WhatsApp Image 2022-06-05 at 4

নিরাপদ এবং টেকসই পোশাক সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে খ্যাতি ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেছেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প যেসব  অর্জনের জন্য বিশ্বে একটি নিরাপদ ও টেকসই শিল্প হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে - সেই অর্জনগুলোকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে শিল্প দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, “শিল্পের এই অর্জনগুলো আমাদেরকে গর্বিত করার পাশাপাশি আরও বড় স্বপ্ন দেখতে  অনুপ্রাণিত করে। সেই সাথে বিশ্বে বাংলাদেশের সুনাম ধরে রাখতে নিরাপদ এবং টেকসই পোশাক তৈরির গন্তব্য হিসেবে শিল্পের উৎকর্ষতা অব্যাহত রাখার জন্য আমাদেরকে দৃঢ় প্রত্যয়ী করে।”

ফারুকহাসান ০৩ জুন ২০২২ ওএভি-জার্মান এশিয়া-প্যাসিফিক বিজনেস এসোসিয়েশন (OAV – German Asia-Pacific Business Association), জার্মান আমদানিকারকগন, বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং উনচি গ্রুপ (Wünsche Group) এর আয়োজেনে ‘টেকসই এবং স্বচ্ছ সাপ্লাই চেইনের পথে’ বিষয়ক একটি টেক্সটাইল গোলটেবিল আলোচনায় একথা বলেন।

জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, এনডিসি;  বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি মিরান আলী; উনচি গ্রুপের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর অব ফ্যাশন, ক্রিশ্চিয়ান মরিটজ (Christian Moritz), ওএভি (OAV) এর নির্বাহী বোর্ড  সদস্য এলমুট রোয়েসনার (Almut Roessner) ভিএফআই (VFI) এর সিইও ড. মাইকেল আরেটজ (Dr. Michael Arretz), টেড (TEDD) এর  গ্লোবাল ডাইরেক্টর, - ডিউডিলিজেন্স বিষয়ের বিশ্বস্ত বিশেষজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ান ইওয়ার্ট (Christian Ewert) এবং বার্লিনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মোঃ সাইফুল ইসলাম  গোলটেবিল আলোচনায় বক্তব্য প্রদান করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে বিজিএমইএ এর পরিচালক ব্যারিষ্টার ভিদিয়া অমৃত খান, পরিচালক মোঃ ইমরানুর রহমান, পরিচালক নীলা হোসনে আরা এবং বিজিএমইএ এর  স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ফরেন মিশন সেল এর চেয়াম্যান শামস মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান তার বক্তব্যে বলেন,  ‘বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রিন কারখানার আবাসস্থল বাংলাদেশে ইউএসজিবিসি কর্তৃক প্রত্যয়িত ১৬১টি লিড গ্রিন কারখানা রয়েছে, যার মধ্যে ৪৮টি প্ল্যাটিনাম রেটেড এবং ৯৯টি গোল্ড রেটেড, এবং এই গ্রিন কারখানাগুলো পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন এবং প্রচলিত কারখানাগুলোর তুলনায় ৪০ শতাংশ কম কার্বন নির্গমন করে।

বিজিএমইএ জার্মান সরকার কর্তৃক প্রণীত পোশাক শিল্পের পরিবেশ ও সামাজিক মান সংরক্ষণের জন্য গৃহীত উদ্যোগ ‘গ্রিন বাটন’ এর সঙ্গেও যুক্ত হয়েছে এবং কারখানাগুলোকে এই উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার জন্য কাজ করছে। 

তিনি আরও বলেন যে, বিজিএমইএ পোশাক শিল্পে গ্রিন হাউজ গ্যাস ৩০  শতাংশ কমানোর অভিপ্রায় নিয়ে ইউএন ফ্যাশন ইন্ডাষ্ট্রি চার্টার ফর ক্লাইমেট একশন এর সাথে যুক্ত হয়েছে।

তিনি গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহনকারীদের অবহিত করেন যে বিজিএমইএ জিআরআই  (GRI) নির্দেশিকাগুলোর উপর ভিত্তি করে নিজস্ব  “সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্টিং” প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।  আমরা আইএফসি এবং বৈশ্বিক  ব্র্যান্ডগুলোর সাথে যুক্ত হয়েছি এবং পার্টনারশিপ ফর ক্লিনার  টেক্সটাইল প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানি ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে চমৎকার ফলাফল পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে পোশাক শিল্পকে সাসটেইনেবিলিটি এর পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া এবং শিল্পের অগ্রগতি অব্যাহত রাখা।”

তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা শিল্পের সাপ্লাই চেইনে স্বচ্ছতার কথা বলি, তাহলে বলতে হয়  যে এখানে উল্লেখযোগ্য রূপান্তর ঘটেছে। বর্তমানে সকল কারখানার পরিদর্শন প্রতিবেদন পাবলিক  ডোমেইন অনলাইনে প্রকাশ করা হয়, যা কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা বিষয়ে বিশ্বে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত  স্থাপন করেছে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)