছাড়া ২০১৯-২০ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৩৯২ কোটি টাকা। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ বেশি। তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় ব্যবসায়ীরা চাহিদামতো পণ্য আমদানি করতে পারেন না। এতেই বার বার রাজস্ব আয়ে ধস নামছে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক জামাল হোসেন বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর করোনা পরিস্থিতি বেশ ভালো। এখন রেলের যন্ত্রাংশ আমদানি বেশি হচ্ছে। যে কারণে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে রাজস্ব আদায়ের চিত্র ভালো। তবে সুষ্ঠুভাবে বাণিজ্য সম্পাদনে অবকাঠামো উন্নয়ন না হওয়ায় ক্ষোভ রয়েছে ব্যবসায়ীদের। ভারতীয় ব্যবসায়ীরাও বেনাপোল বন্দরের অব্যবস্থাপনা নিয়ে অনেকবার বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে বাণিজ্য বন্ধ করেছেন। আবার ভারতের কালীতলায় অবৈধভাবে পার্কিংয়ের নামে বাংলাদেশী ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বাংলাদেশী ব্যবসায়ীরা। যে কারণে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছেড়ে চলে গেছেন। বেনাপোল বন্দর উন্নয়ন, ভারতে হয়রানি বন্ধ হলে এ বন্দর থেকে লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ রাজস্ব আয় কাস্টমসের পক্ষে সম্ভব।

একই কথা জানান বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক। তিনি জানান, বড় অংকের রাজস্ব আদায় অনিশ্চিত। কারণ নানা অব্যবস্থাপনায় আমদানি কমেছে এ বন্দর দিয়ে। বেনাপোল কাস্টমসে আমদানি পণ্যের গুণগতমান পরীক্ষণে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেই। এতে খুলনা ও ঢাকা থেকে পরীক্ষা করাতে মাসের অধিক সময় লেগে যায়। ফলে দীর্ঘসময় পণ্য চালান আটকা পড়ে ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। বেনাপোল কাস্টম হাউজে বিএসটিআই ও বিসিএসআইআরের শাখা স্থাপনের দাবি আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এতে অনেক ব্যবসায়ী এ বন্দর ছেড়েছেন।

ব্যবসায়ীরা যেখানে সুবিধা পাবেন, সে পথে বাণিজ্যে আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন ভারত-বাংলাদেশ ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক সুবিধা বিদ্যমান। তাই ব্যবসায়ী দিন দিন সে পথে আমদানিতে ঝুঁকছেন। বেনাপোল বন্দর দিয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হলে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে কাস্টমস ও বন্দরে বৈধ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে ব্যবসায়ীরা এ পথে আবার ফিরবেন।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, শুধু ভারতের কালীতলায় অবৈধভাবে আমদানিবাহী গাড়ি আটকে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এতে আমদানিকারকরা অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। আবার আমদানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বেনাপোল বন্দরে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় বাণিজ্য সম্প্রসারণ হচ্ছে না। এতে কয়েক বছর ধরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তার পরও চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে আমরা গত বছরের চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় করেছি।

বন্দরের অবকাঠামোসহ অন্যান্য উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল বলেন, ইতোমধ্যে বন্দরে ৩৬৫টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। এতে নিরাপত্তা বাড়বে। বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়নে অনেকগুলো পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে পণ্যাগারের জন্য জমি অধিগ্রহণ, নতুন পণ্যাগার নির্মাণ ও বন্দর এলাকায় রাস্তাঘাটের অনেকটা উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। এছাড়া বন্দরে আরো জমি অধিগ্রহণ ও পণ্যের নিরাপত্তায় সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এসব উন্নয়নকাজ সমাপ্ত হলে এ বন্দরে বাণিজ্যের গতি আরো বাড়বে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)