জাতীয় সংসদ

সংসদে ১৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৫২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পূরক বাজেট সংসদে পাস হয়েছে। সোমবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০২২’ উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। সম্পূরক বিল পাস হওয়ার পর স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ১৪ জুন (আজ) পর্যন্ত সংসদের বৈঠক মুলতবি করেন।

সরকারের যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ তাদের মূল বরাদ্দ থেকে বেশি ব্যয় করেছে তার অনুমোদন দিতেই এ বাজেট পাস হয়। ৩০ জুন শেষ হতে যাওয়া অর্থবছরের কার্যক্রম নির্বাহের জন্য সংযুক্ত তহবিল থেকে মঞ্জুরীকৃত অর্থের বেশি বরাদ্দ ও নির্দিষ্টকরণের কর্তৃত্ব প্রদানের জন্য এ সম্পূরক বিল আনা হয়। সম্পূরক বাজেটের ওপর বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও গণফোরামের ১১ জন সংসদ সদস্য ২৩৮টি ছাঁটাই প্রস্তাব দেন। তবে সেগুলো কণ্ঠভোটে বাতিল হয়।

ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো দিয়েছেন গণফেরামের মোকাব্বির খান, জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, বিএনপির রুমিন ফারহানা, জাপার পীর ফজলুর রহমান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, জাপার রওশন আরা মান্নান, বিএনপির মোশাররফ হোসেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাবলু এবং জাপার মুজিবুল হক চুন্নু।

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগসংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ২৬টি মঞ্জুরি দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূরক বাজেটটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

বিদায়ী অর্থবছরের মূল বাজেটে ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনুকূলে ৬ লাখ ৩ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ১৭ হাজার ৫২৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বেড়েছে এবং ৩৫টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ২২ হাজার ৬১৪ কোটি ১৮ লাখ টাকা কমেছে।

সার্বিকভাবে ১০ হাজার ১৮১ কোটি টাকা হ্রাস পেয়ে সংশোধিত বরাদ্দ নিট দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সম্পূরক বাজেটে অর্থ বিভাগ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩০৭ কোটি ৫৬ লাখ ৬১ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাতে ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করায় এ অতিরিক্ত বরাদ্দ পাচ্ছে অর্থ বিভাগ।

আর সবচেয়ে কম ১ কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এ বিভাগের পাঁচটি চলমান ও ছয়টি নতুন প্রকল্পের অর্থের জন্য এ অতিরিক্ত বরাদ্দ দরকার। এর আগে সম্পূরক বাজেটের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন।

কভিড মহামারীর পর যুদ্ধের এ কঠিন বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে উন্নয়নের হারানো গতিতে ফেরার চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী, যা ৩০ জুন পাস হওয়ার কথা।

আসন্ন ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য বিদায়ী অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের (৫ লাখ ৯৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা) চেয়ে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি ব্যয়ের ফর্দ তৈরি করেছেন অর্থমন্ত্রী। টাকার ওই অঙ্ক বাংলাদেশের মোট জিডিপির ১৫ দশমিক ২৩ শতাংশের সমান। সংকটের মধ্যেও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছেন মুস্তফা কামাল। ভাবনা হয়ে দেখা দেয়া মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৬ শতাংশে বেঁধে রাখার আশাও করছেন তিনি।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)