করোনায় কমেছে ইইউর কাঠবাদাম উৎপাদন

ঢাকা সফরে আসছে ইইউর প্রতিনিধি দল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে একটি প্রতিনিধি দল রোববার ঢাকা সফরে আসছে। দলটি সফরে ইইউতে জিএসপি প্লাস সুবিধা পেতে বাংলাদেশের প্রস্তুতির বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে। পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও উন্নয়ন বিষয়ে ধারণা নিতে প্রতিনিধি দলটির এ সফর।

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট কমিটি সূত্র অনুযায়ী, সফরকালে প্রতিনিধি দলটি ইইউ প্রদত্ত ইবিএ (এভরিথিং বাট আর্মস) স্কিমের আওতায় বাণিজ্য সুবিধাভোগী বাংলাদেশের অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে আলোচনা করবে। এছাড়া প্রতিনিধি দলে ইইউ পার্লামেন্ট সদস্যরা বাংলাদেশ কীভাবে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা জিএসপির পরবর্তী ধাপে উন্নয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে তাও দেখবেন। উল্লেখ্য, জিএসপি সুবিধাভোগী দেশের শ্রম, সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক বেশকিছু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে হয়।

গতকাল ইইউর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক পার্লামেন্ট কমিটির প্রতিনিধি দলের ঢাকা সফর সম্পর্কে কথা বলেছেন বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। গতকাল সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এবং ফ্রেডরিক-এবার্ট-স্টিফটুং বাংলাদেশ যৌথভাবে ‘মিট দ্য অ্যাম্বাসেডর’ শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে পার্লামেন্ট সদস্যদের সফর সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি বলেন, আগামীকাল (আজ) ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল আসছে। তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির সদস্য। দলটি বাংলাদেশের সরকার, সুশীল সমাজ, ট্রেড ইউনিয়ন, আইএলও এবং জাতিসংঘ অংশীদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্কবিষয়ক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা করবে। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রতিনিধি দলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটির ছয় সদস্য রয়েছেন। তারা সবাই ভিন্ন দলের, কেউ গ্রিন দলের, একজন নারী আছেন নেদারল্যান্ডসের, তিনি ট্রেড ইউনিয়নের বিষয়ে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। তারা ট্রেড কমিটির, ফলে জিএসপির নিয়মের বিষয়ে তারা বেশ সম্পৃক্ত।

নতুন নিয়মের জিএসপি ২০২৪ সালে কার্যকর হবে উল্লেখ করে চার্লস হোয়াইটলি বলেন, ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে সামগ্রিক বাণিজ্য সম্পর্কের বিষয়গুলো দেখবে। এছাড়া জিএসপি প্লাস এবং শ্রমমানের বিষয়গুলোও আছে। বাংলাদেশ কীভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, সেটাও তাদের দেখার প্রয়োজন রয়েছে, যা নিশ্চিত করতে কারখানা পরিদর্শনও করবেন তারা। এর মধ্যে একটি ওষুধের কারখানা, আরেকটি সুতার কারখানা। এ কারখানাটি বেশ আকর্ষণীয়, কারণ তারা বর্জ্য থেকে সুতা উৎপাদন করছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইউরোপের জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশ সম্পর্কে ধারণাগুলো অনেক পুরনো। বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের ধারণাগুলো ২০-৩০ বছরের পুরনো। অর্থনীতি কীভাবে পরিবর্তন হচ্ছে, প্রবৃদ্ধি হচ্ছে—এ বিষয়গুলো তারা দেখেনি। তাই আমি মনে করি তারা শুধু শ্রম ইস্যু না, বরং বৃহৎ পরিসরে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নয়নগুলো বুঝতে চায় এবং তার প্রয়োজনও রয়েছে।

বিনিয়োগবার্তা/ডিএফই//


Comment As:

Comment (0)