Under Trum

সেপ্টেম্বরের মধ্যে শুরু হচ্ছে পাতালরেলের নির্মাণকাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: পাতাল মেট্রোরেলের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ঢাকার বিমানবন্দর-বাড্ডা-কমলাপুর রুটে সড়কের নিচ দিয়ে চলবে দ্রুতগতির এ ট্রেন। আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ মেট্রো লাইন নির্মাণে মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। গতকাল এক সেমিনার-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সংস্থা ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক।

ঢাকায় সব মিলিয়ে ছয়টি মেট্রোরেল লাইন নির্মাণ করবে ডিএমটিসিএল। এর মধ্যে উত্তরা-মতিঝিল-কমলাপুরের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এমআরটি লাইন-৬। দেশের প্রথম পাতাল মেট্রোরেল হচ্ছে ঢাকার বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত। পাতাল অংশের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭ কিলোমিটার। এ অংশে থাকবে ১২টি পাতাল স্টেশন। পাতাল অংশ ছাড়াও নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত তৈরি করা হবে আরো ১১ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার উড়াল মেট্রো। বিমানবন্দর-কমলাপুর ও নতুনবাজার-পূর্বাচলের মধ্যে নির্মিত মেট্রোরেলটি চিহ্নিত করা হয়েছে এমআরটি-১ নামে। লাইনটি তৈরি করতে খরচ হবে ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। ২০২৬ সালে কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন ছিদ্দিক বলেন, পাতাল মেট্রোরেলের ডিপোর মূল নির্মাণকাজ শুরুর জন্য জাইকার অনুমতি চাওয়া হয়েছে। তাদের অনুমতি পাওয়া গেলে কাজ শুরু হবে। সেটা আগামী অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) মধ্যে হতে পারে। তারপর প্রধানমন্ত্রী এ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। তার মধ্য দিয়ে মাঠপর্যায়ে পাতালরেলের মূল কাজ শুরু হবে। পুরো প্রকল্প ১২টি প্যাকেজে শেষ হবে। প্রথম প্যাকেজে ডিপোর ভূমি উন্নয়ন ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।

এমআরটি লাইন-১-এর কাছে লাইসেন্স হস্তান্তর এবং এমআরটি লাইন-৬-এর অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক সেমিনারে ঢাকায় নির্মাণাধীন ও পরিকল্পনাধীন মেট্রো লাইনগুলোর কাজের বাস্তব অগ্রগতি তুলে ধরেন ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি বলেন, ঢাকা মহানগরীতে যানজট এবং এর প্রভাবে বার্ষিক প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা বর্তমান রেটে প্রায় ৩৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। এক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এমআরটি লাইন-৬ চালু হওয়ার পর মেট্রোরেল পরিচালনাকালে দৈনিক ভ্রমণ খরচ বাবদ প্রায় ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা এবং যানবাহন পরিচালনা খরচ বাবদ প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে। এ সাশ্রয়কৃত অর্থ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে, জিডিপি বাড়বে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, যে কোনো উন্নয়ন অবকাঠামো করতে গেলে আমরা যারা অংশীজন আছি, তাদের সঙ্গে আগে মতবিনিময় করতে হবে। দরকার হলে পরিকল্পনা করার আগেই মতবিনিময় করতে হবে। তাহলে অনেক সমস্যারই সমাধান করতে পারতাম। এখন করা যাবে না বিষয়টি এমন নয়, তবে সংকট তৈরি হবে। যেকোনো সংস্থা যখন প্রকল্পের কাজ হাতে তার আগেই যেন আমাদের সঙ্গে সমন্বয় করে নেয়।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। আগামী ১০০ বছরের জন্য মেট্রোরেল গড়ে তোলা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সুফল পেতে হলে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর সমন্বয়ের বিকল্প নেই। মেট্রোরেল চালু হলে এর নিচের রাস্তা, ড্রেন, শাখা রোড, রাস্তার লাইট, পরিবেশ এগুলো সবই কিন্তু সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হবে। ফুটপাত যথেষ্ট প্রশস্ত হতে হবে। তা না হলে সেখানে যাত্রীরা ব্যাগ বা জিনিসপত্র নিয়ে স্বচ্ছন্দে চলাচল করতে পারবেন না।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রওশন আরা মান্নান এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)