পদ্মা সেতু আমাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পদ্মা সেতু আমাদের আত্মবিশ্বাস তৈরি করেছে। টেকনোলজি সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান হয়েছে। ভবিষ্যতে আরো উন্নত কাজ করতে পারব। বাংলাদেশ যে নিজেরা পারে এ ধারণাটা সারা বিশ্বে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছে। গতকাল জাতীয় সংসদে ১৪৭ বিধির সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনাকালে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ ও উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দিতে এ প্রস্তাব তোলা হয়। পরে এটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
পদ্মা সেতুতে অর্থায়নের শর্তে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ দিতে বিশ্বব্যাংক ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক চাপ ছিল মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি মানসিক যন্ত্রণা আমার পরিবারের ওপর। এত চাপ! এই মামলা। যে সমস্ত খেলা। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি। এই যে অপমান! স্টেট ডিপার্টমেন্ট দু-দুবার আমার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে ডেকে নিয়ে থ্রেট করেছে যে তোমার মাকে বলো, এমডির পদ থেকে ইউনূসকে সরানো যাবে না। না হলে তোমার অডিট হবে।’
ড. ইউনূসের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ড. ইউনূস বেআইনিভাবে ৭১ বছর পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদে ছিল। তাকে কোনো অপমান করা হয়নি, বরং তাকে ব্যাংকের উপদেষ্টা ইমেরিটাস হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় গ্রামীণ ব্যাংককে আমরা ৪০০ কোটি টাকা দিয়েছিলাম। গ্রামীণফোনের লাভের টাকা ব্যাংকে যাওয়ার শর্ত ছিল, কিন্তু তার একটি টাকাও ব্যাংককে দেয়া হয়নি। বরং গ্রামীণ ব্যাংকের যত টাকা সব কিন্তু তিনি নিজে খেয়ে গেছেন। নাহলে একজন ব্যাংকের এমডি এত টাকার মালিক হয় কীভাবে? দেশে-বিদেশে এত বিনিয়োগ করে কীভাবে?
তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বলা হলো। আমি, আমার বোন রেহানা, আমার ছেলে কেউ বাদ যায়নি। ড. মসিউর রহমান, আমাদের সচিব মোশাররফ, মন্ত্রী আবুল হোসেন এদের ওপর যে জুলুম তারা করেছে এবং যখন অসত্য অপবাদ দিয়ে পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিল, তখন আমরা বললাম আমরা নিজের টাকায় করব। অনেকে বোধহয় ভেবেছিলেন এটা অস্বাভাবিক। কিন্তু আমি বলেছিলাম আমরা করতে পারব। এ আত্মবিশ্বাস আমার ছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে দোষ দিচ্ছি। কিন্তু ওয়ার্ল্ড ব্যাংককে দিয়ে তো এটা করানো হয়েছে। কোনো টাকা ছাড় হয়নি। দুর্নীতিটা হলো কোত্থেকে। আমি তো তাদের কাছে এভিডেন্স চেয়েছি কিন্তু তারা তো দিতে পারেনি। একটা কাগজও দিতে পারেনি। তাহলে তাদের এ অপবাদ আমরা নেব কেন?
তিনি বলেন, সততা আমার শক্তি। আমার শক্তি বাংলাদেশের জনগণ। এ জনগণকে অপমান করে কোনো কিছু করব? এটা নয়। এই একটা সিদ্ধান্ত। যখন আমরা সেতু করতে শুরু করলাম। সবার টনক নড়ল। সবাই সমীহ করতে শুরু করল। যে না বাংলাদেশ পারে। এ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। এগিয়ে যাবে।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



