বহুল প্রতীক্ষিত ড্যাপ প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন, শিগগিরই গেজেট
নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানী ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে ২০ বছর (২০১৬-২০৩৫ সাল) মেয়াদি ডিটেইল এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) সার-সংক্ষেপ অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ বিষয়ে ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলাম ড্যাপ অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন দিলেও এখনো এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিগগিরই গেজেট প্রকাশ করা হবে।’
গত ২৩ জুন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী প্রধান মো. বরকাতুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত রূপরেখা বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) (২০১৬ -২০৩৫) সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে।’
এমতাবস্থায়, ‘বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা বা ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) (২০১৬ - ২০৩৫) গেজেট আকারে প্রকাশের নিমিত্তে গেজেটের খসড়া অতিসত্বর এ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
এর আগে, রাজধানীর ভূমি ব্যবহারে ২০ বছর মেয়াদি ড্যাপ প্রণয়ন করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এরই মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করা হয়। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর প্রকল্পটি মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়।
ড্যাপের প্রকল্প পরিচালক মো. আশরাফুল ইসলামের রুমের সামনে টাঙানো এক নির্দেশিকায় বলা হয়- ‘বর্তমানে ড্যাপে শ্রেণির পরিবর্তনের আবেদন বিবেচনা করার সুযোগ নেই। মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে ড্যাপ রিভিউয়ের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে সেই বিষয়ে সবাইকে অবহিত করা হবে।’
জানা গেছে, প্রস্তাবিত ড্যাপে রাজউকের আওতায় মোট এক হাজার ৫৮২ বর্গকিলোমিটার এলাকাকে ৪৬৮টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে থাকবে ১৯৮ কিলোমিটার জলাধার। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী সেগুলো উদ্ধার করে সচলের সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকার চারপাশের ৫৬৬ কিলোমিটার নদীপথ সচল, এক হাজার ২৩৩ কিলোমিটার সড়ককে হাঁটার উপযোগী করে তোলা, শহরের বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে স্কুলভিত্তিক উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর বাইরে ঢাকায় সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সড়ক, জল ও রেলপথকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত যোগাযোগ মাধ্যম গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত ড্যাপে আবাসিক ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতা মিরপুরে ৪ থেকে ৭ তলা, মোহাম্মদপুর ও লালমাটিয়ায় ৫ থেকে ৮ তলা, খিলখেত, কুড়িল, নিকুঞ্জ এলাকায় ৬ তলা, উত্তরায় ৭ থেকে ৮ তলা, গুলশান, বনানী ও বারিধারায় ৬ থেকে ৮ তলার মধ্যে রাখার সুপারিশ করা হয়। কিন্তু এ সুপারিশের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত ড্যাপ আবাসন শিল্প ধ্বংসের অশনি সংকেত। এটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটের দাম ৫০ শতাংশ বাড়বে। ফলে ফ্ল্যাট ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে। এতে আবাসন শিল্প ক্রেতাশূন্য হয়ে যাবে।
আবাসন ব্যবসায়ীদের আবেদনের ভিত্তিতে রাজউক বলেছে, এলাকার ওপর ভিত্তি করে নয় বরং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকা শহরের অতি নিম্ন অবস্থানের অন্যতম কারণ অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও ঘনবসতি। তাই ঢাকার বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে নাগরিক সুবিধা ও পরিসেবার বিপরীতে ভবনের উচ্চতা নির্ধারণ করার সুপারিশ করা হয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব আয়োজিত ‘ভবন নির্মাণে রাজউকের পাশাপাশি সিটি করপোরেশন থেকে অনুমোদন গ্রহণের বিধানের প্রতিবাদ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে রিহ্যাব সভাপতি শামসুল আলামিন বলেন, ‘ড্যাপের বিষয়টি চূড়ান্ত হোক সেটা আমরাও চাই। শুরুতে অনেক কিছু ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে। পরিবর্ধন বা পরিবর্তনের মাধ্যমে ড্যাপ চূড়ান্ত হবে বলে মনে করি। ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি, উনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন- দ্রুত সময়ের মধ্যে সমাধান করার।’
রাজউক সূত্রে জানা যায়, ঢাকাকে বসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রথমে (১৯৯৫-২০১৫) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) নেওয়া হয়েছিল। ২০১০ সালের জুনে ড্যাপ গেজেট আকারে প্রকাশ হলেও তাতে নানা অসঙ্গতি দেখা দেয়। পরে ড্যাপ পর্যালোচনার জন্য সাত মন্ত্রীকে নিয়ে একটি ‘মন্ত্রিসভা কমিটি’ গঠন করে সরকার। এ কমিটিকে ড্যাপ রিভিউ কমিটি বলা হয়। পরে আবারও ড্যাপ সংশোধনের সিদ্ধান্ত হয়। ফলে বাস্তব রূপ পায়নি ওই পরিকল্পনা।
বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//



