Public counting12

শুরু হয়েছে জনশুমারি ও গৃহগণনা কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের প্রকৃত জনসংখ্যা জানতে শুরু হয়েছে ‘শুমারি ও গৃহগণনা ২০২২’। রাত ১২টাকে ‘জিরো আওয়ার’ বা ‘শুমারি রেফারেন্স পয়েন্ট/সময়’ হিসেবে ধরে এ শুমারি চলবে ২১ জুন পর্যন্ত। এবার দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটালি শুমারি পরিচালিত হচ্ছে। জনশুমারির এবারের প্রতিপাদ্য ‘জনশুমারিতে তথ্য দিন, পরিকল্পিত উন্নয়নে অংশ নিন’।

রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে শুমারির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম ও প্রকল্প পরিচালক দিলদার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরুর সময় ধরা হচ্ছে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পর থেকে। রাত্রিকালীন শুমারির ক্ষেত্রে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মতো যেসব এলাকায় ভাসমান মানুষের বসবাস বেশি, সেসব এলাকায় জোর দেয়া হবে। এছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে জনশুমারি কার্যক্রম।

এতে আরো বলা হয়ে, করোনার কারণে পরপর দুই দফা পিছিয়ে প্রায় এক বছর পর শুরু হচ্ছে জনশুমারির কাজ। এবারের ডিজিটাল পদ্ধতির শুমারিতে প্রায় চার লাখ ট্যাব ব্যবহার করা হবে। দেশজুড়ে জনশুমারির এ কাজ করবেন ৪ লাখ ৩৪ হাজার কর্মী।

প্রতি ১০ বছর পরপর জনশুমারি বা আদমশুমারি অনুষ্ঠিত হয়। এর আগের পাঁচটি শুমারি প্রচলিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়েছে। এতে তথ্য পেতে অনেক দেরি হয়েছে। এবারের ষষ্ঠ শুমারি ডিজিটাল পদ্ধতিতে হওয়ায় তিন মাসের মধ্যেই শুমারির প্রাথমিক ফল বা তথ্য পাওয়া যাবে।

শুমারিতে ব্যক্তির ৪৫ ধরনের তথ্য নেয়া হবে। অবশ্য তা গোপন রাখা হবে। বিবিএস ছাড়া অন্য কোনো সংস্থার এ তথ্যে প্রবেশাধিকার থাকবে না। তথ্য যাতে হ্যাকড না হয়, সেজন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া তথ্য কোনো কারণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে দুটি ভিন্ন স্থানে ব্যাকআপ রাখা হবে। তাছাড়া শুমারিকালীন ট্যাবসংশ্লিষ্ট কারিগরি জটিলতা এড়াতে বাড়তি ট্যাবের সংস্থান রাখা হয়েছে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শামসুল আলম বলেন, যেকোনো পরিকল্পনা গ্রহণ ও যেকোনো অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের জন্য জনসংখ্যার মূল হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রত্যেকটি ব্যক্তিকে এতে আনা হবে। সবার উচিত এতে অংশ নেয়া। জনসংখ্যার প্রকৃত হিসাব জানলে সরকার সব স্তরের মানুষের জন্য সহজেই প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিতে পারবে।

অতীতে অনেকে শুমারিতে বাদ পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এবারো তেমন হবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে শুমারির পরিচালক দিলদার হোসেন বলেন, কেউ যদি এবারের শুমারি থেকে বাদও পড়েন, তিনি নিজে থেকেও যুক্ত হতে পারবেন। শুমারির একটি কল সেন্টার রয়েছে। ২১ জুনের পর যে কেউ কল সেন্টারে কল করে নিজের তথ্য দিতে পারবেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক তাজুল ইসলাম বলেন, সবার উচিত শুমারিতে অংশ নেয়া। অনেক সময় প্রবাসীদেরও এ তথ্য কাজে আসে। এদেশের কোনো নাগরিকের অন্য কোনো দেশে অবস্থান বা নাগরিকত্বের ক্ষেত্রেও এদেশে শুমারিতে নাম আছে কিনা, তা আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এবারের শুমারিতে দেশের বাইরে প্রবাসে কতজন রয়েছেন, তাদের মোট পাঠানো আয় কত; সব উঠে আসবে। জনশুমারিতে এসডিজি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়টি সূচকের প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)