মাথাপিছু আয় ২৮২৪ ডলার, জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৭.২৫%
নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২১-২২ অর্থবছরের শেষে মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে হবে ২ হাজার ৮২৪ ডলার, যা টাকার হিসাবে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৭০ টাকা। অর্থাৎ চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী মাথাপিছু আয় এক বছরের ব্যবধানে ২৩৩ ডলার বেড়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত অর্থবছর শেষে ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক বিশ্লেষণ করে মাথাপিছু আয় ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির সাময়িক হিসাব প্রাক্কলন করেছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে বিবিএসের এসব তথ্য উপস্থাপন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেন, করোনার এ পরিস্থিতিতে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হার অনেক ভালো। মার্চ পর্যন্ত ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ হলে জুন শেষে তা আরো বাড়বে। এমনকি ৭ দশমিক ৫ শতাংশও হতে পারে। আগামী সেপ্টেম্বর নাগাদ জিডিপির চূড়ান্ত হিসাব পাওয়া যাবে।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ড. শামসুল আলম বলেন, করোনা থেকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পুরোপুরি হয়নি। বিভিন্ন সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। গত দুই বছরে আমাদের রেমিট্যান্স বেড়েই চলেছে। রফতানি আয় অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো। মূলধনি যন্ত্রপাতির আমদানি বাড়ছে। আমরা আশা করছি বছর শেষে আমাদের প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ২৫ শতাংশের বেশি হতে পারে।
চলতি বছর শেষে জিডিপির আকার বেড়ে দাঁড়াবে ৪৬৫ বিলিয়ন ডলারে। গত ২০২০-২১ অর্থবছরে জনপ্রতি আয় ছিল ২ হাজার ৫৯১ ডলার বা ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৩৮ টাকা। প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ, জিডিপির আকার ছিল ৪১৬ বিলিয়ন ডলার। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। এছাড়া সেই অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৩৭৪ বিলিয়ন ডলার।
কৃষি খাত: সার্বিক বিবেচনায় ২০২১-২২ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে কৃষি খাতের ২ দশমিক ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে শস্য উপখাতে ১ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ, পশুপালন উপখাতে ৩ দশমিক ১০, বন উপখাতে ৫ দশমিক শূন্য ৮ এবং মৎস খাতে ২ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
শিল্প খাত: ২০২১-২২ অর্থবছরের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের প্রবৃদ্ধি পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১২ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রাক্কলন করা হয়েছে। সাময়িক হিসাবে বিদ্যুৎ খাতে ৭ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং নির্মাণ খাতে ৮ দশমিক ৯৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে শিল্প খাতে গত অর্থবছরের তুলনায় ২০২১-২২ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৪৪ ভাগ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
সেবা খাত: ২০২১-২২ অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা খাতে ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, যানবাহন খাতে ৫ দশমিক ৭০, ব্যাংক ও বীমা খাতে ৭ দশমিক ৬০, শিক্ষা খাতে ৬ দশমিক ২৩ ও স্বাস্থ্য খাতে ৯ দশমিক ৭৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে। সার্বিকভাবে সেবা খাতে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



