গরু নিয়ে হাটে মাস্টার্স পাস সালমা
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের বিবিরহাট গরুর বাজার। হাটে ঢুকতেই দেখা মেলে এক নারীর। প্রথম দেখাতে মনে হতে পারে- গরু কিনতে এসেছেন তিনি। কিন্তু আরেকটু ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই পাল্টে যাবে ধারণা। গরু কিনতে নয়, বরং বেচতেই চট্টগ্রামে এসেছেন তিনি।
নাম তার সালমা খাতুন। বাড়ি সুদূর চাঁপাইনবাবগঞ্জ। করেছেন মাস্টার্স পাস। উচ্চশিক্ষিত এ নারী চাকরিতে যোগ দিলেও স্থায়ী হয়নি। এরপরই দেখতে শুরু করেন উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন। উদ্যোক্তা হওয়াও খুব বেশি সহজ ছিল না সালমার। তবু ছেড়ে দেননি হাল।
আর সেই হাল না ছাড়ার গল্পই ডেইলি বাংলাদেশকে জানিয়েছেন সালমা। জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কলেজ থেকে দর্শনে স্নাতক শেষে ভর্তি হন রাজশাহী কলেজে। সেখান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর ২০১৬ সালে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন। চাকরিজীবন ভালোই চলছিল সালমার। কিন্তু এর মধ্যেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় মহামারি করোনা। সে সময় চাকরিটি তাকে ছেড়ে দিতে হয়।
চাকরি ছাড়লেও ঘরে বসে থাকেননি সালমা। শুরু করেন নতুন করে, নতুন রূপে পথচলা। আর সেই পথচলায় আজ অনেকদূর এগিয়ে গিয়েছেন সালমা।
সালমা বলেন, ঘরে বেকার বসে থাকার মানুষ আমি নই। আমি সবসময় নতুন নতুন পরিকল্পনা করতাম। বসে বসে ভাবতাম কী করা যায়। এভাবে একদিন গরুর খামারের বিষয়টি মাথায় আসে। এরপর নিজের জমানো টাকা দিয়ে একটি গাভি কিনি। শুরুর দিকে সেই গাভির দুধ বিক্রি করতাম। গাভি বাছুর দিতে থাকলে ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে আমার খামার। দুধ বিক্রির পাশাপাশি গরুও বিক্রি করতাম। কিছু টাকা আয় হলে সেটি দিয়ে আরো গরু কিনতাম। এভাবে আমার খামার বড় হতে থাকে।
সালমার খামারের বয়স দুই বছর। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ২০টি গরু। এবারই প্রথম গরু বিক্রির জন্য চট্টগ্রামে এসেছেন তিনি। সঙ্গে এনেছেন ১০টি গরু।
দীর্ঘ দূরত্ব পেরিয়ে চট্টগ্রামে আসার কারণ জানতে চাইলে সালমা বলেন, আমাদের এলাকার অনেকেই গরু নিয়ে চট্টগ্রামে আসেন। এখানে নাকি বেশ ভালো দরে গরু বিক্রি হয়। তাই কিছুটা কষ্ট হলেও গরুগুলো নিয়ে চলে এসেছি।
খামার ছেড়ে অন্যকিছু করার ভাবনা কখনো মাথায় আসে কী না- এমন প্রসঙ্গে সালমা বলেন, সত্য বলতে দুই বছরে গরুর প্রতি ভীষণ মায়া জন্মে গিয়েছে আমার। মাঝে মধ্যে খামার ছেড়ে অন্যকিছু করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু অবলা পশুগুলোর প্রতি জন্মানো মায়া-ভালোবাসার কারণে তা পারি না। তারাও আমাকে ভালোবাসে।
সালমার বিষয়ে বিবিরহাট গরুর বাজারের ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, সালমা খাতুনই বিবিরহাটের প্রথম নারী পশু বিক্রেতা। এর আগে কোনো নারী এখানে আসেননি। এমনকি চট্টগ্রামের অন্য কোনো হাটেও এসেছেন বলে আমাদের জানা নেই।
তিনি বলেন, একজন উচ্চশিক্ষিত নারীর এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার। শিক্ষিতরা এগিয়ে এলে এ খাত আরো অনেকদূর এগিয়ে যাবে। ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
বিনিয়োগবার্তা/এসএল//



