Bangladesh_Bankk

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঋণ বিতরণের নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষি ঋণ প্রদানে গঠিত বিশেষ তহবিলের (৩০০০ কোটি টাকা) ২০ শতাংশ সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৬ জুন) একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলায় ভারি বৃষ্টিপাত হয়। এতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ফসল, মৎস্য, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতের সঙ্গে জড়িত এলাকার কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের কৃষকদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে কৃষির উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে পূর্ব দেওয়া ঋণ আদায় ছাড়াই শস্য/ফসল, মৎস্য, পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ খাতে প্রকৃত চাহিদা ও বাস্তবতার নিরিখে দ্রুততার সঙ্গে নতুন ঋণ বিতরণ করতে হবে।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের জারি করা এসিডি সার্কুলার নং-২ এর মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে ৪ শতাংশ সুদহারে কৃষিঋণ বিতরণের জন্য গঠিত ৩ হাজার কোটি টাকার বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ২০০ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যে ব্যাংকের অব্যবহৃত স্থিতির ন্যূনতম ২০ শতাংশ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সিলেট, সুমানগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।

ওই সার্কুলার জারির তারিখ হতে পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত বর্ণিত জেলাসমূহের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে কৃষিঋণ আদায় স্থগিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক-এমএফআই লিংকেজের মাধ্যমে ঋণপ্রাপ্ত কৃষকদের কাছ থেকেও কৃষিঋণ আদায় একইভাবে ৬ মাস স্থগিত রাখতে হবে।

ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিলপূর্বক ঋণ পুনঃতফসিলিকরণ সুবিধা প্রদান করা যাবে। তবে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনায় বিনা ডাউন পেমেন্টেও ঋণ পুনঃতফসিল করা যাবে। এছাড়া পূর্ব দেওয়া ঋণের কিস্তি ওভারডিউ থাকলেও কৃষক/গ্রাহক পর্য়ায়ে নতুন ঋণ সুবিধা প্রদান করতে হবে।

নতুন করে কোনো সার্টিফিকেট মামলা না করে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে অনাদায়ী ঋণগুলো তামাদি হওয়া প্রতিবিধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দায়ের করা সার্টিফিকেট মামলাগুলোর তাগাদা আপাতত বন্ধ রেখে সোলেনামার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আর বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে বসতবাড়ির আঙিনায় হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, গো-খাদ্য উৎপাদন ও ক্রয় এবং অন্যান্য আয় উৎসারী কর্মকাণ্ডে ঋণ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা যাতে প্রকৃত চাহিদা মোতাবেক যথাসময়ে নতুন ঋণ সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন এবং ঋণ পেতে কোনো হয়রানির শিকার না হন সে বিষয়টি তদারকি করতে হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট জেলার লিড ব্যাংকের মাধ্যমে জেলা কৃষিঋণ কমিটির সভার মাধ্যমে ঋণ বিতরণ পরিস্থিতি তদারকি করতে হবে।

এ নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

বিনিয়োগবার্তা/এসএল//


Comment As:

Comment (0)