অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টি করলে দু কুলই হারাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কয়েকদিন ধরে দেখতে পাচ্ছি গার্মেন্ট শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। যদি আন্দোলন করে কারখানা ও কাজ বন্ধ করে দেয়, তাহলে চাকরিই চলে যাবে। আমরা ভালো সুবিধা পাচ্ছি, উৎপাদন বাড়ছে। শ্রমিকদের বেতন কখনো বন্ধ হয়নি। আজকে বেতন বাড়াও, এটা-সেটাসহ নানা ধরনের আন্দোলন করতে যায়। পোশাক রফতানি যদি বন্ধ হয়, তাহলে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। তখন আমও যাবে, ছালাও যাবে। বেতন আর বাড়বে না, তখন চাকরিই চলে যাবে।
ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবস উপলক্ষে গতকাল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেন।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন দেশে দ্রব্যমূল্য বেড়ে গিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রয়ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাচ্ছে। দিনে দিনে আরো খারাপ হচ্ছে। সেখানে মানুষ দুরবস্থায় আছে, কত মানুষ না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশে সবার খাদ্য, টিকা, ওষুধসহ সবকিছু দিয়ে যেতে পারছি।
শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বিশ্বমন্দায় উন্নত দেশগুলোকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ইউরোপ ও আমেরিকায় মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। ওইসব দেশেও দ্রব্যমূল্য বেড়েছে।
অনেক উন্নত দেশের খাদ্য সংকটের উদাহরণ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইংল্যান্ডের মানুষকে সীমিত আকারে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। ভোজ্যতেল এক লিটারের বেশি কেউ কিনতে পারবে না, এ নিষেধাজ্ঞা দেয়া আছে।
বাংলাদেশে ভর্তুকি দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, বাংলাদেশে এখনো সরকার সবার খাদ্য, ওষুধ, টিকা সবকিছুর সরবরাহ অব্যাহত রাখতে পেরেছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছি। রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন ডলারে তুলেছিলাম। সেই টাকা ভেঙে ভেঙে বিদ্যুৎ, গ্যাস, কৃষি ও স্বাস্থ্যের জন্য ভর্তুকি এবং সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এভাবে কোনো দেশ করেনি। বিনামূল্যে করোনা টিকা ও করোনা পরীক্ষা করার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেউ যদি গোলমাল করার চেষ্টা করে, আর দেশটা যদি একেবারে স্থবির হয়ে যায়, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে?
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার এবং খাদ্য অপচয় না করার অনুরোধ জানান। শেখ হাসিনা বলেন, সবাই সঞ্চয় করুন। কেননা সবকিছু তো আর সরকার করতে পারবে না। নিজেকেও করতে হবে। এটা আমি আমাদের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে বলব।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



