ca1

দশম পণ্য হিসেবে জিআই সনদ পেল বাগদা চিংড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দশম পণ্য হিসেবে বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) সনদ পেয়েছে বাগদা চিংড়ি। সম্প্রতি পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর এ স্বীকৃতি দিয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সংস্থাটির ডেপুটি রেজিস্ট্রার বেলাল হোসেন জানান, যাছাই বাছাই শেষে বাগদা চিংড়িকে জি আই সনদ দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য অধিদফতরের কাছে জিআই সনদ হস্তান্তর করা হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বাগদা চিংড়িকে বাংলাদেশের বিশেষায়িত পণ্য হিসেবে তুলে ধরতে ২০১৯ সালে ৪ জুলাই মাসে মৎস্য অধিদফতরের জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে যাছাই বাছাই শেষে ২০২১ সালের ৬ অক্টোবর জার্নাল প্রকাশ করে পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর।

নিয়ম অনুসারে জার্নাল প্রকাশের দুই মাসের মধ্যে কেউ আপত্তি না করলে সেই পণ্যের জিআই সনদ দেওয়া হয়। বাগদা চিংড়ির ক্ষেত্রে এ সময়সীমা গেল ৬ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কেউ আপত্তি না করায় এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ১০০ বছর আগে বাংলাদেশের সুন্দরবন এলাকায় কালো ডোরাকাটা বাগদা চিংড়ির চাষ শুরু হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের ব্ল্যাক টাইগার চিংড়ির উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বাণিজ্যিক ও রফতানিমুখী একটি কার্যক্রমে পরিণত হয়েছে। চিংড়ি চাষের এলাকাও বিপুলভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বিগত ১৯৮৩-৮৪ সালের ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হতো। ১৯৯৫-৯৬ সালে এ এলাকা বেড়ে এক লাখ ৪০ হাজার হেক্টর এবং ২০১৫-১৬ সালে প্রায় ২ লাখ ৭ হাজার হেক্টরে দাঁড়িয়েছে।

একই সময়ে দেশের চিংড়ি উৎপাদনের পরিমাণও বেড়েছে। ১৯৮৩ সালে দেশে উৎপন্ন ব্ল্যাক টাইগার চিংড়ির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২২০ মেট্রিক টন, যা ১৯৯৫-৯৬ সালে ৫৭ হাজার মেট্রিক টন এবং ২০১৬-১৭ সালে ৬৮ হাজার ৩০৬ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোয় বাগদা চিংড়ি চাষ হয়। চিংড়ি উৎপাদনকারী এলাকাগুলোয় ও চিংড়ি খামারের অধিকাংশই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুলনা, বাগেরহাট  ও সাতক্ষীরা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় কক্সবাজার জেলার উপকূলীয় অঞ্চলে অবস্থিত। 

উল্লেখ্য, জিআই হচ্ছে একটি প্রতীক বা চিহ্ন। এটি পণ্য ও সেবার উৎস, গুণাগুণ ও সুনাম ধারণ ও প্রচার করে। কোনো দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ যদি কোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে বিশেষ কোনো গুরুত্ব রাখে, সেই দেশের সংস্কৃতির সঙ্গে যদি বিষয়টি সম্পর্কিত হয়, তাহলে সেটাকে সে দেশের ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

বিনিয়োগবার্তা/এসএল//


Comment As:

Comment (0)