উৎপাদন বৃদ্ধি ও মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক: বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা এবং দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি ও খাদ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে দেশবাসীকে উৎপাদন বাড়ানো ও মিতব্যয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি মিলনায়তনে গতকাল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ পরামর্শ দেন।
সভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ সারা বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশের মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলেছে। ইউরোপের অনেক দেশ আছে যেখানে ১৭ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। জার্মানির মতো জায়গায় ভোজ্যতেলের অভাব দেখা দিয়েছে। একমাত্র অলিভ অয়েল ছাড়া কিছুই পাওয়া যাচ্ছে না। ইংল্যান্ডের মতো জায়গায় জ্বালানি তেল নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। এক লিটারের বেশি কেউ নিতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে উঠে গিয়েছে। ১০ শতাংশে উঠে যাবে। ১ ডলারের ডিজেল-পেট্রলের দাম ৪ ডলারে উঠেছে।
তিনি বলেন, অনেক জায়গায় এখন মানুষের একবেলা খেতেই কষ্ট হচ্ছে। সমগ্র বিশ্বেই এখন এ অবস্থা বিরাজমান। সরকার এ দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম হলেও আমদানিনির্ভর পণ্যমূল্যের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়বেই। কারণ উৎপাদন যেমন কমেছে, তেমনি শিপমেন্ট ব্যয় বেড়ে গিয়েছে। যে কারণে দেশের ভেতর একটু মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, সবাইকে আমি এটুকু অনুরোধ করব সবাই যদি একটু সাশ্রয়ী হন, মিতব্যয়ী হন বা সবকিছু ব্যবহারে সবাই যদি একটু সতর্ক হন, তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। সমালোচকরা সমালোচনা করবেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্য যে বেড়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সেটা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে হবে।
বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর প্রতি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা দেন। অর্থ ও সম্পদ ব্যয়ের বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বনেরও নির্দেশনা দেন তিনি। একই সঙ্গে জাতির পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আসন্ন বাজেট ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, আমরা এ প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও বাজেট দিতে যাচ্ছি এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আজকে অনুমোদন দেব। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা এখানে রয়েছেন; পরিকল্পনা কমিশনের যারা রয়েছেন, তাদের অনুরোধ করব আমরা আপনাদের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির প্রকল্প অনুমোদন করে দেব। কিন্তু এগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আপনাদের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে। যেটা দেশের জন্য একান্তভাবে প্রয়োজন, এ মুহূর্তে আমরা শুধু সেগুলোই বাস্তবায়ন করব।
তিনি বলেন, টাকা খরচের ক্ষেত্রে এবং সব ক্ষেত্রেই আমাদের অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে। অহেতুক আমাদের সম্পদ যেন আমরা নষ্ট না করি। সেগুলো আমাদের সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা যদি খুব ভালোভাবে হিসাব করে চলতে পারি, তাহলে আমাদের দেশের কোনো সমস্যা হবে না, এটা আমি বিশ্বাস করি।
প্রসঙ্গত, গতকাল ছিল আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৪১তম ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে নির্মমভাবে নিহত হন। এ সময় তার দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা প্রবাসে থাকায় ঘাতকদের হাত থেকে রেহাই পান। পরে ১৯৮১ সালের ১৪-১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিল অধিবেশনে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাকে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। এরপর ছয় বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে ওই বছরের ১৭ মে তিনি দেশে ফিরে আসেন।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



