BD USA

ঢাকা-ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক সংলাপ বৃহস্পতিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়াশিংটনে আজ উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপে বসবে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র। সংলাপে শ্রমিকের কর্মপরিবেশ ও ট্রেড ইউনিয়ন বিষয়ে আলোচনা করবে দুই দেশ। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, ডিজিটাল খাতসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অর্থনৈতিক সংলাপে উভয় দেশের সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা চারটি সেশনে আলোচনা করবেন। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত এ ধরনের অর্থনৈতিক সংলাপ জোরদার ও সফর বিনিময়েও বেশ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মার্কিন কৌশলগত উদ্যো ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে (আইপিএস) বাংলাদেশ যুক্ত হলে দেশটির কাছ থেকে ঠিক কী কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে, সংলাপে ঢাকার পক্ষ থেকে সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হবে।

সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হোসে ডব্লিউ ফার্নান্দেজ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সংলাপের প্রথম সেশনে তৈরি পোশাক খাতের টেকসই সরবরাহ প্রক্রিয়া, ওষুধ শিল্প, কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, তুলা আমদানি, নারীর ক্ষমতায়ন, পরিবেশ, আইটি, টেলিকম ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের বিষয়টি তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় সেশন শ্রমিকদের অধিকার ও শ্রম পরিবেশ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মান অনুযায়ী এ খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং জিএসপি (জেনারালাইজড সিস্টেম অব প্রেফারেন্স ট্রেড বেনিফিট বা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা) ও ডিএফসি (ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন বা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ আর্থিক তহবিলের সহায়তা) নিয়ে আলোচনা হবে।

তৃতীয় সেশনে স্বাস্থ্য, জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রযুক্তি স্থান পাবে। চতুর্থ সেশন ব্লু-ইকোনমি ও মার্কিন উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক বাংলাদেশের যুক্ততা ও সুবিধা সম্পর্কে জানতে চাইবে বাংলাদেশ।

অর্থনৈতিক সংলাপ প্রসঙ্গে গত মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বলেছেন, উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপে উভয় দেশের মধ্যে শ্রম অধিকার গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা পাওয়া ও উন্নয়ন বিষয়ক তহবিল থেকে আর্থিক সুবিধা পেতে হলে পূর্ণাঙ্গ শ্রম অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বাস্তবায়ন করতে হবে।

সংলাপ নিয়ে এক টুইট বার্তায় স্টেট ডিপার্টমেন্টের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, জ্বালানি ও পরিবেশ বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হোসে ডব্লিউ ফার্নান্দেজ বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করতে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকারবদ্ধ। এরই মধ্যে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে।

জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। আবার উত্তর আমেরিকার দেশটি এ দেশে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক যেমন গভীর আবার কিছু বিষয় নিয়ে ভিন্নমত ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ অবস্থায় শ্রম খাতে বাংলাদেশ যেন আরো কর্মীবান্ধব হয় এমনটাই চায় যুক্তরাষ্ট্র। আর বাংলাদেশ চায় তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, ডিজিটালসহ সামগ্রিক অর্থনীতির বিনিয়োগ।

এদিকে গত ১৮ মে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের অর্থনৈতিক সংলাপের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র তাদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা যেসব সমস্যা চিহ্নিত করেছে, বিশেষ করে শ্রম বিষয় বা ট্রেড ইউনিয়ন নিয়ে, সেগুলো হয়তো আলোচনা করা হবে। সে সময় তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রস্তুতি চলছে। আমরা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও এ বিষয়ে কাজ করছি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সঙ্গেও কাজ করছি, একটা রোডম্যাপও দিয়েছি। আমাদের কিছু প্রতিশ্রুতি আছে। সেগুলো আমরা ২০২৩ সালের ভেতরে বাস্তবায়নে কাজ করছি। বিভিন্ন দেশ যেসব বিষয় উত্থাপন করে, সেক্ষেত্রে আমাদের করণীয় থাকলে বাস্তবতার আলোকে উদ্যোগ নিই আমরা।’

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, শ্রম অধিকার বিষয়ে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই আলোচনা হয় না, এখানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গেও সরকার আলোচনা করে। কারণ সবাই একই ধরনের উদ্বেগ বা পর্যবেক্ষণ করে। ট্রেড ইউনিয়ন বা সংগঠন করার অধিকার বা ভীতি প্রদর্শন এগুলো তাদের অভিযোগ। কিন্তু এর সবগুলোর সঙ্গেই যে আমরা একমত বিষয়টি সে রকম নয়।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)