Prime Minister7098

নির্বাচনী ইশতেহার বিবেচনা করে বাজেট প্রণয়ন করছি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: দলের নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে প্রতি বছর বাজেট প্রণয়ন করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে আমরা সেটা ভুলে যাই না। প্রতিবার বাজেট ঘোষণার সময় সেই ইশতেহার হাতে নিয়ে কতটুকু অর্জন করতে পারলাম, কতটুকু আমাদের সামনে করতে হবে সেগুলো বিবেচনা করেই বাজেট করি।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সভার শুরুতে সূচনা বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার শুরুতে জাতির পিতা, জাতীয় চার নেতা, ১৫ আগস্টের শহীদ, প্রয়াত উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং সবার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে উন্নয়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। ১৫ আগস্টের পর বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থা দুঃখজনক ছিল। কারণ ক্ষমতা তো জনগণের হাতে ছিল না। ক্ষমতা চলে গিয়েছিল সেই মিলিটারি ডিকটেটরদের হাতে। তিনি বলেন, তারা উর্দি পরে ক্ষমতা দখল করত। যার ফলে দেশের উন্নয়ন না হয়ে তারা তাদের উন্নয়ন করেছে। ১৯-২০টা ক্যু হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি, সেশনজট ছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে এসে জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে, আয় বেড়েছে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে এবং সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে চলছে।

পদ্মা সেতু আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, আপনারা জানেন, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক একটি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থ বন্ধ করে দেয়। এজন্য আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে দোষ দেব না। ঘরের শত্রু বিভীষণই হয়। ড. ইউনূস এ কাণ্ডটি ঘটিয়েছিল, তার গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি পদটার জন্য। সে এমডি পদটি হারিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংকের আইন অনুযায়ী বয়সের জন্য। আইনে আছে ৬০ বছর পর্যন্ত এমডি থাকতে পারে। সে ৭১ বছর পর্যন্ত এমডি ছিল।

তিনি বলেন, একটি ব্যাংক এভাবে বেআইনিভাবে চলতে পারে না। এজন্য ইউনূস আমাদের সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিরুদ্ধে দুটি মামলাও করে। কিন্তু সেই মামলায় সে হেরে যায়। সেজন্য সে প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠে এবং হিলারি ক্লিনটনের মাধ্যমে অর্থাৎ আমেরিকা সরকারকে দিয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের প্রেসিডেন্টকে বাধ্য করে আমাদের পদ্মা সেতুর অর্থ বন্ধ করে দিতে। বিশ্বব্যাংক তার কথায় ফান্ড বন্ধ করে দেয়। পরে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে করি। দেশের ৯০ ভাগ উন্নয়ন নিজস্ব অর্থায়নে করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির প্রশ্ন যখন তোলা হয়েছিল, আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলাম। এটা প্রমাণ করতে পারেনি। কানাডার কোর্ট স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন তাদের সব অভিযোগ মিথ্যা ও ভুয়া। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে দলের জাতীয় সম্মেলন করা হবে বলে উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)