বাফেটের সঙ্গে এক বেলা খেতে লাগবে ১৭৭ কোটি টাকা
বিনিয়োগবার্তা ডেস্ক: বিশ্বের নামজাদা ধনকুবের ওয়ারেন বাফেট। সম্প্রতি তার সঙ্গে দুপুরের খাবার খাওয়ার নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। যিনি নিলাম জিতেছেন তাকে বাফেটের সঙ্গে এক টেবিলে এক বেলা খাবার খেতে খরচ করতে হবে ১ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১৭৭ কোটি টাকা।
শুক্রবার (১৭ জুন) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-বে বাফেটের সঙ্গে মধ্যহ্নভোজের নিলামের আয়োজন করে। সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক দাতব্য সংস্থা গ্লাইড ফাউন্ডেশনকে সহায়তা করতে প্রতিবছর এ নিলামের আয়োজন করা হয়। এবারের নিলাম যিনি সর্বোচ্চ দর হাঁকিয়ে এ সুযোগ জিতেছেন, এখন পর্যন্ত তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
করোনা মহামারির বিগত দুই বছর বাদ দিয়ে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর বাফেটের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের এ বার্ষিক নিলাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ধরনের ২১টি নিলাম হয়েছে। এসব নিলাম থেকে পাওয়া ৫ কোটি ৩২ লাখ ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯৫ কোটি টাকা) সবই দেয়া হয়েছে দাতব্য সংস্থা গ্লাইড ফাউন্ডেশনকে।
২১টি নিলামের মধ্যে এ বছরই সর্বোচ্চ দাম উঠেছে। এর আগে ২০১৯ সালে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের উদ্যোক্তা জাস্টিন সান সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ডলারে এ নিলাম জিতেছিলেন।
নিলামের ব্যাপারে ই-বের একজন মুখপাত্র জানান, এ বছর দাতব্য প্রতিষ্ঠান গ্লাইড ফাউন্ডেশনকে সহায়তার জন্য তাদের ওয়েবসাইটে যত সেবা বা পণ্য নিলামে তোলা হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে দামি হলো বাফেটের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের নিলাম।
প্রতিবছরের মতো এবারও যিনি নিলাম জিতেছেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের স্মিথ অ্যান্ড উলেনস্কি রেস্তোরাঁয় বাফেটের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের সুযোগ পাবেন। নিলাম বিজয়ী নিজেকে ছাড়া দুপুরের ভোজে আরও সাতজন অতিথি নিয়ে যেতে পারবেন। এটা কেবল দুপুরের খাবারের আয়োজন নয়, এখানে বাফেটের সঙ্গে প্রায় সব বিষয়েই আলোচনা করতে পারবেন নিলাম বিজয়ী। তবে বাফেট নতুন কোথায় বিনিয়োগ করতে যাচ্ছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাতে বাধ্য নন তিনি।
নিলাম প্রসঙ্গে বাফেট বলেন, এই নিলাম ও মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে আমি সারা বিশ্বের অনেক আকর্ষণীয় লোকের সঙ্গে দেখা করতে পেরেছি। এটা অত্যন্ত আনন্দের। আর আমার সঙ্গে দেখা করা ব্যক্তিরাও মনে করেন যে তাদের টাকা খুব ভালো খাতে ব্যবহার হচ্ছে।
গ্লাইড ফাউন্ডেশন দরিদ্র ও গৃহহীন মানুষ ছাড়াও মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনে সাহায্য করে। সংস্থাটি দুস্থ মানুষকে খাবার প্রদান ও থাকার জায়গা দেয়ার পাশাপাশি এইচআইভি ও হেপাটাইটিস সি-র পরীক্ষাও করায়। পাশাপাশি চাকরির প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেয় প্রতিষ্ঠানটি।
বাফেটের প্রথম স্ত্রী সুসান ছিলেন গ্লাইড ফাউন্ডেশনের একজন স্বেচ্ছাসেবক। তিনিই প্রথম বাফেটকে এই ফাউন্ডেশনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তারপর থেকে বাফেট গ্লাইড ফাউন্ডেশনকে অর্থায়নের জন্য নিলামের আয়োজন করে আসছেন। সুসান বাফেট ২০০৪ সালে মারা যান।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেট। তার সম্পদের মোট মূল্য এখন ৯ হাজার ৩৪০ কোটি ডলার। বর্তমানে বাফেটের বয়স ৯১ বছর।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//



