মেগা প্রকল্প বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলবে না: প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক: বিদেশের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত নয়, বরং ত্বরান্বিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজন মোতাবেক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন থাকায় প্রকল্পসংক্রান্ত আমদানি ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভারসাম্যে কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
মেগা প্রকল্প অনুমোদনের আগে যথাযথভাবে আর্থিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ করা হয়েছে উল্লেখ করে সংসদ নেতা বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের বিরূপ প্রভাবের সম্ভাবনা নেই, যে কারণে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
অধিকাংশ বৈদেশিক ঋণের প্রকৃতি নমনীয় উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ঋণের সুদের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম এবং ঋণ পরিশোধের মেয়াদ ও গ্রেস প্রিরিয়ডও অনেক। ঋণের অর্থ অবমুক্তির ক্ষেত্রে বড় কোনো জটিলতা পরিলক্ষিত হয়নি।
ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত পদ্মা সেতুসহ চলমান ১৬টি মেগা প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। এর মধ্যে তিনি ১৪টির প্রকল্প ব্যয়ের তথ্যও উপস্থাপন করেন। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৮০ কোটি টাকা। একেএম রহমতুল্লাহের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতিমারী ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার অবনতি ঘটে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি দেখা দেয় এবং নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পায়। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশে দ্রব্যসামগ্রীর উৎপাদন বৃদ্ধি ও সরবরাহ অব্যাহত রাখা সম্ভব হচ্ছে। দুঃখের বিষয় হলো, দেশের অভ্যন্তরে কিছু অসাধু ব্যক্তি এ সুযোগ নিয়ে নিত্যপণ্যের অবৈধ মজুদ ও মূল্যবৃদ্ধির প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
সেই অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষের অসুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অবৈধ মজুদ, বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাণিজ্যমন্ত্রীকে উপদেষ্টা করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে সভাপতি করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা ও গোয়েন্দা প্রতিনিধি এবং এফবিসিসিআইসহ ১৭ সদস্যের এই টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, অবৈধ মজুদ ও বাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পদক্ষেপের পর কেউ অবৈধভাবে কোনো পণ্য মজুদ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
জাতীয় পার্টির রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স ৩৬ দশমিক ১০ শতাংশ বেশি এসেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে ১৭ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্জিত হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ কম।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



