tccb

টিসিবিতে সরকারের ভর্তুকি সাড়ে ছয়শো কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে জেলায় জেলায় ন্যায্যমূল্যে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ক্ষেত্রে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ৬৫৩ কোটি টাকা।

টিসিবির তথ্য থেকে জানা যায়, বর্তমান বাজার দরে ৫টি পণ্য (সয়াবিন, চিনি, মসুর ডাল, ছোলা ও খেজুর) কিনতে টিসিবির খরচ হয়েছে ১ হাজার ৫৪২ কোটি ৪৯ লাখ ৬৭ হাজার ৪৪০ টাকা। এই পণ্য বিক্রি করে মাস শেষে টিসিবির আয় হবে ৯৪৯ কোটি ৯৫ লাখ ৪ হাজার ১০ টাকা। এতে ঘাটতি দাঁড়াবে ৬৫৩ কোটি ৭৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪৩০ টাকা। এই ঘাটতিই সরকার ভর্তুকি হিসেবে বহন করবে।
 
উল্লেখ্য, গত মাসের ২০ তারিখ থেকে ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ১ কোটি পরিবারের মাঝে পণ্য বিক্রি শুরু করে টিসিবি। পণ্য বিক্রি শুরুর পর টিসিবির সার্বিক আর্থিক ব্যয়সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য উঠে আসে।
 
এ ছাড়াও চলতি মাসের ৪ তারিখে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আরিফুল হাসান স্বাক্ষরিত এই হিসাব বিবরণী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।
 
প্রতিবেদনের হিসাব বিবরণীতে নির্ধারিত পাঁচ পণ্যের মধ্যে কোন পণ্য কী দামে কেনা হয়েছে, তা উপকারভোগীর কাছে কী দামে বিক্রি করা হচ্ছে, তার থেকে পাওয়া সম্ভাব্য অর্থের পরিমাণ কত, ঘাটতিজনিত সরাসরি ভর্তুকি কত যাচ্ছে, তা উল্লেখ করা হয়েছে।
 
টিসিবির এই কার্যক্রমের আওতায় ২০ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম পর্বে ১ কোটি উপকারভোগী পরিবারের মাঝে ১১০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৫৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি চিনি, ৬৫ টাকা কেজি দরে দুই কেজি মসুর ডাল বিক্রি করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে ৩ এপ্রিল থেকে এসব পণ্যের সঙ্গে ৫০ টাকা কেজি দরে দুই কেজি ছোলা যুক্ত হয়, যা ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে।

প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ১ কোটি পরিবারের জন্য দুই দফায় চার লিটার সয়াবিন সরবরাহের জন্য টিসিবিকে ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫৯ হাজার ৫৬২ লিটার সয়াবিন কিনতে হয়েছে। প্রচলিত বাজারের দাম ১৬০ টাকা হারে এতে মোট খরচ পড়েছে ৬২৯ কোটি ৬৮ লাখ ৯ হাজার ৪৪০ টাকা। কিন্তু এই সয়াবিন বিক্রি করে উপকারভোগীদের কাছ থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ হলো মাত্র ৪১৪ কোটি ৩২ লাখ ৫৪ হাজার ১০ টাকা। এতে ভর্তুকি গুনতে হচ্ছে ২১৫ কোটি ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার ৪৩০ টাকা।
 
এভাবে ৪০ হাজার টন চিনি কেনায় খরচ পড়েছে ৩১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ভোক্তা পর্যায়ে পাওয়া বিক্রিত অর্থের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকা। এতে ভর্তুকি যাচ্ছে ১১৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা।
 
৪০ হাজার টন মসুর ডাল কেনায় খরচ ৪৩১ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা। বিক্রীত অর্থের পরিমাণ ২৪০ কোটি টাকা। এতে ভর্তুকি দিতে হবে ১৯১ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার টাকা।
 
২০ হাজার টন ছোলা কেনায় খরচ পড়েছে ১৫৫ কোটি ৬১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। বিক্রি করে পাওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে মাত্র ৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ছোলায় ভর্তুকি যাবে ৬৫ কোটি ৬১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা।
 
এ ছাড়া কার্যক্রমের আওতায় খেজুর কেনা হয়েছে ৭৫০ টন। এতে খরচ হয়েছে ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। উপকারভোগীর কাছে বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ৫ কোটি ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। খেজুরে ভর্তুকি যাচ্ছে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা।
 
অন্যান্য খরচের মধ্যে টিসিবির মাধ্যমে সারা দেশে পণ্য বিক্রির জন্য উপকারভোগী বাছাইয়ে স্থানীয়ভাবে জরিপ পরিচালনা করা হয়। এই জরিপকাজে মোট খরচ পড়েছে ১০ কোটি টাকা। এরপর উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয় ফ্যামিলি কার্ড। ১ কোটি পরিবারের জন্য এই ফ্যামিলি কার্ড তৈরিসহ জেলা প্রশাসনের গুদামে পণ্য প্যাকেজিংয়ে খরচ হয়েছে মোট ২৫ কোটি টাকা। আন্তঃগুদাম পরিবহনে খরচ হয়েছে ১০ কোটি টাকা।
 
এ ছাড়াও কার্যক্রম শুরুর পর শেষ হওয়া পর্যন্ত তিন মাসের গুদাম ভাড়াজনিত খরচ ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গুদাম থেকে ট্রাক এবং ট্রাক থেকে গুদামে পণ্য লোড-আনলোড করতে খরচ ধরা হয়েছে আরও ১৩ কোটি টাকা।

বিনিয়োগবার্তা/এসএল//


Comment As:

Comment (0)